প্রবাসীদের কাছে বিমানের টিকিট সোনার হরিণ

প্রবাসী

দুর্ভোগ কাটছেই না সৌদি প্রবাসীদের। বিমান বাংলাদেশ ও সৌদি এয়ারলাইন্স যে টিকিট ইস্যু করছে তা চাহিদার চেয়ে কম। কর্মস্থলে ফিরতে উন্মুখ হয়ে থাকা প্রবাসীদের তুলনায় অপ্রতুল।

ফলে তাদের ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। এ কারণে তারা হতাশ এবং ক্ষুব্ধ। টিকিট বা টোকেন পাবেন এমন আশায় প্রতিদিনই বিমান বা সৌদি এয়ারলাইন্সের সামনে জড়ো হচ্ছেন প্রবাসী নারী-পুরুষ। মঙ্গলবারও এ ধারা অব্যাহত ছিল। নিয়ম মেনে এদিনও দুই এয়ারলাইন্স থেকে কিছু টিকিট সরবরাহ করা হয়েছে। যারা টিকিট পাননি এদিনও তারা ক্ষোভ, হতাশা, দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

তারা বলছেন, বিমানের টিকিট এখন আসলেই সোনার হরিণ হয়ে গেছে। টিকিট প্রত্যাশীদের বিক্ষোভ ঠেকাতে দুই অফিসের সামনেই পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। তবে এদিন বিক্ষোভ হয়নি । মঙ্গলবার সকালে কারওয়ান বাজারে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সৌদি এয়ারলাইন্সের অফিসের সামনে টিকেটপ্রত্যাশীরা জমায়েত হয়েছেন। এদের অনেকেই এসেছেন ভোরে, অপেক্ষা তখন থেকেই। সৌদি এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৪ অক্টোবর যাদের টোকেন দেয়া হয়েছে মঙ্গলবার তেমন ৩০০ যাত্রীকে টিকিট দিয়েছে।

সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সৌদিগামীদের টিকিট দেয়া শুরু করে এয়ারলাইন্সটি। রোববার প্রবাসীরা এখানে ব্যাপক ভিড় ও বিক্ষোভ করলে পুলিশ তাদের ওপর মৃদু লাঠিচার্জ করে। মঙ্গলবার সৌদি এয়ারলাইন্সের অফিসে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে বেশ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে।

সৌদি এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে এদিন আবারও জানানো হয়, নতুন টোকেনপ্রত্যাশীদের জন্য আলাদা ফরম দেয়া হয়েছে, যেখানে নাম, ভিসার মেয়াদ এবং মোবাইল নম্বর দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। মোবাইল নম্বর অনুযায়ী টোকেনের জন্য এসএমএস পাঠানো হবে।

যাদের টোকেন দেয়া হয়েছে তাদের বাইরেও মঙ্গলবার প্রচুর প্রবাসী সৌদি এয়ারলাইন্সের সামনে জমায়েত হন। তারা নিয়ম অনুযায়ী ফরম পূরণ করলেও পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। প্রবাসী মহসীন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ভিসার মেয়াদ আছে অক্টোবর পর্যন্ত। ফরম পূরণ করেছি। উনারা (সৌদি এয়ারলাইন্স) বলছেন, এসএমএসের মাধ্যমে জানাবেন।

কিন্তু কবে জানাবেন, কোন প্রক্রিয়ায় জানাবেন সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।

তাহলে তো ঘুরেফিরে আমরা সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেলাম। আরেক প্রবাসী আজমল হোসেন বলেন, নানা মাধ্যমে আমরা খবর পাচ্ছি টিকিট সিন্ডিকেট হচ্ছে। আমাদের বুকের ওপর দাঁড়িয়ে কারা এসব অপকর্ম করছে আমরা জানতে চাই। আমরা এখানে দিনের পর দিন টিকিটের জন্য হাহাকার করব আর কিছু মানুষ অন্যায় করে সুবিধা নেবে এটা হতে পারে না। টিকিটকে যারা সোনার হরিণ বানিয়েছেন তাদের মুখগুলোও আমরা দেখতে চাই।

এদিকে মতিঝিলে বিমান অফিসের সামনেও টিকিট এবং টোকেন সংগ্রহের জন্য সৌদিগামীরা সকাল থেকেই ভিড় করেন। অনেকে মধ্যরাত থেকেই অফিসের সামনে অবস্থান নেন। এদিন সকাল ১০টা থেকে টিকিট দেয়া শুরু হয়। ভিসার মেয়াদ খুব বেশিদিন নেই তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিট দেয়া হয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.