ঈদ পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পদ্মা সেতু

 

উদ্বোধনের পর থেকেই পদ্মা সেতু দেশের মানুষের অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা পদ্মা পর্যটনে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। ঈদের দিন থেকেই প্রতিদিন পদ্মা সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্ত এবং মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে মানুষের ঢল নামছে। দুপুরের পর থেকেই এই ঢল বাড়তে থাকে এবং রাতে সেতু এলাকা পর্যটকদের ভিড়ে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে। জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার সামনে, সংযোগ সড়কের পাশে নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। যারা এক সময় ফেরিঘাটে দোকান দিয়ে পণ্য বিক্রি করতেন তারা এখন টোল প্লাজার সামনে ও সংযোগ সড়কের পাশে নতুন করে দোকান দিয়েছেন। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিতে সেখানে গ্রামীণমেলার আমেজ তৈরি হচ্ছে। অনেক পর্যটক শিমুলিয়া ঘাটে এসে ট্রলার ও স্পিড বোটে করে সেতুর কাছাকাছি গিয়ে সেতু দেখে আসছে। একই সঙ্গে তাদের নৌভ্রমণও হচ্ছে আবার পদ্মা সেতু দর্শনও হচ্ছে। ফলে পদ্মার পর্যটন বেশ জমে উঠেছে।

পদ্মা সেতু পর্যটকদের জন্য নতুন বিনোদনের স্থানেও পরিণত হয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি দিন শত শত পর্যটক আসছে পদ্মা সেতু দেখতে। ফলে  পদ্মা সেতুর দুপ্রান্ত সবসময় পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকছে। পর্যটনের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন পদ্মা সেতু ও এক্সপ্রেসওয়ে দর্শনে পর্যটকদের জন্য ৯৯৯ টাকার একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এই প্যাকেজের আওতায় ৫ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু ও বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ে ঘুরিয়ে আনবে পর্যটন কর্পোরেশন।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলেন, পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ম্যুরাল নির্মাণ করা হয়েছে। তার পাশে ইলিশের ভাস্কর্য ও ফোয়ারা আছে। মানুষ এসব স্থাপনা দেখছেন। এসব স্থানকে পেছনে রেখে ছবি এবং সেলফি তুলছেন।

পর্যটন কর্পোরেশনের প্যাকেজ ॥ মাত্র ৯৯৯ টাকায় পদ্মা সেতু ও ভাঙ্গা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ঘুরাবে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন। গত ১২ জুলাই এই প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সংস্থাটি।

পর্যটন কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা জিয়াউল হক হাওলাদার বলেন, স্বাভাবিক রেটের চেয়ে ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্টে স্বপ্নের পদ্মা সেতু ও নান্দনিক ভাঙ্গা চত্বরে পর্যটনের আধুনিক এসি ট্যুরিস্ট কোস্টারে ট্যুর হবে ২২ জুলাই শুক্রবার।

আগ্রহীদের আগে প্যাকেজ বুকিং করে ২২ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনের নিচতলায় আসতে হবে।পৌনে ৪টায় আসন গ্রহণ ও ৪টায় ভ্রমণ শুরু করা হবে। দিনের আলোয় পদ্মা সেতু ও ভাঙ্গা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে নান্দনিক ভাঙ্গা চত্বরে উপস্থিত হওয়ার পর সেখানে বৈকালিক স্ন্যাক্স দেয়া হবে। সন্ধ্যা ৭টায় আলোকসজ্জিত পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় ফিরে আসা হবে। ট্যুর সমাপ্ত হবে রাত ৯টায়।

পর্যটন কর্পোরেশন জানায়, আগ্রহীরা ০১৯৪১৬৬৬৪৪৪ নম্বরে ফোন দিলে বিকাশ নম্বর দেয়া হবে। অথবা পর্যটন ভবনেও ভ্রমণ মূল্য পরিশোধ করা যাবে। আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে বুকিং নেয়া হবে।

জাজিরা প্রান্ত ॥ পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজা নাওডোবায়। পদ্মা সেতুর সাড়ে ১০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক রয়েছে শিবচরের পাচ্চর পর্যন্ত। এরপর ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে। দিনভর ওইসব স্থানে ঘুরে সন্ধ্যায় লোকজন টোল প্লাজার সামনে আসছেন। ঢাকামুখী দর্শনার্থীরা সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করছেন।

শতাধিক ব্যবসায়ী টোল প্লাজার পাশে সংযোগ সড়ক ঘেঁষে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়েছেন। খাবারের দোকান, শিশুদের খেলনার দোকান ছাড়াও বিভিন্ন জিনিস নিয়ে বসেছেন দোকানিরা। পর্যটকদের পদচারণায় এসব দোকানের বিক্রিও অনেক বেড়ে গেছে।ফলে পদ্মার পর্যটন নতুন নতুন কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি করছে।

ঢাকা থেকে প্রচুর পর্যটক যাচ্ছেন পদ্মা সেতু দেখতে। নিজস্ব প্রাইভেটকারে পরিবার পরিজন নিয়ে যাচ্ছেন পদ্মা সেতু দেখতে।তারা ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সময় রাতে জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার সামনে সময় কাটাচ্ছেন। দিনের আলোয় পদ্মা পাড়ি দিয়ে আবার রাতের আলো পদ্মা সেতুর অপূর্ব সৌন্দর্য অবলোকন করে ঢাকায় ফিরছেন।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলীরা জানান, ২৫ জুনের পর থেকে দর্শনার্থীরা দিনে পদ্মা সেতু দেখতে আসছেন।ঈদের দিন থেকে দিনের পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার আশপাশে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে।

পদ্মা সেতু দেখতে এসে ভাঙ্গা বিশ্বরোড এলাকায়ও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় জমছে। পদ্মা সেতু পার হওয়ার পর মোড়ে মোড়ে হাজারও মানুষের ঢল চোখে পড়ছে। ভাঙ্গার অন্যতম সৌন্দর্যে ভরা গোলচত্বরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের ঢল নামছে ঈদের দিন থেকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মা সেতু পার হওয়ার পর কাঁঠালবাড়ি ঘাটে পর্যটকদের ভিড় জমে উঠেছে। সেখানে পর্যটকরা নিজেরা রান্নাবান্না, পদ্মা নদীতে গোসল করাসহ আনন্দে দিন কাটাচ্ছেন। তারা মনে করেন, পদ্মা সেতু দেখেছি, এর পর নদীতে গোসল করে মনে হয়েছে কক্সবাজারে এসেছি। দিন পার হচ্ছে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। পদ্মা সেতু পার হওয়ার পর থেকে মোড়ে মোড়ে বেশ কিছু দোকানপাট, একটা শিশুপার্ক এবং ভাসমান হোটেল গড়ে উঠেছে।

ভাঙ্গা ফ্যামিলি ড্রিম পার্কের ম্যানেজার নাজমুল ইসলাম জানান, ভাঙ্গায় আনন্দ-বিনোদনের জন্য সরকারী বা বেসরকারীভাবে কোন পার্ক ছিল না। আমরা ভাঙ্গার গোলচত্বর মোড়ের ছোট পরিসরে শিশুসহ সব বয়সের মানুষকে বিনোদনের জন্য একটি পার্ক নির্মাণ করছি।

তিনি বলেন, সোমবার সকালে পার্কটি চালুর পর থেকে এলাকাসহ ঢাকা থেকে সব বয়সের মানুষের উপচেপড়া ভিড় জমে উঠছে। বেশ ভাল টাকা আয় হচ্ছে। এই পার্কটি দিন দিন মানুষের আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মাওয়া প্রান্ত ॥ একই অবস্থা পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে। ঈদের ছুটিতে স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেখতে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। ঈদের পরদিন বিকেল থেকে দূর-দূরান্ত হতে বন্ধু ও পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন অনেকে। বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে নদী তীরজুড়ে।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা হৃদয় হাসান বলেন, ‘পাঁচ বন্ধু মিলে নারায়ণগঞ্জ থেকে যাত্রাবাড়ী আসি। এরপর যাত্রাবাড়ী থেকে বাসে করে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে এসেছি। আসলে এই সেতু আমাদের গর্বের জিনিস। পদ্মা সেতু দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। ঢাকা পার হতেই বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ের সড়ক দেখে আমরা মুগ্ধ।’

অনেক পর্যটক শিমুলিয়া ঘাটে এসে ১৫০০ টাকা দিয়ে ট্রলার ভাড়া করে সেতুর কাছাকাছি গিয়ে সেতু দেখে আসছে। অনেক পর্যটক স্পিড বোটে করেও কাছাকাছি গিয়ে পদ্মা সেতু দেখছে।

মুন্সীগঞ্জ সদর থেকে আসা ইসমাইল তালুকদার সামি বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতু। এই সেতু ঘিরে আমাদের অনেক আশা এখন বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ট্রলারে করে সেতুর কাছাকাছি ঘুরে বেড়ালাম। যদি সেতুর উপরে উঠতে পারতাম তাহলে আরও ভাল লাগত।’

ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই মানুষের ভিড় নামে পর্যটন এলাকায়। এবার সেই ঈদকে ঘিরে পর্যটনের সব সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে পদ্মা সেতু। পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘ পথ কম সময়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা হওয়ায় এবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটনে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অগ্রিম শতভাগ হোটেল মোটেল বুকিং হয়ে গেছে কুয়াকাটায়।কুয়াকাটা ছাড়াও এই অঞ্চলের পর্যটন এলাকা ঘিরে আকর্ষণীয় প্যাকেজও ঘোষণা করছে ট্যুর অপারেটররা।

জানা যায়, পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটন এলাকায় মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ঘিরে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে পর্যটকরা। আগে যেখানে ঢাকা থেকে দক্ষিণের সাগরকন্যা কুয়াকাটায় যেতে সময় লাগত ১০ ঘণ্টা। পার হতে হতো অনেক ফেরি। পদ্মা সেতু হওয়ায় সেখানে যেতে সময় লাগছে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা।যার কারণে এবার ঈদে ব্যাপক সাড়া মিলেছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে। কুয়াকাটায় হোটেল-মোটেল সব মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ১৫০টি। এসব হোটেল-মোটেল এবার ঈদে ছিল পর্যটকে ঠাসা। এবার প্রায় ৮০ হাজার পর্যটক ঈদের পর দিন থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত কুয়াকাটা ভ্রমণ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্যুর অপারেটরস এ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি আমূল পরিবর্তন এসেছে। যাদের নিজস্ব গাড়ি আছে তারা এবার তাদের নিজেদের গাড়ি নিয়ে কুয়াকাটা এসেছেন। তিনি জানান, কুয়াকাটায় হোটেল-মোটেলে রাত্রি যাপন করতে পারছেন ১০-১৫ হাজার মানুষ। এছাড়া আশপাশে আরও কিছু ঘর আছে সেখানেও প্রায় ৩ হাজার মানুষ থাকতে পারছে। এছাড়া অনেক পর্যটক দিনে এসে আবার চলে গেছে।

প্রতিদিন সকালে এক কাপ লাল চায়ের এত গুণ!

প্রতিদিন সকালে এক কাপ লাল চায়ের এত গুণ!
www.tourism-bd.com

হালকা লিকার চা দিয়ে দিন শুরু করে আরাম পাওয়া যায় বেশ। কিন্তু এই পানীয় কি শরীরের জন্য ভাল? না কি প্রতিদিন চা পান করলে ক্ষতি হতে পারে শরীরের?

চা খাওয়া নিয়ে নানাজনের নানা মত থাকে। কেউ বলেন, চা খেলে ক্ষতি হবে। কেউ বা বলেন বিশেষভাবে চা খেতে হবে।

কিন্তু প্রতিদিন সকালে যদি এক কাপ লাল চা, তাতে শর্করা না মিশিয়ে পান করলে কী লাভ হতে পারে?

১. সকাল যদি শুরু করা যায় এক কাপ চা দিয়ে, তবে শরীর আর্দ্র থাকবে। সারাদিন অনেক খাটনিও গায়ে লাগবে না।
২. নানা ধরনের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট আছে এই পানীয়তে। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাই সাহায্য করে লাল চা।
৩. খালি পেটে চা খেলে আরও একটি উপকার হয় শরীরের। খাদ্যানালীতে জমে থাকা সব ধরনের ব্যাক্টেরিয়া দূর হয়।
৪. হার্টের সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের জন্য বেশ কার্যকর এই পানীয়। সকালে এক কাপ লাল চা নানাভাবে যত্ন নেয় হৃদযন্ত্রের।
৫. বর্ষায় গলাব্যথা, সর্দি অনেকের লেগেই থাকে। সকালে এক কাপ গরম চা গলায় আরাম দেবে।
৬. বৃষ্টিভেজা সকালে কাজ করার ইচ্ছাও কম থাকে। কিন্তু সকালে এক কাপ চা সতেজ করে শরীর-মন। এতে কাজের ক্ষেত্রে সাহায্য হয়।

অ্যালোভেরার ঔষধি গুণ

 

প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন ভেষজ উদ্ভিদ অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর গুনের কোনো সীমা পরিসীমা নেই। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, জিংক, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফলিক অ্যাসিড, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিন-এ, বি৬ ও বি২ ইত্যাদি, যা স্বাস্থ্যরক্ষার বিভিন্ন কাজে লাগে।

অ্যালোভেরার গুণাগুণ:

অ্যালোভেরার ঔষধি গুণ রক্তচাপ কমায় এবং রক্তে কোলেস্টেরল ও চিনির মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে সাহায্য করে।

অ্যালোভেরায় মিনারেল, অ্যামিনো অ্যাসিডসহ নানা পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। যা হাড় ও মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে।

দেহে ক্ষতিকর পদার্থ প্রবেশ করলে তা অপসারণ করতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা।

অ্যালোভেরা প্রাকৃতিক ওষুধের কাজ করে। বিভিন্ন চর্মরোগ ও ক্ষত সারায় এটি। অনেক সময় প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় অ্যালোভেরা।

অ্যালোভেরার জুস ক্লান্তি দূর করে দেহকে সতেজ করে।

নিয়মিত অ্যালোভেরার রস পান করলে হজম শক্তি বাড়ে। পরিপাক তন্ত্রের নানা জটিলতা সারাতেও সাহায্য করে অ্যালোভেরা।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যালোভেরা। এটি দেহে সাদা ব্লাড সেল গঠন করে যা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে।

সুষম খাদ্যের পাশাপাশি নিয়মিত অ্যালোভেরার রস পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

ওজন কমাতে অ্যালোভেরার জুস অনেক বেশি কার্যকরী। অ্যালোভেরা জুসের অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান শরীরের জমে থাকা মেদ দূর করে এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ওজন কমাতে সাহায্য করে।

পদ্মা সেতু দেখতে জাজিরা প্রান্তে দর্শনার্থীদের ভিড়

বিলাসবহুল রিয়াংগং হোটেল: যে কারণে আজও পা রাখেননি কোনো পর্যটক!

www.tourism-bd.com

এক হাজার ৮০ ফুট উচ্চতার এক বিলাসবহুল হোটেল, যেন শহর ছাড়িয়ে মাথা তুলেছে মেঘের রাজ্যে। পিরামিডের আদলে নান্দনিক ত্রিকোণ শেপ আর স্থাপত্যের অভিনবত্ব ভ্রমণপিপাসুদের স্বর্গ করে তুলেছে তাকে। ঝাঁ চকচকে আভিজাত্যে মোড়া এই হোটেলে রয়েছে অতিথিদের জন্য আধুনিক মানের সমস্তরকম সুযোগ-সুবিধা। এক কথায় পৃথিবীর যেকোনো দামি হোটেলের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে রিয়াংগং হোটেল। রূপে গুণে অদ্বিতীয় হয়েও তবু এই হোটেল যেন অভিশপ্ত।

গত ৩০ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে নিঃসঙ্গ সম্রাটের মতো একেবারে একা দাঁড়িয়ে রয়েছে এই হোটেল। আজ অবধি একজন মানুষও পা রাখেনি। অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন নিশ্চয়ই, এমন নান্দনিক বিলাসবহুল হোটেলে যেখানে পর্যটকদের ভিড় জমে যাওয়ার কথা, সেখানে এমন শূন্যতা কেন? আজ অবধি একজন পর্যটকও কেন রাত কাটায়নি এই হোটেলে? তবে কি ব্যাপারটা ‘ভূতুড়ে’?

আসুন তাহলে, জেনে নেওয়া যাক উত্তর কোরিয়ার রিয়াংগং হোটেলের এই দুর্ভাগ্যের কাহিনি।

আজ থেকে ৩০ বছর আগে তৎকালীন হিসেবে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা হয়েছিল এই হোটেল। হোটেলটি নির্মানে সময় লেগেছিল পাক্কা ছয় বছর (১৯৮৭-১৯৯২)। ৩৯ লাখ স্কয়ার ফিট জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই রিয়াংগং হোটেল। যা উচ্চতায় প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের থেকেও বড়। এই গগনচুম্বী অট্টালিকার সঙ্গে তুলনা করলে আশেপাশের বহুতল বাড়িগুলোকে পিগমির মতো মনে হয়। দুটো দশটা নয় এই হোটেলে পর্যটকদের রাত্রিবাসের জন্য মজুত রয়েছে তিন হাজার ঝাঁ চকচকে বিলাসবহুল রুম। নামী-দামি ইন্টিরিয়রদের হাতে সেজে উঠেছে এই হোটেলের শয়নকক্ষগুলো। রাতের বেলায় বুর্জ খালিফার আলোর খেলা তো পৃথিবী বিখ্যাত।

উত্তর কোরিয়ার এই হোটেলের দেওয়ালেও প্রতি সন্ধ্যায় ফায়ারওয়ার্কের লাইভ শো হয়ে থাকে, যেন বুর্জ খলিফার মতোই। এই আলোর খেলা পুরো শহরটাকেই যেন মাতিয়ে তোলে রঙিন আলোয় রোশনাইয়ে।

অনেকেই ভাবছেন, যে এত অসাধারণ হোটেল, অথচ তার সম্পর্কে আজ পর্যন্ত তেমন কিছুই জানা যায় না কেন? এর প্রধান কারণ, রিয়াংগং নামের ১০৫ তলার এই বিশাল হোটেলটি অবস্থান করছে নর্থ কোরিয়ার ক্যাপিটাল পিয়াং ইয়ং শহরে। উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক অবস্থা বা অবস্থান নিয়ে নতুন করে বলার কিছুই নেই। উত্তর-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির উত্তরে চীন, উত্তর-পূর্বে রাশিয়া, পূর্বে জাপান সাগর, দক্ষিণে দক্ষিণ কোরিয়া এবং পশ্চিমে পীত সাগর অবস্থিত।

নিজেদেরকে ডেমোক্রেটিক বা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে দাবি করে ঠিকই, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উত্তর কোরিয়া এমন একটি দেশ যার শাসনক্ষমতার টুঁটি ধরা আছে একটি মাত্র পরিবারের হাতে। ১৯৪৮ সাল, মানে একেবারে জন্মলগ্ন থেকেই উত্তর কোরিয়ার শাসনক্ষমতা দখল করেছে আছে সেখানকার বিখ্যাত কিম পরিবার।

বিগত ৭৪ বছর ধরে উত্তর কোরিয়ার সিংহাসন দখল করে আছে এই একটিই পরিবার, তারাই এ দেশে গণতন্ত্রের শেষ কথা। কীভাবে? উত্তর কোরিয়া এমন এক দেশ যেখানে প্রতিবছর নির্বাচন হয় নিয়ম মেনে। ভোটাধিকার প্রয়োগও করেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু তারা ভোট দেন কাকে? প্রার্থী তো একজনই। আর সেই ক্যান্ডিডেট নিঃসন্দেহে নর্থ কোরিয়ার সুপ্রিম লিডার অর্থাৎ কিম পরিবারেরই একজন। সোনার পাথরবাটির মতো প্রায় বিরোধীশূন্য এই গণতন্ত্র জন্মলগ্ন থেকেই বয়ে বেড়াচ্ছে আম্নোক আর তুমান নদীর দেশ।

রাজনৈতিক কূটকচালিতে না গিয়েও একটা কথা বলাই যায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তর কোরিয়ার শত্রু অনেক। অন্য দেশের সঙ্গে এই দেশের সে অর্থে প্রায় কোনো রকম বাণিজ্যিক সম্পর্কই নেই বললেই চলে। বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনাও হাতেগোনা। একটা সামান্য পরিসংখ্যান দেওয়া যাক। প্রতিবছর উত্তর কোরিয়া ভ্রমণে আসেন কমবেশি লাখ লাখ পর্যটক। এর ঠিক পাশের দেশ অর্থাৎ দক্ষিণ কোরিয়াতে সেই সংখ্যাটাই প্রতিবছরে ১৭৫ লাখ। অর্থাৎ উত্তর কোরিয়ার তুলনায় প্রায় ৫৮ গুণ বেশি পর্যটক পায় দক্ষিণ কোরিয়া।

এখন প্রশ্ন হলো, যেহেতু নিয়মকানুনের এমন বজ্র আঁটুনি আর পর্যটকের সংখ্যাও প্রায় হাতেগোনা, তাহলে কি দরকার ছিল কোটি কোটি ডলার খরচ করে তিন হাজার শয্যাবিশিষ্ট ১০৫ তলার এত বিশাল হোটেল তৈরি করার? এর পিছনেও আছে এক গল্প। ১৯৮৬ সালের কথা, ইউনাইটেড স্টেট এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ঠান্ডা যুদ্ধ চলছে তখন। এই ঠান্ডা যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের পক্ষ নেয় উত্তর কোরিয়া। অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়া বেছে নেয় ইউনাইটেড স্টেট বা আমেরিকার পক্ষ। আগেই বলেছি ঠান্ডা যুদ্ধ, অর্থাৎ কোনো রকম অস্ত্রের ব্যবহার নয়, কেবলমাত্র কূটনীতির সাহায্যে নিজেদের ক্ষমতা তুলে ধরাই ছিল এই যুদ্ধের মূল লক্ষ্য। যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক, এই ঘটনার পর থেকেই একটা পাকাপাকি চিড় পড়ে যায় উত্তর আর দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কের মধ্যে। একে অপরের প্রতিস্পর্ধী শক্তি হিসেবে জেগে ওঠে তারা। প্রতিবেশীর বদলে কীভাবে যেন দুজনেই দুজনের শত্রু হয়ে যায়। শুরু হয় রাজনৈতিক ইগোর লড়াই। প্রত্যেক ক্ষেত্রে একে অপরের চেয়ে এগিয়ে থাকার চেষ্টা। নিজের রাজনৈতিক তথা কূটনৈতিক অবস্থানকে ধ্রুব দেখানোর প্রয়াস। আর দুই দেশের এই ইগোর প্রতিযোগিতায় বলি হয় হোটেল রিয়াংগং।

১৯৮৬ সাল নাগাদ সিঙ্গাপুরে সব থেকে উঁচু এক বিলাসবহুল হোটেল তৈরি করে দক্ষিণ কোরিয়া। যেটা আজ স্ট্যামফোর্ড হোটেল নামে পরিচিত। এছাড়াও সেসময় ১৯৮৮ সালের অলিম্পিকের জন্যও জোরকদমে প্রস্তুতি নিচ্ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। বলা চলে, পুরো পৃথিবীর নজর এসে পড়েছিল কারিয়া প্রণালীর পাশের এই দেশটার দিকে। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিবেশীর এই বাড়বাড়ন্ত মেনে নিতে পারছিল না উত্তর কোরিয়া। সেসময় নর্থ কোরিয়াতেও একটি বিশাল ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়। প্রায় অলিম্পিকের সমতুল্য এই ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করতে ব্যয় হতে থাকে রাজকোষাগারের কোটি কোটি টাকা।

১৯৮৯ সাল নাগাদ এই উৎসব হওয়ার কথা ছিল। দেশ বিদেশ থেকে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতেন ২২ হাজার অ্যাথলিট। সেইসময় দেড় লাখ লোক বসতে পারে এমন একটি ব্র্যান্ড নিউ স্টেডিয়াম এবং অংশগ্রহণকারীর জন্য তিন হাজার রুম বিশিষ্ট একটি হোটেল বানানোর সিদ্ধান্ত নেয় নর্থ করিয়া। এই হোটেলটি ১০৫ তলাবিশিষ্ট হওয়ার কথা ছিল, যা উচ্চতায় অনায়াসে ভেঙে দেবে দক্ষিণ কোরিয়ার স্ট্যামফোর্ড হোটেলের ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। শুধু তাই নয়, সেই সময় গোটা পৃথিবীতে মাত্র একুশটি বিল্ডিং এমন ছিল যাদের উচ্চতা ১০০ তলার উপর। সোজা কথায় উচ্চতার হিসেবে সেসময় রিয়াংগং হোটেলই হতে পারত বিশ্বের সর্বোচ্চ হোটেল।

স্রেফ প্রতিযোগিতায় একটা দেশকে টেক্কা দেওয়ার জন্য তখন মরিয়া নর্থ কোরিয়া। বেশ জোরশোরসেই এই অভিনব নতুন হোটেলের ঘোষণা করে দিয়েছিল তারা।

তখন কে জানত পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু হোটেল বানানোর স্বপ্নই একদিন কাঁটার মতো বিঁধে যাবে তাদের গলায়। কিন্তু বাস্তবে সেটাই হলো। এত উঁচু বিল্ডিং বানানোর জন্য যে পরিমাণ ইস্পাত প্রয়োজন, ততখানি পর্যাপ্ত স্টিল নর্থ কোরিয়ার ভাঁড়ারে মজুত ছিল না। এই হোটেলের একদম উপরের ফ্লোরের রেস্টুরেন্টে পৃথিবীর সবথেকে উঁচু অবজারভেশন ডেক বানানোর কথাও ছিল। সত্যি কথা বলতে, হোটেল রিয়াংগং-য়ে যে আধুনিক প্রযুক্তিগত সুযোগ রাখার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল, তা যদি সম্ভব হতো তাহলে শুধুমাত্র সাউথ কোরিয়াকেই নয়, ইগো আর প্রযুক্তির লড়াইয়ে পৃথিবীর তাবড় তাবড় দেশকেই পিছনে ফেলে দিতে পারত উত্তর কোরিয়া।

কিন্তু বিধি বাম। ১৯৮৭ সালে হোটেলের কনস্ট্রাকশনের কাজ শুরু করা হয় বটে, কিন্তু ১৯৮৯ সালে যখন ওয়ার্ল্ড ফেস্টিভেল শুরু হয় তখন তিন হাজার রুমবিশিষ্ট এই হোটেলের নির্মাণকাজ অর্ধেকও শেষ হয়নি। তখন সম্মান বাঁচানোর জন্য টেকনিক্যাল সমস্যার দায় দিয়ে সেযাত্রা পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়।

অবশ্য এত সহজে দমে যাওয়ার পাত্র নয় কিম পরিবার। হার না মেনে হোটেলের নতুন ওপেনিং ডেট ঘোষণা করে তারা। সেই বিশেষ দিনটি ছিল আবার উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম লিডার কিম উন সুনের ৮০ তম জন্মদিন। এটা ১৯৯২ সালের কথা। হোটেলের সাইটের কাজ জোরকদমে চালু করা হয় আবার। কিন্তু ভাগ্য কোনোভাবেই সঙ্গ দিচ্ছিল না কিমদের।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যায়। যেহেতু ঠান্ডা যুদ্ধের গোড়া থেকেই সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ছিল, তাই এই ভাঙনের প্রভাব একেবারেই এড়িয়ে যেতে পারেনি উত্তর কোরিয়া। এই উত্থানপতনের ভিতরে একেবারে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে নর্থ কোরিয়ার অর্থনীতি। অর্থনৈতিক আনুকূল্যের অভাব, ভাড়ে মা ভবানী দশা, বিশ্ব রাজনীতিতে একঘরে হওয়ার ভয়- সাঁড়াশির মতো চেপে ধরে। টাকার অভাবে বিল্ডিংয়ের কনস্ট্রাকশনের কাজ শেষ হওয়ার আগেই তা স্থগিত করে দেওয়া হয়। হোটেলের ওপেনিং-এর যে আশ্বাস সবাইকে দেওয়া হয়েছিল দ্বিতীয়বারের জন্যও ফেল হয়ে যায় তা। এর ফলে একদিকে যেমন অসমাপ্ত থেকে যায় রিয়াংগং হোটেলের নির্মাণকাজ, তেমনই অন্যদিকে পৃথিবী জুড়ে হাসিঠাট্টার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় উত্তর কোরিয়ার এই স্ফীতোদর দম্ভ।

সেই থেকে আজ পর্যন্ত রাজধানীর বুকে একইভাবে একা একা দাঁড়িয়ে আছে রিয়াংগং হোটেলের স্ট্রাকচার। সৌন্দর্য বাড়ানোর পরিবর্তে একটি কালো দাগের মতো উত্তর কোরিয়ার কলঙ্কচিহ্ন এই হোটেল। একসময় এই সম্পূর্ণ স্ট্রাকচারটিকে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এতে পুরো পৃথিবীর সামনে আরো বেশি কলঙ্কিত হতে হবে এই ভয়ে সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হঠতে হয় উত্তর কোরিয়া সরকারকে।

এর অনেক বছর পর ২০০৮ সাল নাগাদ রিয়াংগং নিয়ে নতুন করে চুক্তি করা হয় একটি ইজিপশিয়ান কোম্পানির সঙ্গে। সেই চুক্তি অনুসারে স্থির হয়, এই কোম্পানি তাদের নিজেদের অর্থ দিয়ে নির্মাণের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করবে। হোটেলের পরিচালনার দায়িত্বেও থাকবে এই কোম্পানি। সেই সময় মারা গিয়েছিলেন নর্থ কোরিয়া সুপ্রিম লিডার কিম আল সাংতো। শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে ঠিক করা হয় সুপ্রিম লিডারের ১০০ তম জন্মদিন অর্থাৎ ২০১২ সালে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে এই হোটেল।

ইজিপশিয়ান ঐ কম্পানি সর্বপ্রথম বিল্ডিংটিতে উইন্ডো প্যানেল লাগায়, যাতে ওটি শহরের সৌন্দর্য নষ্ট না করে। কিন্তু অন্দরসজ্জার কাজ শুরু করার সময় আরো একটি বড় সমস্যা দেখা দেয়। ২০১১ সালে কিম জং উন উত্তর কোরিয়ার সিংহাসনে বসেই এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেন যার ফলে চটে গিয়ে নর্থ কোরিয়াতে বিলাসবহুল পণ্য রফতানি করা বন্ধ করে দেয় আমেরিকা। এর ফলে শুরু হয় নতুন সমস্যা। হোটেলের অন্দরসজ্জার জন্য যেসব আসবাবপত্রের প্রয়োজন হতো তা নর্থ কোরিয়া আমদানি করতে পারছিল না। হোটেল উদ্বোধনের জন্য নির্দিষ্ট করা তারিখে আরো একবার বিশ্বের দরবারে মুখ পোড়ে উত্তর কোরিয়ার।

পৃথিবীর সবথেকে উঁচু হোটেল হিসেবে যার বিশ্ব রেকর্ড করার কথা, সেই হোটেলের নাম গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ডে ওঠে বটে, কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য কারণে। গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী এটি পৃথিবীর সব থেকে বড় বিল্ডিং, যা গত ৩০ বছর ধরে একদম খালি পড়ে রয়েছে। আজও এই হোটেলের দেওয়ালে রাতের বেলায় চমৎকার রঙিন আলো দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু হোটেলের ভেতরে বিরাজ করে আশ্চর্য এক স্তব্ধতা। হোটেলটি কি আদপেও কোনোদিন সম্পূর্ণ হতে পারবে? এ প্রশ্নের উত্তর দেবে অনাগত আগামী।

ঘুরে আসুন চিনি মসজিদ

ঘুরে আসুন চিনি মসজিদ
www.tourism-bd.com

বাংলাদেশে যে কয়টি মসজিদ ঐতিহাসিক নিদর্শনের মধ্যে পড়ে, চিনি মসজিদতার মধ্যে অন্যতম। শৈল্পিক কারুকাজ ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য হিসেবে চিনিমসজিদের রয়েছে বিশেষ খ্যাতি। রংপুর বিভাগের নীলফামারী জেলারসৈয়দপুর উপজেলায় অবস্থিত এই ঐতিহাসিক চিনি  মসজিদ। এই মসজিদে পাঁচশতাধিত মানুষ এক সঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।

১৮৬৩ সালে হাজি বাকের আলী ও হাজি মুকুল নামের স্থানীয় দুই বাসিন্দাসৈয়দপুর উপজেলা শহরের ইসবাগ এলাকায় বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সর্বপ্রথম এইমসজিদের গোড়াপত্তন করেন। পরবর্তী সময়ে এলাকাবাসীর সহায়তায়মসজিদটিকে টিনের মসজিদে রূপান্তর করা হয়। এর পর এলাকার লোকজনমসজিদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেন।

১৯২০ সালে হাফেজ আবদুল করিমের উদ্যোগে সর্বপ্রথম মসজিদের প্রথম অংশ পাকা করা হয়। এ সময় মসজিদের দৈর্ঘ্য ছিল লম্বায় ৪০ ফুটও প্রস্থে ৩৯ ফুট। ১৯৬৫ সালে মসজিদের দ্বিতীয় অংশ পাকা করা হয় এবং ১৯৮০র দশকে মসজিদের শেষ অংশ পাকা করা হয়।

কারুকার্যের জন্য সুদূর কলকাতা থেকে মর্মর পাথর ও চীনামাটির নকশা করা থালা আনা  হয়। মসজিদের অধিকাংশ কারুকাজ চীনামাটির।মসজিদের নকশার কারিগরও কলকাতা থেকে আনা হয়েছিল। মসজিদের সৌন্দর্য বাড়াতে দেয়ালে চীনামাটির থালা ও কাচের টুকরা বসানোহয়। এই পদ্ধতিকে ‘চিনি করা’ বা ‘চিনি দানার’ কাজ বলা হয়। ধারণা করা হয় এখান থেকেই এর নামকরণ হয় চিনি মসজিদ। আবার কেউকেউ বলেন পুরো মসজিদে চীনামাটির কাজ রয়েছে। এ কারণেও এর নাম চিনি মসজিদ হতে পারে।

চিনি মসজিদ নির্মাণে মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করা হয়েছে। মসজিদের দেয়ালে ফুলদানি, ফুলের ঝাড়, গোলাপ ফুল, একটি বৃন্তেÍএকটি ফুল, চাঁদ-তারাসহ নানা কারুকার্য অঙ্কিত করা আছে।

মসজিদ তৈরিতে প্রচুর মার্বেল পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদটিতে ২৭টিবড় মিনার, ৩২টি ছোট মিনার ও তিনটি বড় গম্বুজ রয়েছে। দোতলা মসজিদে প্রবেশ পথের পাশে আজান দেওয়ার জন্য মিম্বার রয়েছে।মসজিদে ২৪২টি শংকর মর্মর পাথর রয়েছে। মসজিদের বারান্দা সাদা মোজাইক পাথর দ্বারা আবৃত। মসজিদের সম্পূর্ণ অবয়ব রঙিন পাথরেমোড়ানো। মসজিদে প্রবেশের জন্য উত্তরে ও দক্ষিণে একটি করে প্রধান দরজা আছে। মসজিদের দোতলায় একটি ভবনসহ একটি মেহমানখানাআছে। সেখানে পর্যটকদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও আছে।

যাতায়ত : রাজধানী ঢাকা থেকে বিমানে সৈয়দপুর যাওয়া যায়। আবার রাজধানী ঢাকা বা দেশের যে কোনো স্থান থেকে সড়ক পথেসৈয়দপুরে যেতে হবে। সৈয়দপুর শহরের ইসবাগ এলাকায় এই চিনি মসজিদ অবস্থিত। ঢাকা থেকে ট্রেনেও যাওয়া যায়।

থাকা-খাওয়া :  সৈয়দপুর শহরে আছে বেশ কিছু ভালো ও মধ্যম মানের আবাসিক হোটেল। সৈয়দপুর হচ্ছে অবাঙালি বিহারি মুসলিমজনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকা, ফলে এখানে নানা রকমের মুখরোচক খাবারও পাওয়া যায়।

ফকিরহাটে চিত্রা নদীর পাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মূখরিত

ফকিরহাটে চিত্রা নদীর পাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মূখরিত

বাগেরহাটের ফকিরহাটে ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে মূলঘরের গোদাড়া গেট সংলগ্ন চিত্রা নদীর পাড়ে। এখানে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে না উঠলেও মিনি সুন্দরবনকে ঘিরে দর্শনার্থীরা প্রকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য ছুটে আসছেন।

যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ফকিরহাট ও চিতলমারীর চিত্রা নদীর দু’পাড়ে বিভিন্ন জাতের অসংখ্য গাছের চারা রোপন করেছে। দর্শনার্থীদের বিভিন্ন স্থানে বসার আসন তৈরী করেছে। যেখানে মানুষ এসে নদীর পাড়ে বসে প্রকৃতিক সোন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা দেখা যায়, ঈদের দিন দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে এই স্থানটি। নতুন পোশাকে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষ এই চিত্রা নদীর পাড়ে আসছেন। ট্রলারে করে মিনি সুন্দরবনে ঘুরে ঘুরে সময় কাটাচ্ছেন।

দর্শনার্থীরা বলেন, গতবার করোনার কারণে ঈদের দিনটি ভালো মতো কাটাতে পারিনি। এবার ঘুরতে এসে খুবই ভালো লাগছে। তাই খুশির মুহূর্ত অনেকেই মোবাইলে ফ্রেমবন্দি করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ হারমোনিয়াম, গিটার ও তবলা নিয়ে গানের আসর বসিয়েছেন। একটু আনন্দ উপভোগ করতে সেখানেও মানুষের ভীড় দেখা গেছে।

এক কথায় হইহুল্লোড়, আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেছে এই চিত্রা নদীর পাড়টি। ঈদ আনন্দে মুখর হয়ে উঠে এখানে।ঈদের দিন বিকাল থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে এখানে। পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে ছুটে আসছেন এখানে।

অনেকে নদীর পাড়ে ও সেতুতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। কেউবা টিকটক তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন।

অনেকেই বলেন ঘুরে বেড়ানোর মতো পরিবেশ হয়েছে। খুবই ভালো লাগছে। মিনি সুন্দরবনে ঘুরে বেড়ানোর মত প্রকৃতির সান্নিধ্যে সকলেই নিজেদের উজার করে দিচ্ছেন।

তবে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, এই নদীর পাড়ে মিনি সুন্দরবনকে ঘিরে এখানে বিনোদন কেন্দ্র করা হলে খুব ভাল হবে। দুর-দুরন্ত থেকে এখানে দর্শনার্থীরা আসবেন প্রকৃতির সোন্দর্য উপভোগ করতে।

পথে পথে ছড়িয়ে আছে সৌন্দর্য

পথে পথে ছড়িয়ে আছে সৌন্দর্য
www.tourism-bd.com

ভ্রমণের ব্যবহারিক অর্থ নানানরকম। যেমন প্রাতকালীন ভ্রমণ, বৈকালীন ভ্রমণ, নদীর পারে ভ্রমণ, জ্যোৎস্নার আলোয় ভ্রমণ, ট্রেনে-বাসে-উড়োজাহাজে-জলযানে ভ্রমণ, ইত্যাদি। আক্ষরিক অর্থে আমরা যেটা বুঝি ভ্রমণ অর্থ বেড়ানো, ঘোরাঘুরি এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় যাওয়া, অর্থাৎ পর্যটন করা। অন্য অর্থে দেশভ্রমণ। ভ্রমণ শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বিদেশ ভ্রমণও সমানভাবে উলেস্নখযোগ্য। তবে এটাও ঘটনা, মানুষের মধ্যে ভ্রমণের আবশ্যিক দিক নিজের দেশকে জানার, বোঝার, দেখার। নিজের জন্মস্থানের গাঁ-গঞ্জ-শহর-নগর থেকে বেরিয়ে দেশের ও বিদেশের অন্যত্র ভ্রমণের মাধ্যমে জানাটা ভ্রমণের মুখ্য উদ্দেশ্য। তা ছাড়া দিনের পর দিন একই পরিবেশের জীবনযাপন থেকে ক্ষণিকের মুক্তি।

এই ভূখন্ডকে জানার জন্য প্রয়োয়জন দেশ ভ্রমণ। হৃদয়ের প্রসারতা ও মনের গতি আনে ভ্রমণ। তারই প্রেক্ষাপটে বেরিয়ে পড়লাম নেপাল ভ্রমণে। নেপাল হচ্ছে ভগবান বুদ্ধের জন্মদেশ। এজন্য এই দেশকে ইংরেজিতে বলে, ঘবঢ়ধষ, :যব ইরৎঃয ঢ়ষধপব ড়ভ খড়ৎফ ইঁফফযধ. তাছাড়া তুষারশুভ্র পর্বতমালা, ঘনসবুজ বনানীর উপত্যকা, জীববৈচিত্র্য আর ঐতিহ্যময় সংস্কৃতিতে ঘেরা দেশ নেপাল। মন্দিরময় শহর কাঠমান্ডু। ৭২৩ খ্রিষ্টাব্দে রাজা গুণ কামদেব কাঠমান্ডু শহরটি গড়ে তোলেন। কলকাতা থেকে বিমানে সোজা কাঠমান্ডু। কাঠমান্ডু নেপালের রাজধানী ও জনপ্রিয় শহর। কাঠমান্ডুর হোটেলে রাত্রিনিবাস। ভোরবেলায় মাউন্ট এভারেস্ট দর্শনে বেরিয়ে পড়লাম। ৮৮৪৮ মিটার উচ্চতা। এয়ারপোর্ট থেকে গুণা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট। ডান-দিক ও বাঁ-দিক মিলে দশজন-দশজন মোট কুড়িজন যাত্রী। একজন এয়ারহোস্টেস ও একজন পাইলট। ফ্লাইটটি উঠে গেল মাউন্টেন এভারেস্টের চূড়ায়। ফ্লাইটের জানালা দিয়ে অপূর্ব দৃশ্য। প্রত্যেকটা পাহাড়ের চূড়ার দৃশ্য হৃদয়ে লেগে থাকার মতো। প্রতিটা ধাপে ধাপে বোঝাচ্ছিলেন এয়ারহোস্টেস ম্যাডাম। খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য এই প্রথম। হিমালয়ের দৃশ্য দেখে অভিভূত।

এত সুন্দর হিমালয়ের রূপ, সেটা ভোরের সকালে অনেকটাই উপলব্ধি করতে পারলাম। প্রাতঃরাশ সেরে বেরিয়ে পড়লাম পশুপতি মন্দিরের উদ্দেশে। শোনা যায়, পশুপতি দেবতা নাকি খুব জাগ্রত। মন্দিরটি বলা চলে কাঠমান্ডু শহরের মধ্যেই। মূলত প্রভু শিবের মন্দির। এটি একটি হিন্দুদের পবিত্র মন্দির। কথিত আছে, একবার শিব ও পার্বতী হিমালয়ের কোলে অবস্থিত বাগমতী নদীর তীরে ভ্রমণ করতে এসেছিলেন যেটা মৃগস্থলি নামে পরিচিত। নদী তারবর্তী উপত্যকায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে দুজনে হরিণের বেশ ধরে এলাকায় ঘুরে বেড়াতে থাকেন। এখানে ভগবান শংকর মৃগরূপ ধারণ করেন। নেপাল মাহাত্ম্যে যেটা বলা হয়েছে সেটা বাংলায় তর্জমা করলে দাঁড়ায়, এই শ্লেষ্মাত্মক বনক্ষেত্রে আমি ঈশ্বর মৃগরূপ ধারণ করে বিচরণ করেছি। সেহেতু ভবিষ্যতে এই বিচরণ ক্ষেত্র পশুপতি নামে বিশ্বমাঝারে পরিচিত হবে। আজ সেই পশুপতি মন্দিরে দূরদূরান্ত থেকে অনেক দর্শনার্থী ভিড় করছেন এবং পূজা দিচ্ছেন। একটা হৃদয় ছোঁয়া পরিবেশ! তারপর গেলাম পাঠান দরবারে। রাজা প্রতাপ মলেস্নর সময়ে কাঠমান্ডু দরবার ক্ষেত্র ব্যাপকভাবে নির্মিত হয়। রাজা প্রতাপ মলস্ন ছিলেন ধার্মিক ও পন্ডিত ব্যক্তি। তিনি ছিলেন শিল্পের প্রতি অনুরাগী। এ ছাড়া তিনি পনেরোটি ভাষা জানতেন। ভাষা জানাটা তার গর্বের জায়গা। প্রতাপ মলস্ন স্থাপনা নির্মাণের প্রতিও আগ্রহী ছিলেন।

এ কারণে রাজা হিসেবে অভিষেকের পরেই তিনি তার প্রাসাদ সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেন। রাজা প্রতাপ তার প্রাসাদ নির্মাণের সময় একটি ছোট প্রবেশ পথ নির্মাণ করেন। প্রবেশ পথের দরজাটি বিভিন্ন কারুকার্যমন্ডিত ছিল। তাতে বিভিন্ন দেবতার প্রতিমা স্থান পেয়েছিল। দরজাটি পরে মোহান চকে স্থানান্তরিত হয়। এর সামনে একটি হনুমানের মূর্তি স্থাপিত হয়, কারণ ভাবা হয়েছিল হনুমান রাজার সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করবে এবং তার আবাসকে রক্ষা করবে। এই প্রবেশ পথ দিয়ে নাসাই চকে যাওয়া যেত, নাসাই চকে সব ধরনের রাজকীয় অনুষ্ঠান, পরিবেশনা ইত্যাদি হতো। এই নাসাই চক দীর্ঘদিন পর্যন্ত রাজকীয় উঠোন ছিল। ধারণা করা হয়, এই উঠোনের নিচে অনেক সম্পত্তি ছিল। সে সময় রাজা প্রতাপ ‘সুন্দরী চক’ নামেও একটি উঠোন নির্মাণ করেন। এখানে তিনি প্রস্তরখন্ডে পনেরোটি ভাষায় লিখিত খন্ড স্থাপন করেন। রাজা প্রতাপ কেবল তার ঐশ্বর্য প্রকাশের জন্যই এত স্থাপনা নির্মাণ করেননি, তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল দেব-দেবীর প্রতি আরাধনা। তিনি নতুন মন্দির নির্মাণে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। এ ছাড়া পুরনো অনেক মন্দিরকে সম্প্রসারিত ও সংস্কার করেন। প্রাসাদের পাশেই তিনি একটি কৃষ্ণ মন্দির নির্মাণ করেন ১৬৪৯ সালে, যার নাম ভামসাগোপালা। এই মন্দিরটি তিনি তার দুই স্ত্রীকে উৎসর্গ করেন, একজন রূপমতি এবং অন্যজন রাজামতি। এই দুইজনেই একই বছরে মারা যান। মূল চককে তিনি সম্পূর্ণরূপে সংস্কার করেন।

১৬৭০ সালে তালেজু মন্দিরের জন্য তিনি বেশ কয়েকটি ধাতুর দরজা নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। ১৬৭৪ সালে রাজা প্রতাপ মলস্ন মারা যাওয়ার পর দরবার ক্ষেত্র উন্নয়নের গুরুত্ব কমে যায়। তার উত্তরাধীকারীরা ক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হন এবং সে সময়কার মন্ত্রীরা ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তাদের হাতে ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর শিল্প ও সংস্কৃতির ওপর গুরুত্ব হ্রাস পায়। রাজার মৃতু্যর পরের এই তিন দশকে সাংস্কৃতিক উন্নয়নের ধারা ক্রমেই হ্রাস পেতে থাকে। এ সময় শহরে অল্প কয়েকটি স্থাপনা নির্মিত হয়। এর মধ্যে উলেস্নখযোগ্য পার্থিভেন্দ্র মলস্ন নির্মিত দাসাভাতারা মন্দির, যা ভগবান বিষ্ণুকে উৎসর্গ করে নির্মিত। পরে গারুদার একটি বিশালাকার মূর্তি এর সামনে স্থাপিত হয়। এ ছাড়া পার্থিভেন্দ্র মলস্ন তার পরিবারের ছবিসহ একটি স্তম্ভ তালেজু মন্দিরের সামনে নির্মাণ করেন। ১৬৯২ সালে রাজা প্রতাপ মলেস্নর বিপত্নীক স্ত্রী রাণী রাধিলাসমি ভগবান শিভাকে উৎসর্গ করে একটি মন্দির নির্মাণ করেন। এটি মাজু দেভাল নামে পরিচিত এবং দরবার ক্ষেত্রের গারুদা মূর্তিটির পাশে অবস্থিত। মন্দিরটি নয়টি পস্ন্যাটফর্মের ওপর অবস্থিত এবং এটি দরবারের অন্যতম শীর্ষ স্থাপনা। এখন শহরের অন্যতম জায়গায় অবস্থিত এই পাঠান দরবার। জনগণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত। তবে দরবারে সংস্কারের কাজ এখনো পুরোদমে চলছে। প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম। তারপর গেলাম বৌদ্ধনাথ স্তূপে। বৌদ্ধনাথ স্তূপের চোখ দুটি অভিনব। বৌদ্ধনাথ নেপালের কাঠমান্ডুর একটি স্তূপ। কাঠমান্ডুর কেন্দ্র এবং উত্তর-পূর্ব সীমা থেকে প্রায় ১১ কিমি দূরে অবস্থিত। উচ্চতায় ৩৬ মিটার। এই স্তূপের বিশাল মন্ডালার জন্য এটি নেপালের বৃহত্তম গোলাকার স্তূপের মধ্যে অন্যতম। শোনা যায়, তিব্বত থেকে আসা বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠীর আগমনে বৌদ্ধের আশপাশে ৫০টির বেশি গুম্ফা (তিব্বতীয় বিহার) রয়েছে। স্তূপের আশপাশ দিয়ে বাজারের দ্রব্য সামগ্রী দর্শনার্থীদের নজরকাড়া।

তারপর বুধানীলকণ্ঠ। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় দশ কিমি দূরে শিবপুরী পর্বতমালার পাদদেশে ‘বুধানীলকণ্ঠ’। পৃথিবীর বৃহত্তম শায়িত বিষ্ণুমূর্তি। চতুষ্কোণ জলাশয়ের মধ্যে অনন্তশয়নে রয়েছে বিষ্ণুর আঠার ফুট একটি মূর্তি। একখন্ড বিশালাকার কালো পাথর কেটে তৈরি। সব থেকে আশ্চর্যের বিষয় এ ধরনের কালোপাথর কিন্তু নেপালের এই উপত্যকায় পাওয়া যায় না। পুরাতত্ত্ববিদদের মতে, রাজমহল পাহাড় থেকে প্রাপ্ত এই কালো পাথর যেটা ইংরেজিতে “জধলসধযধষ ংপযরংঃ” নামে পরিচিত। এখন প্রশ্ন, এই বিরাটাকার পাথর এখানে এল কিভাবে? আর একটিমাত্র পাথরকে খোদাই করে মূর্তি বানালেন কারা? সেখানকার বৃদ্ধ পূজারি মাথা চুলকিয়ে জানালেন, একাদশ শতাব্দীতে এক চাষি চাষ করতে এসে দেখলেন মাটি ফেটে রক্ত বের হচ্ছে! কৌতূহলবশত তিনি ডাকলেন গ্রামবাসীকে। শুরু হলো খোঁড়াখুঁড়ি। আর মাটি খুঁড়তেই বের হলো আজকের এই বিষ্ণুমূর্তি। ঐতিহাসিকদের মতে, দশম শতাব্দীতে রাজা বিজয়কামদের নেপালে নাগ ও বাসুকি পূজা শুরু করেন। তার আমলে বেশকিছু বিষ্ণুমূর্তি তৈরি হয়েছিল। এটি তার মধ্যে অন্যতম। অনন্তশয্যায় শায়িত বিষ্ণুর নাম ‘বুধানীলকণ্ঠ’। স্বয়ম্ভূনাথ নেপালের প্রাচীনতম ধর্মীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি।

স্বয়ম্ভূনাথ হলো কাঠমান্ডু শহরের পশ্চিমে কাঠমান্ডু উপত্যকার একটি টিলার চূড়ায় অবস্থিত প্রাচীন ধর্মীয় কমপেস্নক্স। কমপেস্নক্সটিতে একটি স্তূপ, বিভিন্ন মঠ এবং মন্দির রয়েছে, যেগুলো তৈরি হয়েছিল লিচাভি যুগের সময়। সাম্প্রতিক সংযোজন হচ্ছে একটি তিবতি বিহার, জাদুঘর এবং গ্রন্থাগার। কমপেস্নক্সটির দুটি প্রবেশ পথ- একটি দীর্ঘ সিঁড়ি যা সরাসরি মন্দিরের মূল পস্নাটফর্মের দিকে গেছে যেটা পাহাড়ের শীর্ষ থেকে পূর্বদিকে এবং আর একটা, দক্ষিণ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম প্রবেশ পথে। পাহাড়ের চারদিকে একটা গাড়ির রাস্তা, সিঁড়ির শীর্ষে পৌঁছানোর দর্শনীয় স্থান ‘বজ্র’। কাঠমান্ডুর শক্তিশালী রাজা প্রতাপ মলস্না, যিনি ১৭তম শতাব্দীতে পূর্ব সিঁড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। স্থানটি বৌদ্ধ ও হিন্দুদের কাছে সম্মানের। যদিও ২০১৫ সালের ভূমিকম্পে এই কমপেস্নক্সটির যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এখন স্তূপটিতে দর্শনার্থীদের কাছে খুব জনপ্রিয়। ২. সকালের প্রাতরাশ সেরে রওনা দিলাম পোখরার (চড়শযধৎধ) উদ্দেশে। পুরোটাই পাহাড়ি রাস্তা। পাহাড়, পর্বত, নদী, গাছ-গাছালি ইত্যাদি নিয়ে পাহাড়ে অপূর্ব প্রাকৃতিক সম্ভার। বাঁ-দিকে কোনো কারণে গাড়ি পড়ে গেলে উল্টাতে উল্টাতে সোজা পাহাড়ের নিচে। বাঁ-দিকে নিচে তাকালে ভীষণ ভয়! স্থানীয় এলাকার ড্রাইভার। পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালাতে খুব দক্ষ।

ফলে অনুভব করছিলাম, পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাটা খুব কম। দুদিকের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে আমরা এগিয়ে চললাম। পোখরা যাওয়ার পথে মনোকামনা মন্দির। কাঠমান্ডু থেকে ১৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে। প্রথমেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল, পোখরা ঢোকার আগে মনকামনা মন্দিরে মনকামনা দেবীর দর্শন। নেপালের গোর্খা জেলায় অবস্থিত মনোকামনা মন্দির। হিন্দু ধর্মের একটি অন্যতম শক্তিপীঠ বলে গণ্য। মনের অভীষ্ট কামনা পূর্ণ করেন, এই অভিমতের প্রেক্ষিতে অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম। রাম শাহের রানী স্বয়ং মনোকামনা দেবীর অবতার ছিলেন বলে জনশ্রম্নতি রয়েছে। দশহরার দিন দেবীর পূজার জন্য প্রচুর ভক্তসমাগম ঘটে। বড় উৎসব হচ্ছে দুর্গা-অষ্টমীতে। গোর্খার রানী মনোকামনার ঐশ্বরিক শক্তির অধিকারী ছিলেন। কথিত আছে, একদিন রাম শাহ তার নিজের স্ত্রীকে ভগবতী রূপে এবং তার স্ত্রীর ভক্ত লক্ষণ থাপাকে সিংহরূপে দর্শন করেন। তারপর হঠাৎ রাম শাহের রহস্যজনক মৃতু্য ঘটে। সেই সময় সমাজ জীবনে সতী-দাহের প্রথা রমরমা। যার জন্য রাম শাহ মারা গেলে তার স্ত্রীকে রাম শাহের সঙ্গে সহমরণে যেতে হয়েছিল। সহমরণে যাওয়ার আগে রাম শাহের স্ত্রী তার ভক্ত লক্ষণ থাপাকে বলে গিয়েছিলেন, তিনি শিগগিরই ফিরে আসবেন।

পরে রাম শাহ ও রানী মারা যাওয়ার ঠিক ছয় মাস পর একজন কৃষক চাষ করার সময় জমিতে হঠাৎ পাথরখন্ড পান। সেই পাথরখন্ড থেকে রক্ত ও দুধের ধারা বইছিল। তাই স্থানীয় মানুষের অনুমান, রাম শাহের স্ত্রী আবার ফিরে এসেছেন। স্পটে ছুটে যান লক্ষণ থাপা। তারপর লক্ষণ থাপার উদ্যোগে সেই স্থানে শুরু হয় ভগবতী দেবীর পূজা পাঠ। ওই পবিত্র ভূমি পরে পরিণত হলো মন্দির প্রাঙ্গণ। শোনা যায়, দুর্গা ও কালির মিশ্ররূপে এখানে তিনি ভগবতী দেবী। ভগবতী দেবীকে শুদ্ধচিত্তে ও নিষ্ঠার সঙ্গে ভক্তি করলে তার কৃপা মেলে। মনোষ্কামনা পূর্ণ হয়। আবার অনেকে বলে, ভগবতী দেবী নাকি দুর্গার অবতার। যাই হোক মন্দিরের দেবীকে ভগবতী, বৈষ্ণদেবী, মহেশ্বরী, ইত্যাদি নামে অনেকেই ডেকে থাকেন। পূজার সময় আবীর, কেশর বাদাম, ফুল, বেল-তুলসী পাতা, বস্ত্র, নারিকেল, মিষ্টি, পান সুপারি ইত্যাদি দিয়ে ভগবতী দেবীকে তুষ্ট করার প্রয়াস আজও অব্যাহত। মন্দিরটি ২০১৫ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ (উবঢ়ধৎঃসবহঃ ড়ভ অৎপযধবড়ষড়মু) অনেক নেপালি রুপি খরচ করে সারিয়ে মন্দিরটির বাস্তব রূপ দেন। আমরা গাড়ি থেকে কুরিন্তার স্টেশনে নামলাম। সেখান থেকে কেবল কারে (ঈধনষব ঈধৎ) মনোকামনা মন্দিরে পৌঁছালাম। কুরিন্তার থেকে মনোকামনা মন্দিরের দূরত্ব ২.৮ কিমি। নিচের জায়গা কুরিন্তার থেকে একেবারে উঁচুতে অর্থাৎ মনোকামনা মন্দিরের কাছে পর্যন্ত ১৩০২ মিটার উচ্চতা। কেবল কারে অনধিক ৬ জন মানুষ উঠতে পারে।

প্রায় ২.৮ কিমি রাস্তা কেবল কারের মাধ্যমে উঠতে সময় লাগে ২০ থেকে ২৫ মিনিট। ঝুলন্ত কার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পরিষেবা দেয়। কুরিন্তার স্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে কেবল কারে ওঠার জন্য লাইন দিলাম। সেদিন অনেক পর্যটক এক-একটা গ্রম্নপে মনোষ্কামনা মন্দিরে ভগবতী দেবীকে দর্শনে এসেছিলেন। যার জন্য আমাদের সামনে প্রায় ৪০ জনের একটি গ্রম্নপ কেবল কারে ওঠার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিল। তারা মনোষ্কামনা মন্দিরে উঠে যাওয়ার পর আমরা কেবল কারে বসার সুযোগ পেলাম। একটা নতুন অভিজ্ঞতা। কেবল কারের মাধ্যমে পাহাড়ের ওপর দিয়ে মনোষ্কামনা মন্দিরে পৌঁছানো সত্যিই আনন্দের। কেবল কার থেকে মনোষ্কামনা মন্দিরের প্রবেশদ্বারে নামার পর অনেকটা খাঁড়াই সিঁড়ি বেয়ে উঁচু পাহাড়ে উঠতে হয়। বেশ কিছুক্ষণ সিঁড়ি বেয়ে ওঠার পর মন্দির। তারপর মনোষ্কামনা মন্দিরে ঢোকার লাইন দেখে আমরা চমকে উঠলাম। প্রচুর মানুষের সমাগম। বিশাল লম্বা লাইন। লাইনটা উঁচু পাহাড়ের দিকে ক্রমশ বেড়েই চলেছে। লাইনে মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলাপরায়ণতা যথেষ্ট ঠিক আছে। কেননা নিরাপত্তাবেষ্টনী যথেষ্ট টাইট। কিন্তু ভীষণ লম্বা লাইন। সেখানেও গ্রম্নপের একজন দাঁড়ানো, বাকিদের মন্দিরের আশপাশে ঘোরাফেরা। পুজো দেওয়া হলে মন্দিরের পাশে প্রদীপ প্রজ্বলন ও ধূপবাতি জ্বালানোর জায়গা। সেখানেও প্রচন্ড ভিড়। অনেক সময় লাগল।

দেবীকে প্রণাম করার পর আমাদের শান্তি। তারপর মনোষ্কামনা মন্দির থেকে বেরিয়ে দোকানের দ্রব্যসামগ্রী দেখতে দেখতে আবার কেবল কারে কুরিন্তার স্টেশনে নেমে আসা। কাঠমান্ডু শহর থেকে ২৮ কিমি দূরত্বে নাগরকোট। শোনা যায় হিমালয়ের মোট ১৩টি পর্বত রেঞ্জের মধ্যে ৮টিই নাগরকোট থেকে দেখা যায়। যদিও সেদিন ছিল মেঘলা আকাশ। যাই হোক নেপালের এই নাগরকোট গ্রামটি ভূমি থেকে ৭২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। এখানকার লোকজন ঘুম থেকে উঠলেই আকাশের খন্ড খন্ড ভাসমান মেঘগুলো দেখতে পান। এই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। আদিবাসী মানুষ বেশি। চারদিকে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভান্ডার। পাহাড়ের সরু, উঁচু-নিচু রাস্তা নজরকাড়া। নাগরকোট টাউয়ার থেকে হিমালয় পর্বত দর্শন ভীষণ আনন্দের। চোখ জুড়িয়ে গেল। এখানে ঠান্ডাটা বেশি। বিদেশি পর্যটক চোখে পড়ার মতো। নাগরকোট সফরে অপূর্ব প্রাকৃতিক ভান্ডার দর্শনে আমরা আপস্নুত। মনোষ্কামনা মন্দির থেকে ছুটলাম পোখরার দিকে। পোখরা হল নেপালের পশ্চিমাংশে গন্ডকী অঞ্চলের অন্তর্গত কাস্কী জেলার একটি শহর। পোখরা শহরটি পার্বত্য উপত্যকায় গড়ে উঠেছে। আবার অনেকে বলে, শহরটি পোখরা উপত্যকায় গড়ে উঠেছে। পোখরা উপত্যকার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে শহরটি অবস্থিত। এই উপত্যকা দিয়ে স্বেত গন্ধকি নদী বা সাদা নদী প্রবাহিত হয়েছে। শহরটি সর্বোচ্চ ১৪৭০ মিটার ও সর্বনিম্ন ৮২৭ মিটার উঁচু।

শহরটি অন্নপূর্ণা পর্বত শ্রেণির একটা অংশে এবং হিমালয়ের মধ্য এলাকায় অবস্থিত। পোখরা নেপালের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর যেটা কিনা কাঠমান্ডু থেকে ২০০ কিমি পশ্চিমে অবস্থিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর পোখরা শহরকে ‘নেপালের ভূস্বর্গ’ ও ‘নেপালের রানী’ বলা হয়। মানুষের মধ্যে একটি প্রবাদ প্রচলিত, ‘তোমার নেপাল দেখা পূর্ণ হবে না, যদি না তুমি পোখরা দেখ’। বাস্তবে এটাই ঘটনা। এত সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য খুব কর্মক্ষেত্রে দেখা যায়। পোখরা থেকে বিশ্বের দীর্ঘতম (১৪০ কিমি) সারিবদ্ধ হিমালয় ও পাহাড়ের সারি দেখা যায়। এজন্য পোখরাকে ‘মাউন্টেন ভিউ’-এর শহর বলা হয়। এখান থেকে ‘অন্নপূর্ণা’ ও ‘মাছের লেজের’ মতো দেখতে মচ্ছ পুছরে (৬৯৭৭ মিটার) পর্বতশৃঙ্গ দেখা যায়, যা কিনা বিশ্ববিখ্যাত চারটি পর্বতশৃঙ্গের একটি।

পোখরা থেকে মুক্তিনাথ মন্দির ও জ্বালামুখী মন্দির দর্শন করা খুব সহজ। এই মন্দির দর্শনের ক্ষেত্রে আকাশ পরিষ্কার থাকাটা খুব জরুরি। তা ছাড়া এই পোখরাতে রয়েছে অনেক দর্শনীয় স্থান। ফেউয়া লেক (চযবধি খধশব), অনেকে ‘ফেওয়া’ লেক বলে থাকে। পোখরার সবচেয়ে মূল আকর্ষণ ফেউয়া লেক। ফেউয়া লেক নেপালের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক লেকের একটি। দৈর্ঘ্যে ৪ কিমি এবং প্রস্থে ১.৫ কিমি। প্রথমটির নাম ‘রারা লেক’ যা নেপালের পশ্চিম মুগু জেলার দুর্গম অঞ্চলে অবস্থিত। বলা চলে, ফেউয়া লেক পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এবং আদর্শ বিনোদন কেন্দ্র। বাকি অংশ আগামী সংখ্যায়

জবা ফুলের চায়ে মিলবে যেসব উপকার

www.tourism-bd.com

জবা ফুলে এমনিতেই বেশ কিছু ওষধি গুণ রয়েছে। আর জবা ফুল থেকে তৈরি চা এখন খুবই জনপ্রিয়। ফুলের মতো জবা ফুলের চাও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর।  এ কারণে সারা বিশ্বে জবা চায়ের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। এই চায়ে কী কী গুণাগুণ আছে তা জানলে হয়তো কেউই এটা মিস করতে চাইবেন না। এবার তা জেনে নিন…

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে

সম্প্রতি আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশ করা এক রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, এই বিশেষ চায়ে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ নিমেষে রক্তচাপকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যারা আজকাল অফিসে কাজের চাপ এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যা থেকে রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন তারা চাইলে জবা ফুলের চা খেতেই পারেন।

কোলেস্টেরল কমায়

রক্তচাপ বাড়লে এবং খাওয়া দাওয়া নিয়মমতো না হলেই বাড়ে কোলেস্টেরল। সেখান থেকে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও বাড়ে। জবার চা হার্টে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। কোলেস্টেরলও জমতে দেয় না। এ ছাড়া ব্রেন ও হার্টের কোনো রকম ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায় জবা ফুলের চা।

লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ে

সম্প্রতি বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, জবা ফুলে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়। এর ফলে লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ে। সেই সঙ্গে অনেক উপকারও পাওয়া যায়। ক্যানসারের আশঙ্কা কমে। সেই সঙ্গে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে

জবা ফুলের মধ্যে রয়েছে- প্রচুর পরিমাণ অ্যাসকরবিক অ্যাসিড। এই অ্যাসিড আমাদের শরীরে ভিটামিন সি’র চাহিদা মেটায়। সেই সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। যে কারণে সর্দি-কাশির আর্য়ুবেদিক ওষুধ তৈরিতেও জবা ফুল ব্যবহার করা হয়।

পিরিয়ডের সমস্যা মেটায়

মেয়েদের বিশেষ সময়ে যদি নিয়মিত জবা ফুল দিয়ে বানানো চা খাওয়া যায়, তাহলে পিরিয়ড ক্র্যাম্প এবং যন্ত্রণা অনেকটাই কমে। সেই সঙ্গে অন্যান্য অস্বস্তিও দূর হয়। প্রসঙ্গত, হরমোনাল ইমব্যালেন্স কমাতেও এই পানীয়টি দারুণ কাজে আসে। তাই মেয়েরা যদি প্রতিদিন এই চা পান করতে পারেন, তাহলে উপকার পাবেন।

মানসিক অবসাদ কমায়

নানা কারণে মনটা খারাপ হলে ঝটপট এক কাপ জবার চা বানিয়ে পান করুন। এমনটা করলে দেখবেন মুড একেবারে ফ্রেশ হয়ে যাবে। কারণ, এতে উপস্থিত উপকারি ভিটামিন এবং মিনারেল স্নায়ুতন্ত্রে তৈরি হওয়া প্রদাহ কমানোর পাশাপাশি অ্যাংজাইটি কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

ওজন কমায়

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত জবার চা খেলে শরীরে শর্করা এবং স্টার্চের শোষণ কমে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমতে শুরু করে। বেশ কয়েকজন গবেষক এ প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে আরেকটি বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছেন। তাদের মতে জবা ফুলের চায়ে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা শরীরে অ্যামিলেস নামক একটি উপাদানের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।

যেভাবে বানাবেন

জবা ফুলের পাঁপড়িগুলো ছিড়ে নিন সাবধানে। এবার মাঝখানের ডাঁটি ফেলে দিন। পানির মধ্যে দারচিনি বা এলাচ ফেলে ফুটিয়ে নিন। দশ মিনিট ফোটানোর পর রং বদলালে ছেঁকে নিন। মধু মিশিয়ে খান। গ্রিন টি ব্যবহার করতে পারলে খুবই ভালো।

আর জবা ফুলের পাঁপড়ি সাতদিন রোদে ফেলে শুকিয়ে তা কাঁচের জারে সংরক্ষণ করেও রাখতে পারেন। তারপর চা তৈরির সময় মিলিয়ে নিতে পারেন।

লোকালয়ে সুন্দরবনের বাঘ, আতঙ্কে লোকজন

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, খাল পেরিয়ে গোলাখালীতে একটি বাঘ এসেছিল বলে তিনি শুনেছেন। সেখানে বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গেছে।