কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যেতে ১৩ শর্ত পালন করতে হবে

করোনায় প্রায় ৫ মাস ধরে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলেছে। তবে পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ার প্রথম দিনে পর্যটকের তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি।

বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এ অবস্থা বলে জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। তারপরও আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেয়ার পর কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের ঢল নামবে বলে আশা করছেন তারা।

গত ১৮ই মার্চ থেকে সমুদ্র সৈকতসহ কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে কক্সবাজার জেলাকে লকডাউন, শহরকে রেড জোন ঘোষণা করে সব ধরনের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু দীর্ঘ সাড়ে ৩ মাস পর গত ১লা জুলাই থেকে লকডাউন শিথিল করে কক্সবাজার শহরের দোকানপাট খুলে দেয়া হলেও ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ছিল পর্যটন কেন্দ্রগুলো। তবে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় ১৭ই আগস্ট সোমবার থেকে পর্যটকদের জন্য সীমিত পরিসরে কক্সবাজার পৌরসভার দর্শনীয় স্থানসমূহ খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী ১৩টি শর্তে গতকাল খুলে দেয়া হয়েছে শহরের হোটেল মোটেলগুলো। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের টহল জোরদার থাকবে।

কেউ শর্ত ভঙ্গ করলে জরিমানা, এমনকি হোটেল বা পর্যটন স্পট বন্ধ করে দেয়া হবে।

গতকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রসমূহ খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হলেও বিমান চলাচল খুলে দেয়া হয়েছে আরো পক্ষকাল আগে। এর আগে গতমাসে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের হোটেলগুলো খুলে দেয়া হয়।

হোটেল মালিকদের সংগঠন ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ, কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সমপাদক আবুল কাশেম সিকদার আশা করেন, লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকা মানুষগুলো মুক্ত হাওয়া খেতে আবারো কক্সবাজারে আসবেন।

তবে এখন একটি কক্ষে গাদাগাদি করে অতিরিক্ত পর্যটক থাকার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাপল বেড ও টুইন বেডে সর্বোচ্চ ২ জন অবস্থান করতে পারবেন। সে হিসেবে কক্সবাজারের চার শতাধিক হোটেল মোটেল ও গেস্ট হাউসে একদিনে সর্বোচ্চ ৮২ হাজার পর্যটক রাত যাপন করতে পারবেন। করোনার আগে এই সক্ষমতা দ্বিগুণ ছিল বলে জানান তিনি।\

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.