দূরপাল্লার বাস-লঞ্চ-ট্রেন চলাচল শুরু

দূরপাল্লার বাস-লঞ্চ-ট্রেন চলাচল শুরু

চলমান করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ৩০ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়িয়েছে সরকার। ৪৯ দিন পর আজ সোমবার (২৪ মে) থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে সব ধরনের দূরপাল্লার গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে রবিবার (২৩ মে) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

সারাদেশে ২৮ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন, নয়টি মেইল এক্সপ্রেস ও কমিউটার ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে রেল চলছে, ট্রেন স্যানিটাইজ করা হয়েছে, যাত্রীদের জীবানুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। আজ সোমবার সকাল থেকে ৩টি ট্রেন ছেড়ে যায়।

বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ (সোমবার) হতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫০ শতাংশ আসন খালি রেখে মোট ২৮ জোড়া আন্তঃনগর ও ৯ জোড়া লোকাল/কমিউটার ট্রেন চলাচল শুরু করেছে। ট্রেনগুলোর সাপ্তাহিক অফ-ডে এবং নির্ধারিত স্টপেজ সমূহ বলবৎ থাকবে।

অর্ধেক আসন ফাঁকা থাকলেও কোনো প্রকার ভাড়া বৃদ্ধি করা হবে না, প্রতিটি ট্রেনের টিকিট অনলাইনে বিক্রয় করা হবে। নন-কম্পিউটারাইজড স্টেশনের টিকিট ওই স্টেশন কাউন্টার হতে ক্রয় করতে হবে।

রবিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এ সংক্রান্ত জরুরি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে উল্লেখিত মোট আসন সংখ্যার অর্ধেকের (৫০ ভাগ) বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না। কোনোভাবেই সমন্বয়কৃত ভাড়ার (বিদ্যমান ভাড়ার ৬০ ভাগ বৃদ্ধি) অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। ট্রিপের (যাত্রা) শুরু ও শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত করতে হবে। পরিবহন সংশ্লিষ্ট মোটরযান চালক, অন্যান্য শ্রমিক কর্মচারী ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে, সকাল ৭টায় শিমুলিয়াঘাট থেকে বাংলাবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় কয়েকটি লঞ্চ। আবার বাংলাবাজার ঘাট থেকেও লঞ্চ শিমুলিয়াঘাটের দিকে আসছে।

এদিকে লঞ্চ ছাড়াও নৌরুটে বর্তমানে ১৭টি ফেরি সচল রয়েছে বলে জানিয়ে বিআইডাব্লিউটিসি সূত্র। তবে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় গত ৫ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে। তখন থেকেই দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ ও ট্রেন বন্ধ আছে। ওই বিধিনিষেধের ধারাবাহিকতা চলে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১৪ এপ্রিল থেকে সারাদেশে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ শুরু হয়, যা চলে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত। সেটি

বাড়িয়ে পরে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। পরে সেই বিধিনিষেধের মেয়াদ ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এরপর আবার তা ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এবার বিধিনিষেধ ৩০ মে পর্যন্ত বাড়নো হলো। তবে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে শর্তসাপেক্ষে দূরপাল্লার গণপরিহন চালুর অনুমতি দেয়া হয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.