ঝুঁকিপূর্ণ বরিশাল-ঢাকা নৌপথ

ঝুঁকিপূর্ণ বরিশাল-ঢাকা নৌপথ

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম বরিশাল-ঢাকা নৌপথ। অথচ এই নৌপথের গুরুত্বপূর্ণ মেঘনার মিয়ারচর আর উলানিয়া-কালীগঞ্জ চ্যানেলের দিকে গুরুত্ব নেই সরকারের। প্রায়ই যাত্রীবাহী নৌযান ঠেকে যাচ্ছে এই দুটি চ্যানেলের ডুবোচরে। ঘটছে দুর্ঘটনা। দ্রুত এই চ্যানেল দুটির নাব্যতা বৃদ্ধি এবং বয়া-বাতি ও মার্কিং স্থাপন করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনাসহ ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন নৌযান মাস্টাররা। যদিও বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি।

১৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে চলাচল করে দেশের সর্বাধুনিক এবং বড় বড় যাত্রীবাহী জাহাজ। দূরত্ব কম হওয়ায় বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের লঞ্চগুলো মেঘনার মিয়ারচর চ্যানেল দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই চ্যানেলের বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর জেগে ওঠায় বর্ষা মৌসুমেও যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর ওপর নেই দিকনির্দেশক বয়া-বাতি এবং মাকিং। গত ১৮ জুলাই সিমেন্ট বোঝাই একটি কার্গো ডুবে মিয়ারচর চ্যানেলটি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কিন্তু ভাটার সময় উলানিয়া-কালীগঞ্জ চ্যানেলেও নাব্যতা সংকট চরম আকার ধারণ করে।

ডুবোচরে আটকে যাওয়ায় গত ২২ জুলাই উলানিয়া-কালীগঞ্জ চ্যানেলে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী এমভি সুন্দরবন-১০ এবং একই রুটের এমভি মানামী নামে দুটি যাত্রীবাহী নৌযানের সংঘর্ষে উভয় লঞ্চের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে কোনো প্রাণহানি হয়নি। প্রথম শ্রেণির নৌযান মাস্টার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মিয়ারচর এবং কালীগঞ্জ দুই চ্যানেল দিয়েই বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচল করেন তারা। মিয়ারচরে ডুবোচরে বয়া-বাতি, মাকিং নেই, কালীগঞ্জেও ডুবোচর আছে, বয়া-বাতি নেই। নৌযান নিয়ে চিহ্নিত যে ছকে চলাচল করব সেখানে পানি কম পাওয়া যায়। এদিকে ঢাকা-বরিশাল নৌপথের সমস্যা দেখতে গত শনিবার চাঁদপুর থেকে বিশেষ নৌযানে বরিশাল সফর করেন নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। ওইদিন বিকাল ৩টায় বরিশাল নদীবন্দরে পৌঁছে নৌ-প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এই রুটের কোথায় কি সমস্যা দিনের বেলায় নিজের চোখে দেখেছেন। নৌপথ আরও সুগম এবং নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.