দেশে ৭৮ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে

 

প্রতীকী ছবি।

২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় যে পাঁচটি দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি অভ্যন্তরীণভাবে ঘরবাড়িছাড়া বা বাস্তুচ্যুত হয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ। ওই বছর মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৭৮ হাজারের বেশি মানুষ। তাদের বেশির ভাগ শহরের বস্তি এলাকায় এসে বসবাস করছে। বাস্তুচ্যুতদের অধিকার ও উন্নয়নবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টারের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত শুক্রবার প্রকাশিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট (গ্রিড)-২০১৯’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে বিশ্বের ১৪৮টি দেশের ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার ৬০ শতাংশই ফিলিপাইন, চীন ও ভারতে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতে ২৮ লাখ ৪৪ হাজার, আফগানিস্তানে ৮ লাখ ৭ হাজার, শ্রীলঙ্কায় ১ লাখ ১ হাজার ১০০, বাংলাদেশে ৭৮ হাজার ৩০০ ও নেপালে ১২ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

তিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গত জুনে হাওরাঞ্চলে হঠাৎ বন্যার কারণে ১২ হাজার ও শরীয়তপুরের নড়িয়ায় নদীভাঙনের কারণে ৪৪ হাজার মানুষ ঘরবাড়িছাড়া হয়েছে। বাকিরা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নদীভাঙন, উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অন্যত্র চলে গেছে। এর বাইরে সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৩০০ জন।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘নদীভাঙন ও নানা দুর্যোগে যারা বাড়িঘরছাড়া হয়, তাদের আমরা অন্যত্র বাড়িঘর করে দিই। কিন্তু তাদের অনেকে সেখানে থাকতে চায় না। আমরা পুনর্বাসন এলাকায় জীবিকার ব্যবস্থা করছি।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুতরা মূলত বড় বস্তিগুলোতে ওঠে। ভোলা থেকে নদীভাঙনের শিকার হয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকার মিরপুরে ভোলা বস্তিতে উঠেছে। এ ছাড়া কড়াইল বস্তিসহ রেললাইনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। যেসব বস্তি এলাকায় বাস্তুচ্যুতরা থাকে, সেই এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে। ফলে সেখানে নানা ধরনের রোগবালাই দেখা দিচ্ছে।

 এ বছর যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিস ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত হয়ে রাজধানীতে আসা মানুষের বেশির ভাগই দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় জেলা খুলনা, বরিশাল ও সাতক্ষীরার বাসিন্দা। এরা রাজধানীর অনানুষ্ঠানিক খাত যেমন রিকশা চালানো ও দিনমজুরের কাজ করছে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, এই প্রতিবেদনে মূলত যাঁরা স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, তাঁদের গণনা করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিবছর উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ নদীভাঙন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে অস্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। প্রথমে পরিবারের পুরুষ মানুষ যায়, পরে পরিবারের অন্যদের নিয়ে যায়। এভাবে আস্তে আস্তে অনেকে প্রতিবছর বাস্তুচ্যুত হয়ে যায়। ফলে তাদেরও হিসাবে আনতে হবে। তাদেরও জীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.