দীর্ঘ বন্ধের প্রভাব, কী বলছে শিক্ষার্থীরা?

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এক বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিশুদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছে শিশুরাই।

স্কুল বন্ধের এই দীর্ঘ সময়টা শিশুরা কীভাবে কাটাচ্ছে, তারা কেমন আছে, এই সময়ে তাদের উপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে এসব নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা হয় হ্যালোর।

কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার প্রভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে তুলনামূলক বেশি অস্বস্তিতে রয়েছে শহরে বসবাসরত শিশুরা। সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হয় না, খেলাধুলার সুযোগ নেই বললেই চলে, বেশিরভাগ সময়ই ঘরে বসে কাটাতে হয়। তাই প্রায় সময়ই মোবাইল ফোন নিয়ে সময় কাটাচ্ছে তারা। এতে অনেকে আবার আসক্ত হয়ে পড়ছে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন গেম এবং মোবাইল ফোনের প্রতি।

সুনামগঞ্জের একটি বেসরকারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া নয় বছর বয়সী শিশু রাইয়ান বলে, “স্কুল বন্ধ থাকায় বন্ধুদের অনেক মিস করি, খেলাধুলা করার সুযোগ পাই না। আমাদের স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হচ্ছে।”

জেলার সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্নেহা হ্যালোকে বলে, “স্কুল বন্ধ থাকায় আমাদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পড়াশোনায় মন বসে না। অনেক দিন ধরে ফ্রেন্ডেদের সাথে কথা বলতে পারি না। টিচাররা যে অনেক কিছু শেখাতেন ঐগুলো শিখতে পারছি না।”

এদিকে শহরের শিশুরা অনলাইনে পড়ালেখার সুযোগ পেলেও গ্রামের সব পরিবারের শিশুরা এ সুযোগ পাচ্ছে না। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুকেই কাজে নামানো হয়েছে।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে রয়েছে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুরাও। সরকারি-বেসরকারি স্কুলগুলোর পাশাপাশি পথশিশুদের পাঠদানে এগিয়ে আসতো বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীমূলক সংগঠন। পাঠদানের পাশাপাশি তারা পথশিশুদের খাদ্য ও বস্ত্র দিয়েও সাহায্য করত। ফলে পথশিশুরাও আগ্রহ নিয়ে স্কুলে আসত।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের পাঠদান কর্মসূচিও বন্ধ রাখতে হচ্ছে। একই সাথে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিও নিয়মিত পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পড়ালেখার স্বপ্ন মন থেকে ঝেড়ে ফেলে পেটের দায়ে আবারও যুক্ত হতে হচ্ছে কাজে।

এমনই এক শিশু শাহিদুল ইসলাম। বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে পথশিশুদের জন্য পরিচালিত একটি স্কুলে পড়ত ও।

ও বলে, “আমার ইচ্ছা আমি বড় অইয়া ডাক্তার অইতাম, মানুষের সেবা করতাম। কিন্তু অখন স্কুল বন্ধ থাকায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি। আমরার ভবিষ্যতে কিতা অইবো জানি না। আমরা চাই, স্কুল তাড়াতাড়ি খুলতো, স্যারেরা আমরারে পড়াইতা। আমরা আমরার ভবিষ্যৎ চাই।”

দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার প্রভাব এবং শিশুদের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত শিক্ষক এবং অভিভাবকেরাও।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সরকারি এস সি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম হ্যালোকে বলেন, “এই ঘরবন্দি সময়ে শিশুরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে, পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে তারা অনলাইন গেমের প্রতি আসক্ত হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের অনেক শিশু শিশুশ্রমের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। ঝরে পড়া এই শিশুদের পুনরায় স্কুলে ফেরা নিয়েও আমি শঙ্কিত।”

শিউলি আক্তার নামে এক অভিভাবক বলেন, “বাসায় থাকতে থাকতে ওরা বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে। পড়ার চাপ না থাকায় পড়াশোনা করতে চায় না। আমরাও চাপ দিই না কারণ মানসিক অবস্থা খুব একটা ভালো না।”

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.