ঘুরে দাড়াচ্ছে হোটেল শিল্প

কভিড-১৯ মহামারী মানুষের ভ্রমণ বন্ধের পাশাপাশি হোটেল শিল্পকে ক্ষতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। হোটেল গবেষণা সংস্থা এসটিআরের নিউজ ডিভিশন হোটেল নিউজ নাওর খবরে বলা হয়েছে, এ খাতে গত ফেব্রুয়ারি থেকে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই ৫০ লাখ মানুষের চাকরি চলে গেছে।

আরেক গবেষণা সংস্থা অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের অংশ ট্যুরিজম ইকোনমিকসের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জ্যাকরি সিয়ের্স বলেছেন, এক বছর আগের তুলনায় এ বছর কিছু ক্ষেত্রে হোটেলে থাকা ৯৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এত পরিমাণে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে যে কিছু হোটেল স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আমেরিকান লজিং ও হোটেল শিল্প গত ৩১ আগস্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানিয়েছে, ৬৫ শতাংশ হোটেলে ভাড়া নেয়া ৫০ শতাংশ বা তার নিচে নেমে গেছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্রমণ সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে এবং কেবল ৩৮ শতাংশ মার্কিন বলেছে, তারা এ বছরের শেষের দিকে অবকাশ যাপনে যাবে। সাধারণ সময়ে ৭০ শতাংশ মার্কিন বছরে একবার অবকাশ যাপনে বের হয়।

উদ্ভট পরিস্থিতি এবং মহামারী চলমান থাকা সত্ত্বেও হোটেল শিল্পে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফ্রিকা, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বড় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি ছোট ছোট হোটেল খুলতে শুরু করেছে। বিলাসবহুল ভ্রমণ সংস্থা ইনহ্যাবিট দ্য ওয়ার্ল্ডের প্রতিষ্ঠাতা লিও সোর্চার বলেছেন, আগামী কয়েক মাস হলো হোটেলগুলোর জন্য ব্যস্ত সময়। দীর্ঘ সুড়ঙ্গের শেষে একটি আলো দেখা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বিখ্যাত উনিশ শতকের চার্চের ধ্বংসাবশেষের কাছে শহরের কেন্দ্রস্থলে দ্য ইন অ্যাট দ্য মিশন সান জুয়ান ক্যাপিস্ট্রানো নামের হোটেলটি এ মাসেই খোলা হবে। এছাড়া এ মাসে দ্য আর্টিস্ট ইনক্লেভ, পেনসিলভানিয়ার সেলিব্রিটি হাইডঅ্যাওয়ে এবং রিভার হাউসটির উদ্বোধন দেখতে পাওয়া যাবে। আগামী নভেম্বরে সুপরিচিত ন্যানটকেটের এপোনমাস রিসোর্টের দ্বিতীয় ব্র্যাঞ্চ পাম বিচের হোয়াইট এলিফ্যান্ট খুলবে।

ইউরোপের লন্ডনে আগামী শরতে দ্য মিটার হ্যাম্পটন কোর্ট এবং দ্য মেফায়ার টাউনহাউজ নামে নতুন দুটি হোটেল খুলবে। মাদ্রিদে ম্যান্ডারিন ওরিয়েন্টাল রিজ আগামী বছরের শুরুতে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। এ তালিকায় রয়েছে মালয়েশিয়ার ওয়ান অ্যান্ড অনলি দেশারু কোস্ট, কেনিয়ার মাশাই মারাতে অ্যাঙ্গামা সাফারি ক্যাম্প ও অস্ট্রেলিয়ার ওভাল স্টেডিয়ামের কাছে দ্য ওভাল হোটেল।

আগামী মাসগুলোতে আত্মপ্রকাশ করতে যাওয়া বেশির ভাগ নতুন হোটেল তাদের প্রারম্ভিক তারিখগুলো মহামারীর কারণে ধাক্কা খেয়েছিল। তবে অর্থনীতির বিশৃঙ্খল অবস্থা সত্ত্বেও তারা এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ত্যাগ করেনি। যদিও তাদের চালু হওয়ার তারিখ বারবার পেছাতে হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হোটেল ইন্ডাস্ট্রি আবার ঘুরে দাঁড়াবে। তবে কখন দাঁড়াবে, তা জানা বা বলা কঠিন। করোনাভাইরাসটির একটি প্রতিকার হতে চলেছে, যার অর্থ হলো শিল্পটি আবার জেগে উঠবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.