করোনার প্রভাব, জাফলং পর্যটকশূন্য

করোনার প্রভাব, জাফলং পর্যটকশূন্য

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রকৃতিকন্যা জাফলং। সারা বছরই এই এলাকায় পর্যটকরা ভিড় করেন। ঈদ মৌসুম এলে তো কথাই নেই। লাখো পর্যটক তখন ভিড় করেন গোয়াইনঘাটের পর্যটন এলাকায়।

 

গোয়াইনঘাট উপজেলায় চারটি পর্যটন স্পট রয়েছে। এর মাঝে সবচেয়ে বেশি পর্যটক ঘুরতে আসেন প্রকৃতিকন্যা জাফলং। এছাড়াও প্রকৃতির অপ্সরা খ্যাত বিছনাকান্দি, সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল, জাফলংয়ের মায়াবী ঝরনা, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জলের স্রোতের ধারা, ওপারে নদীর ওপর ঝুলন্ত ব্রিজ, সমতল ভূমিতে জাফলং চা-বাগান, তামাবিল জিরো পয়েন্ট ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের খাসিয়া পল্লি এসবের সবকিছুই খুব সহজেই আকৃষ্ট করে আগত পর্যটকদের।

 

তবে এসব পর্যটন কেন্দ্রে এবারের ঈদে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। করোনার কারণে পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় এবারের ঈদে পর্যটকদের চাঞ্চল্য দেখা যায়নি।

 

স্থানীয় কয়েকজন লোককে ঘুরতে দেখা গেলেও সেখানে অনুপস্থিত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল ও উচ্ছ্বাস।

 

গত ৩১ মার্চ থেকে সিলেটসহ সারা দেশের পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়।

 

তবে এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঈদের ছুটিতে প্রথম দিন থেকেই সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংসহ কয়েকটি স্পটে ভিড় জমায় পর্যটকরা। এতে বাড়ছিল স্থানীয় পর্যটকদের আনাগোনা। সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যটকরা ভাড়া করা বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে এসেছিলেন।

 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সিলেটসহ দেশের সবক’টি পর্যটন স্পট বন্ধ রাখার ঘোষণা থাকলেও ঈদের ছুটিতে গোয়াইনঘাটের জাফলংসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ভিড় করছিলেন দর্শনার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে সিলেটের পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

 

করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিষয়ে সচেতন করে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর গত রোববার সকাল থেকে জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশ ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে জাফলংয়ের বিভিন্ন প্রবেশমুখে গুচ্ছগ্রাম, নলজুড়ি এবং জিরো পয়েন্টে অস্থায়ী তল্লাশি চৌকি বসিয়ে পর্যটকবাহী যানবাহন বাস, মাইক্রোবাস, কার, পিকআপ ও মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাদের বুঝিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে লোক সমাগম নেই বললেই চলে।

 

প্রতি বছরের ঈদ মৌসুমে জাফলং ও বিছনাকান্দিতে লাখো পর্যটক থাকলেও এবারের ঈদুলফিতরে ছিল না। গত বছরের ঈদ মৌসুমেও একই পরিস্থিতি ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

গত মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন স্পট পরিদর্শনে দেখা যায়, পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট, বিজিবি ক্যাম্প, খাসিয়া পুঞ্জি, চা-বাগান, পান-সুপারির বাগান, মায়াবী ঝরনাসহ একাধিক স্পট একেবারেই পর্যটকশূন্য। চারদিকে সুনসান নীরবতা। যে স্থানে পর্যটক এসে হইহুল্লোড় করে আনন্দ করত সে স্থানে পর্যটক নেই।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.