পর্যটন শিল্পে ধস

কুয়াকাটা পর্যটন শিল্পে ধস

বহুল সংক্রমণ করোনার বিস্তারে দেশের বিভিন্ন খাতের ওপর সমূহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলনসৌধে অনাবশ্যক ঝড়ে তছনছ হয়ে যায় জীবনযাত্রার নানাবিধ উপকরণ, সচল অর্থনীতির চাকাও হোঁচট খাওয়ার দুর্দশা সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ফেলে দেয়। ধনধান্যে পুষ্পে ভরা শ্যামল বাংলার অকৃত্রিম প্রাকৃতিক সম্ভার বিশ্বের বৃহৎ এই বদ্বীপটির এক অবিস্মরণীয় সম্পদ। নদীবিধৌত ও সমুদ্র পরিবেষ্টিত আবহমান বাংলা যেমন আপন ঐশ্বর্যের অনবদ্য যোগসাজশে তার কোলের সন্তানদের ছায়ায়-মায়ায় পরিপূর্ণ করে রেখেছে, পাশাপাশি ভিনদেশী মানুষদেরও আকর্ষণ করার প্রাসঙ্গিক সব আয়োজন সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখতে যুগান্তকারী ভূমিকাও রাখছে। সঙ্গত কারণে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই পলিমাটির বাংলায় ভিনদেশী পরিব্রাজক, রাজা-বাদশা থেকে শুরু করে ইউরোপীয় সভ্যতার ধারক-বাহকরাও এদেশ তাদের নিয়ন্ত্রণে এনে বছরের পর বছর শাসনও করে গেছে। সুতরাং পর্যটন শিল্পের এক অভাবনীয় অর্থকরী অভিযোজন বরাবরই এদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির এক অনবদ্য মাইলফলক। পর্যটন শিল্পের কারণে ঐতিহাসিক, ঐতিহ্যিক ও দর্শনীয় স্থানগুলোর আশপাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন হোটেল-রেস্তরাঁও তাদের ব্যবসায়িক পশরা সাজিয়ে ভ্রমণকারীদের আনন্দযোগের আয়োজন করে যাচ্ছে বহুদিন ধরে। করোনার লাগামহীন সংক্রমণ স্থবিরতার জাল বিস্তার করেছে এই পর্যটন শিল্পের অবারিত কর্মযোগেও। মানুষের সঙ্গে মানুষের ফারাক তৈরি করে সামাজিক দূরত্ব মেনে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে আমলে নিয়ে ভ্রমণের ওপরও যে নিষেধাজ্ঞা বর্তায় সেখানে পর্যটনের খাতটি সমূহ লোকসান গুনতে গুনতে এখন ক্লান্ত, বিপন্ন। সুতরাং হোটেল-রেস্তরাঁর স্বত্বাধিকারী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবার করোনার কবল থেকে তাদের ব্যবসায়িক কর্মযোগকে মুক্ত করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে সভা-সমিতি করে যাচ্ছেন। স্থবিরতার আবর্তে পর্যটন কেন্দ্রগুলোকেও অবাধ ও মুক্ত করতে সংশ্লিষ্টরা সরকারী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

করোনায় পর্যটনে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার লোকসান গোনার চিত্র ইতোমধ্যে উঠেও এসেছে। করোনাভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে বিশ্বব্যাপী ভ্রমণের ওপর যে বিধিনিষেধ জারি করা হয় তেমন বদ্ধ দুয়ার এখন অবধি অবারিত হয়নি। শুধু বাংলাদেশেই নয়, করোনা আক্রান্ত প্রায় সব দেশেই ভ্রমণের ওপর যে প্রাচীর খাড়া করা হয় তাও এই পর্যটন খাতকে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখোমুখি করে। ইতোমধ্যে করোনার টিকা আবিষ্কার বৈজ্ঞানিক গবেষণার অভাবনীয় উদ্যোগ। বিভিন্ন দেশ নানা সুযোগ-সুবিধায় এই টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় এলেও এখন পর্যন্ত খুব কমসংখ্যক মানুষই টিকা নিতে পেরেছেন। নতুন আবিষ্কৃত ভ্যাকসিনের সঙ্কটে সব জায়গায় পৌঁছানোও সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও দর্শনীয় স্থাপনাগুলো খুলে দিয়ে ভ্রমণের ওপর বিধিনিষেধের শিথিলতা আসতেও সময় লাগছে না।

প্রথম ঢেউ সামলানোর পর পর্যটন খাত কিছুটা অবারিত হলে সংশ্লিষ্টরা তাদের সমূহ ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা শুরু করে। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে মারাত্মক দ্বিতীয় ঢেউ নতুন করে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে দিলে আবারও পর্যটন শিল্প বিপন্নতার শিকারও হচ্ছে। এমন বেহাল দশা থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে সামাজিক দূরত্ব মেনে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি পালন, মাস্ক পরারও অত্যধিক গুরুত্ব দিয়ে এই লাভজনক খাতটিকে উন্মুক্ত করতে পরামর্শ আসে সংশ্লিষ্ট সংগঠন টোয়াব থেকে। তা না হলে লোকসানের আবর্তে পড়া এই খাতটির আরও বড় রকমের দাম দেয়ার আশঙ্কাও সংশ্লিষ্টদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিচ্ছে। সঙ্গত কারণে সরকারের এই বিশেষ শিল্পটিকে তার যথাযথ অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে নতুন উদ্যোগ ও কর্মসূচী একান্ত জরুরী। পর্যটন শিল্পের কর্তৃপক্ষ এবং উর্ধতন কর্মকর্তারাও তেমনটাই চান।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.