জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় অবহেলা নয়

জৈববৈচিত্র্য

দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা দরকার। জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা না গেলে পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়তে পারে। আশার কথা, জাতিসংঘ ২০২১ থেকে ২০৩০ কে বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দশক হিসাবে ঘোষণা করেছে। কাজেই বিপর্যয় ও মহামারি রোধে প্রকৃতির প্রতি অবিচার বন্ধ করে সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ বিষয়ে সরকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এখন দেশের প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কেন এটি জরুরি একটি উদাহরণেই তা স্পষ্ট হবে।

২০১০ সালে আমাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশুর দেহে অ্যানথ্রাক্স রোগ ছড়িয়ে পড়ে। তখন পশুর মাংস খাওয়ার বিষয়ে দেশবাসী ভীত হয়ে পড়ে। এতে দেশে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। এর প্রভাবে চামড়ার উৎপাদন হ্রাস পায়; চামড়া রপ্তানিও বিপুল পরিমাণে কমে যায়। মাত্র কিছুদিনের মধ্যেই দেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আমাদের মতো দেশে হঠাৎ মাংসের বিকল্প ব্যবস্থা করা কতটা কঠিন তা সহজেই অনুমেয়। একমাত্র শকুনই অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত মৃত গরুর মাংস খেয়ে হজম করতে পারে।

অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু প্রতিকূল পরিবেশে এমনকি অতিশীতল পরিবেশেও সুপ্ত অবস্থায় শতাব্দীর পর শতাব্দী টিকে থাকতে পারে এবং অনুকূল পরিবেশে পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। অথচ প্রকৃতিতে শকুন থাকলে এই জীবাণুকে অতি সহজে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। শকুন এখন বিলুপ্তপ্রায়।

প্রকৃতির ‘পরিচ্ছন্নতা কর্মী’ হিসাবে পরিচিত এই প্রাণীকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষায় অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশের কারণে আরও কত প্রজাতির প্রাণী আমাদের দেশ থেকে হারিয়ে গেছে এবং কত প্রজাতি এখন বিলুপ্তপ্রায়-এটাও হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয়। পরিবেশবান্ধব যেসব প্রজাতির প্রাণী এখন বিলুপ্তপ্রায় সেগুলোকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে হবে।

আন্তর্জাতিক জৈববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার এক কর্মশালায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী বলেছেন, কিছুদিন আগে জীববৈচিত্র্য সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি হালদাকে জীববৈচিত্র্য ঐতিহ্য হিসাবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ লক্ষ্যে দেশের মোট স্থল ও অভ্যন্তরীণ জলভাগের পাঁচ শতাংশেরও বেশি সংরক্ষিত অঞ্চল এবং পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৫ শতাংশ এলাকা সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চল হিসাবে ঘোষিত হয়েছে। বেঙ্গল টাইগারসহ বিভিন্ন প্রজাতি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়টি ইতিবাচক। এ ছাড়া দেশের মূল্যবান কৃষি-জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য জিন ব্যাংক স্থাপনের বিষয়টি প্রশংসার দাবি রাখে। দেশের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় আরও যা যা করণীয় সেসব পদক্ষেপ নিতে দেরি হলে যে ক্ষতি হবে তা সহজে পূরণ করা যাবে না।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.