চাঁদপুরের পুরান বাজার জামে মসজিদ

চাঁদপুরের পুরান বাজারে যেসব স্থাপনা ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে তার মধ্যে অন্যতম পুরান বাজার জামে মসজিদ। দোতলা ভবনের এ মসজিদের গায়ে রঙিন কাচ ও পাথর দিয়ে কারুকাজ আছে। শতবর্ষের এ মসজিদের মিনারটিও বেশ উঁচু। এছাড়া দেড়শ’ বছরের বাজারের মন্দিরটিও আছে এখানকার ঐতিহ্যের তালিকায়। পুরান বাজার জামে মসজিদ দেখতে অনেকটা মুঘলদের মসজিদের মতন। এর কারু কাজ দেখতে অনেকটা পুরান ঢাকার মসজিদের মতন। অনেক লোক সমাবেত হয়ে নামাজ পড়ে। দূর-দূরান্তের অনেক মানুষ নামাজ পড়ে এই মসজিদে। এই মসজিদের কারুকাজ গুলো ইতিহাসের সাক্ষী বয়ে নিয়ে যায়। কারু কাজের নিদর্শন গুলো অনেক মানুষকে মুগ্ধ করে তুলে ।

চালপট্টি, ডালপট্টি, যুগিপট্টি, মনিহারিপট্টি, আমপট্টি, বাতাসাপট্টি, ট্রাঙ্কপট্টি, তেলপট্টি, ফলপট্টি, তামাকপট্টি, আড়তপট্টি, সুতাপট্টি, খলিফাপট্টি, টিনপট্টি, ঘোষপট্টি, বানিয়াপট্টি কিংবা মশলাপট্টি। এমন অনেক পট্টি আছে চাঁদপুরের পুরান বাজারে। আর এ পট্টি মানে গলি বা সড়ক। যে পণ্যের নামে যে পট্টি, সেই পণ্য পাওয়া যাবে সেই পট্টিতে। তাই নির্দিষ্ট কোনো পণ্যের প্রয়োজন হলে পুরো বাজার না ঘুরে নির্দিষ্ট পট্টিতে গেলেই পণ্যটি মিলবে।

ছেলেবেলায় এ বাজারে অনেক এসেছি। তারপর দীর্ঘ বিরতি। ঘুরে ঘুরে পট্টির আড়ত বা দোকানগুলোতে বেচাকেনা দেখি। পাইকারি বা খুচরা সব রকম বেচাকেনাই চলে এখানে। অবশ্য পাইকারির দোকান বা প্রতিষ্ঠানই এ বাজারে বেশি। ডাল-চাল, তেল-নুন থেকে শুরু করে পেঁয়াজ-কাঁচামরিচ কিংবা মাছ-মাংস, পোশাক-প্রসাধনী সবই মেলে এখানে। তবে সুতা, জাল কিংবা মাছ ধরার সরঞ্জামের দোকানের সংখ্যা এখানে তুলনামূলক বেশি। কারণ এ অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ মেঘনায় ইলিশমাছ ধরার কাজে সম্পৃক্ত। মাছ ধরার সরঞ্জাম বেশি আছে বাজারের যুগি পট্টিতে। এ পট্টির অনেক দোকানের সামনে দেখি মাছ ধরার জাল সেলাই করছেন সেলাইয়ের কারিগর। স্থানীয়রা সেলাইয়ের কারিগরকে খলিফা বলেন।

বাজারের পশ্চিমে মেঘনা আর উত্তরে ডাকাতিয়া নদী। দুটি নদীর ঠিক পাড় ঘেঁষেই বাজারের অবস্থান। মূলত ডাকাতিয়া এসে মিশেছে মেঘনায়। আবার অন্যদিক থেকে পদ্মার মিলনস্থলও এ মেঘনা-ডাকাতিয়া। তাই এটি তিন নদীর মোহনাও বলা চলে। আর এ তিন নদীর মোহনাতেই পুরান বাজার দাঁড়িয়ে আছে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে।

এ বাজার চাঁদপুরের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র। চাঁদপুরের শিল্প-কারখানাও এ বাজারকেন্দ্রিক। তিন-চার দশক আগেও এ বাজার আরও জমজমাট ছিল। সে তুলনায় এখন কিছুটা কমতি। এর কারণ নদীর ভাঙনে বাজার ছোট হয়ে আসা। অন্যদিকে ডাকাতিয়া নদীতে সেতু হওয়ায় চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার জমজমাট হয়েছে। ফলে কিছুটা রমরমা হারিয়েছে পুরান বাজার। তবে একেবারে মিলিয়ে যায়নি। সকাল-সন্ধ্যা হাঁক-ডাক বা শোরগোল এখনও বজারে প্রাণের সঞ্চার সৃষ্টি করে। এখনও এ বাজারে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার দোকান আছে চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির হিসাব অনুযায়ী।
লবণ বাণিজ্যের জন্য এ বাজার এক সময় বেশ পরিচিত ছিল। এখনও আছে, তবে আগের মতো নয়। এখনও এ বাজার এ অঞ্চলের চাল, ডাল, তেল, নুন বা বিভিন্ন শস্যজাতীয় পণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার বলেই গণ্য।

পুরান বাজারে যেসব স্থাপনা ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে তার মধ্যে অন্যতম পুরান বাজার জামে মসজিদ। দোতলা ভবনের এ মসজিদের গায়ে রঙিন কাচ ও পাথর দিয়ে কারুকাজ আছে। শতবর্ষের এ মসজিদের মিনারটিও বেশ উঁচু। এছাড়া দেড়শ’ বছরের বাজারের মন্দিরটিও আছে এখানকার ঐতিহ্যের তালিকায়। পুরান বাজার জামে মসজিদ দেখতে অনেকটা মুঘলদের মসজিদের মতন। এর কারু কাজ দেখতে অনেকটা পুরান ঢাকার মসজিদের মতন। অনেক লোক সমাবেত হয়ে নামাজ পড়ে। দূর-দূরান্তের অনেক মানুষ নামাজ পড়ে এই মসজিদে। এই মসজিদের কারুকাজ গুলো ইতিহাসের সাক্ষী বয়ে নিয়ে যায়। কারু কাজের নিদর্শন গুলো অনেক মানুষকে মুগ্ধ করে তুলে ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.