একটি ‘ম্যাজিক বাস’ এবং…

কয়েক দশক পরে আলাস্কার ‘স্ট্যাম্পেড ট্রেইল’ থেকে পরিত্যক্ত একটি বাস উদ্ধার করা হয়েছে। ওই বাসটি নিয়ে জনমনে নানা কৌতুহল রয়েছে। সেই কৌতুহল থেকে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন অনেকে। কিন্তু পৌঁছাতে পারেন নি তারা। মৃত্যু ঘটেছে অনেকের। ফলে বাসটিই সেখান থেকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। তবে স্থলপথে নয়। হেলিকপ্টারে করে উড়িয়ে নেয়া হয়েছে ওই বাস।

এতে ব্যবহার করা হয়েছে আলাস্কা আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের সিএইচ-৪৭ চিনুক হেলিকপ্টার। বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা ওই বাসটি উদ্ধার করে। বাসটি ‘ফেয়ারব্যাংকস বাস ১৪২’ নামে অথবা ‘ম্যাজিক বাস’ নামেও পরিচিত। এ খবর দিয়ে অনলাইন সিএনএন বলছে, জননিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস-এর সহযোগিতায় বাসটি সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কারণ, আলাস্কার হেলি’র কাছে ওই বাসটি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তাতে প্রাণহানী হয়। স্থানীভাবে বাসটি কোথায় রাখা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় নি।
১৯৯৬ সালে জন ক্রাকুউয়ার তার একটি বই ‘ইনটু দ্য ওয়াইল্ড’-এ এই বাসের কথা উল্লেখ করেন। তখন থেকেই এই ধ্বংসপ্রাপ্ত বাসটি যেন এক তীর্থস্থান হয়ে ওঠে লোকজনের কাছে। জন ক্রাকুউয়ারের বই প্রকাশের পর ২০০৭ সালে এ নিয়ে একটি ছবি বানানো হয়। এরও নাম দেয়া হয় ‘ইনটু দ্য ওয়াইল্ড’।

ফলে মানুষের মধ্যে বাধভাঙা কৌতুহল দেখা দেয়। নন-ফিকশন এই বইতে একজন ক্রিস্টোফার ম্যাক্যান্ডলেসের জীবন তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বড় হয়েছেন ওয়াশিংটনের একটি এলাকায়। কিন্তু ১৯৯০ সালে জর্জিয়ার আটলান্টায় অবস্থিত ইমোরি ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর তিনি আরামের জীবন ছেড়ে দেন। বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে তিনি পশ্চিম দিকে ছোটা শুরু করেন।

১৯৯২ সালে তিনি পৌঁছে যান আলাস্কায়। বইয়ে বলা হয়েছে, সেখানে ‘স্ট্যাম্পেড ট্রেইল’-এর মাথায় তাকে নামিয়ে দেয় এক ব্যক্তি। এর কয়েক দিন পরে, ম্যাক্যান্ডলেস হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যান ওই পরিত্যক্ত বাসের কাছে। তার ভিতর অবস্থান করেন প্রায় তিন মাস। এরপর আবার সভ্য জগতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। মানুষের সমাজে ফেরার উদ্যোগ নেন। কিন্তু এ জন্য তাকে অতিক্রম করতে হতো

তেকলানিকা নদী। ওই নদীটি ছিল খর¯্রােতা এবং প্রবল বৃষ্টির কারণে এতে ছিল ঢেউ। হিমবাহ গলে নদীর পানি বৃদ্ধি করেছে। ফলে তার পক্ষে ওই নদী পাড়ি দেয়া সম্ভব হয় নি। পরাজিত হয়ে তিনি আবার ফিরে গেছেন বাসির কাছে। সেখানে প্রায় এক মাসের মতো বেঁচেছিলেন। তারপর ১৯৯২ সালের আগস্টে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

যারা পর্বত আরোহন করেন বা এডভেঞ্চারপ্রিয় তাদের কাছে ওই বাসটি হয়ে ওঠে আকর্ষণীয়। বিপুল সংখ্যক মানুষ ম্যাক্যান্ডলেসের পায়ের ছাপ শনাক্ত করার জন্য সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বহু মানুষ ব্যর্থ হয়েছেন। অনেককে উদ্ধার করতে হয়েছে। অনেকে মারা গেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে স্ট্যাম্পেড ট্রেইল থেকে অগ্নিনির্বাপকরা ও আলাস্কা রাজ্যের সেনারা উদ্ধার করেছে ইতালির ৫ নাগরিককে। তারা পরিত্যক্ত ওই বাসটি দেখে ফিরছিলেন। এরও এক বছরের কম সময় আগে বেলারুশের এক যুবতী তার স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসটি পরিদর্শনে বের হন। কিন্তু তেকলানিকা নদী অতিক্রম করতে গিয়ে তারা মারা যান।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.