ছোটদের টিভি দেখার ঝোঁক

ছবি সংগৃহীত

বাবা-মা শুধু সন্তানের পড়াশোনা নিয়েই চিন্তা করেন না। তাদের মঙ্গলের জন্য অন্য বিষয়গুলোও দেখেন। টিভির সব অনুষ্ঠানই খারাপ নয়। কিন্তু সন্তান টিভিতে কোন অনুষ্ঠান দেখছে, কতক্ষণ দেখছে এ বিষয়গুলো খেয়াল করার দরকার আছে। খেয়াল রাখুন টিভি দেখা যেন আসক্তি বা অ্যাডিকশনের পর্যায়ে না পৌঁছায়।

বিকালবেলা ঘড়িতে ৫টা বাজতে না বাজতেই নুহা ছুটে এসে টিভি চালিয়ে দেয়। এ সময় ওর পছন্দের কার্টুন-শো হয় টিভিতে। ওর মা আবার অফিস থেকে ফিরেই সঙ্গে সঙ্গে বসে যায় সিরিয়াল দেখতে। এরপর ওকে সময়মতো পড়াতে বসানো রীতিমতো কঠিন হয়ে পড়ে।

টিভি নিয়ে এ রকম ঝামেলা সব বাড়িতেই লেগে থাকে। সন্তান কতক্ষণ টিভি দেখবে, বা টিভিতে কী অনুষ্ঠান দেখবে তা পর্যবেক্ষণ করার প্রয়োজন আছে। সন্তান টিভি দেখে কাটিয়ে দিচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সন্তানের এ আসক্তি দূর করতে হলে অভিভাবক হিসেবে আপনার ওপরই প্রধান দায়িত্ব বর্তায়। শাসন বা মারধর না করে একটু রুটিনভিত্তিক কৌশল অবলম্বন করলেই কিন্তু এ অভ্যাস থেকে মুক্তি পাবে সন্তান।

কী করবেন

* ছোট বাচ্চারা যা দেখে তাই শেখে। তারা খুব সহজেই অনুকরণ করে। বাচ্চাকে ছোট থেকে বোঝানো দরকার টিভিতে যা দেখছে তা সব সত্যি নয়। বিশেষ করে সুপারহিরোদের অনুষ্ঠান দেখে অনুকরণ করতে গিয়ে অ্যাক্সিডেন্ট হওয়ার ঘটনা আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। খেয়াল রাখবেন সন্তান যেন টিভির ঘটনার সঙ্গে বাস্তবকে মিলিয়ে না ফেলে। দুটি জগতের মধ্যে যে একটা ফারাক রয়েছে সেটা সন্তানকে বোঝাতে হবে। সুপারহিরোদের কারসাজির অনেকটাই যে টেকনোলজির কেরামতি সেটা ওকে বুঝিয়ে দিন। বিভিন্ন সায়েন্স মিউজিয়ামে নিয়ে যান। সেখানে দেখানো হয় কীভাবে সুপারহিরোদের কারসাজি টিভিতে প্রদর্শিত হয়। এতে ও বুঝতে পারবে এ ধরনের অনুষ্ঠান শুধুই ইন্টারটেইনমেন্টের জন্য।

* বাচ্চারা সাধারণত নানা ধরনের কার্টুন, সুপারহিরোদের নিয়ে নানা অনুষ্ঠান, মিউজিক্যাল শো; রিয়েলিটি শো ইত্যাদি দেখতে ভালোবাসে। অনেকে আবার খেলা, কুকারি শো ট্যাভেল শো এ ধরনের অনুষ্ঠান দেখতেও পছন্দ করে। তাই টিভির সব অনুষ্ঠানই যে শিশুদের জন্য খারাপ তা নয়। কিন্তু খেয়াল রাখুন টিভি দেখা যেন আসক্তিতে পরিণত না হয়। একটা শো মিস হলেই কান্নাকাটি করা, কোথাও গেলে সেখান থেকে টিভি দেখার জন্য ফিরে আসার বায়না করা, কিছুতেই শো মিস করা যাবে না এ রকম পরিস্থিতি তৈরি হলেই বুঝতে হবে আসক্তিতে পরিণত হয়েছে।

* সন্তানকে টিভি দেখার জন্য একটা সময় নির্দিষ্ট করে দিন। কোনো একদিন যদি কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান দেখতে চায় সেটুকু অনুমতি দেয়া যেতেই পারে। তবে দেখবেন ফ্রি সময় কাটানোর জন্য টিভিকেই বেছে না নেয়।

* সন্তানকে বিকালবেলা টিভি দেখার অভ্যাসটা কমিয়ে আনুন। পাশাপাশি বাইরে ছোটাছুটি করতে ও খেলতে উৎসাহিত করুন। খেলাধুলা ছাড়াও নাচ, গান বা ছবি আঁকার ক্লাসে ভর্তি করে দিতে পারেন। খেলাধুলা করলে বাইরের খোলা হাওয়ায় শরীর মন ভালো হয়। এ ছাড়া সমবয়সী বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে মন উৎফুল্ল হবে।

* টিভিতে এমন শো দেখতে বাচ্চাকে উৎসাহ দিন যেগুলো ওকে আর একটু ভাবতে, চিন্তা করতে, নতুন কিছু করতে সাহায্য করবে। টিভির অনুষ্ঠান দেখে সৃজনশীল কিছু করতে পারলে ওর আত্মবিশ্বাস বাড়বে। এ ছাড়া ট্রাভেলিং, হিস্ট্রি, অ্যানিমেল ওয়ার্ল্ড, সায়েন্স ফিকশন শোয়ের মতো অনুষ্ঠানগুলোতে বাচ্চার মনের পরিধি, দেখা ও জানার জগৎটা প্রসারিত হবে। তবে এর জন্য আপনাকেও কিছুটা উদ্যোগ নিতে হবে। আপনি নিজে যদি সারা দিন সিরিয়াল দেখেন, তাহলে সন্তানও আপনার কথা শুনতে চাইবে না। তাই আপনি নিজেও সন্তানের সঙ্গে নানা ধরনের শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান দেখুন। আপনার ব্যস্ততার মধ্যে কিছুটা সময় সন্তানকে দিন। টিভি দেখা একেবারে বন্ধ করে না দিয়ে সন্তানকে টিভি দেখতে দিন, কিন্তু নির্দিষ্ট একটা সময় বেঁধে দিন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.