সমুদ্র সৈকতে হদিশ মিলল নীল ড্রাগনের!

সত্যি হল পৌরাণিক কাহিনী! এতদিন বিভিন্ন রূপকথা বা সায়েন্স ফিকশনে নীল ড্রাগনের কথা শোনা গেলেও কেউ কোনওদিন চাক্ষুষ দেখেনি তাকে। ফলে বই বা সেলুলয়েডের মধ্যেই বন্দি ছিল সে। কিন্তু, ২০২০ সালে ঘটনা যাওয়া অনেক অদ্ভুত ঘটনার মাঝে এবার দেখা গেল বহু আলোচিত সেই নীল ড্রাগন (Blue Dragon) কে। যার ছবি পোস্ট হওয়ার পরেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। যা দেখে নেটিজেনরা বলছেন, সমুদ্রের সবচেয়ে সুন্দর দেখতে খুনি।

প্রতিদিনের মতো সেদিনও একাই দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের কাছে অবস্থিত ফিশ হোক বিচে ঘুরতে বেড়িয়ে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মারিয়া ওয়েজেন। সৈকতে হাঁটতে হাঁটতে আচমকা বালির উপর নীল রঙের কিছু অদ্ভুতদর্শন ছোট ছোট প্রাণীকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি। অন্যদিন স্টারফিশ-সহ বিভিন্ন ছোট ছোট প্রাণীকে সৈকতে পড়ে থাকতে দেখলে ফের সমুদ্রের জলে ছেড়ে দিতেন। কিন্তু, অচেনা এই প্রাণীকে দেখে কিছুটা ঘাবড়ে যান।

তবে একাধিক ছবি তুলতে ছাড়েননি ওই বৃদ্ধা। পরে সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করার পাশাপাশি ওই অদ্ভুতদর্শন সামুদ্রিক প্রাণীটিকে নিয়ে গবেষণা করতে শুরু করেন তিনি। আর তখনই জানতে পারে ওই গ্ল্যাকাস আটলান্টিকাস বৈজ্ঞানিক নামের ওই অদ্ভুতদর্শন প্রাণীটিকে নীল ড্রাগন বলেই ডাকেন সমু্দ্র বিজ্ঞানীরা।

এপ্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে মারিয়া ওয়েজন জানান, আগে কোনওদিন এই ধরনের সামুদ্রিক প্রাণী দেখেননি তিনি। তাই প্রথমে ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। পরে প্রায় ২০টি ওই ধরনের প্রাণীকে পড়ে থাকতে দেখে একাধিক ছবি ও একটি ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করে দেন। এবিষয়ে পড়াশোনাও শুরু করেন। আর তাতেই জানতে পারেন, সাইজে ছোট হলেও ওই সামুদ্রিক প্রাণীটি প্রচণ্ড বিষাক্ত। কোনওভাবে যদি তার শরীরে থাকা হুলগুলি মানুষ বা অন্য কোনও প্রাণীর শরীরে ফুটে যায় তাহলে সারা শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়বে। মানুষের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটলে সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হবে, ত্বকে অ্যালার্জি ও বমি হবে।

ভ্রমণ করুন নিয়ম মেনে

ছবি সংগৃহীত

করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর খুলে দেয়া হয়েছে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সুন্দরবনসহ দেশের প্রায় সব পর্যটনকেন্দ্র। তবে ভ্রমণে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।

কেবল সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে বলেই যে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, তা নয়। নিজেদের সুরক্ষার কথা ভেবেই এটি মানতে হবে। এ ছাড়া আপনি আক্রান্ত হলে শুধু আপনি নয়, আপনার পরিবার বা কাছের মানুষেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ভ্রমণে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি তার অন্যতম হলো– শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। আর পুরো ভ্রমণেই মাস্ক পরতে হবে। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে। না পরলে জরিমানাও গুনতে হবে।

এ ছাড়া হাত সবসময় জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। এ জন্য হাতের কাছে বা পকেটে সবসময় জীবাণুনাশক স্প্রে রাখুন।

বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা বিমানে যে মাধ্যমেই ভ্রমণ করুন, নিজের আসনটি অবশ্যই জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করুন। হোটেলের বিছানাও জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করুন। অথবা রুমটি জীবাণুমুক্ত কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন। রেস্টুরেন্টে খেতে গেলেও সেটি কতটা জীবাণুমুক্ত তা জেনে নিন। সব চেয়ে ভালো হয় চলাফেরায় সবসময় সঙ্গে রাখুন জীবাণুনাশক স্প্রে।
যথাসম্ভব ভিড় এড়িয়ে চলনু।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জার্নাল ‘নেচার’-এর সাম্প্রতিক সংখ্যায় একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে– হোটেল, রেস্তোরাঁ ও জিমনেসিয়ামে কোভিড সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। গত মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত আমেরিকার বিভিন্ন শহরে গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য পেয়েছে স্টানফোর্ড ও নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়। সুতরাং বলার অপেক্ষা রাখে না যে, হোটেল-রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে কতটা সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

সেন্টমার্টিন

সম্প্রতি সেন্টমার্টিনের পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় ছয় ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। কারণ সেন্টমার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপ অংশে এখনও কিছু সামুদ্রিক প্রবাল জীবিত আছে। এসব প্রবাল সংরক্ষণের জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে সেন্টমার্টিনের সৈকতে কোনো ধরনের যান্ত্রিক যানবাহন যেমন মোটরসাইকেল ও ইঞ্জিনচালিত গাড়ি চালানো যাবে না। রাতে আলো বা আগুন জ্বালানো যাবে না।

সুন্দরবন

অন্যদিকে ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলেছে সুন্দরবন। তবে এখন থেকে সুন্দরবন ভ্রমণ করতে মানতে হবে ৫টি শর্ত। শর্তগুলো হলো– কোনো ট্রলারে ২০ জনের বেশি পর্যটক বহন করা যাবে না। পর্যটকরা খাদ্য ছাড়া অন্য কোনো পণ্য বহন করতে পারবেন না। প্রতিটি ট্রলারে স্যানিটাইজ ও বর্জ্য ফেলার ঝুড়ি রাখতে হবে। কোনো ট্রলারে মাইক বা সাউন্ডবক্স ব্যবহার করা যাবে না।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার ও সর্ববৃহৎ একক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। আরও আছে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সৈকতপাড় কুয়াকাটা, বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদসহ নানা প্রাকৃতিক ও ঐতিহ্যের দর্শনীয় স্থান। এ ছাড়া এ দেশের আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের ঐতিহ্যের ভাণ্ডারে যোগ করেছে ভিন্নমাত্রা।

যারা সমুদ্র দেখতে পছন্দ করেন, তাদের সবার আগে যাওয়া উচিত কক্সবাজার। এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত। এর পাশেই আছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। অথবা যেতে পারেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দেশ কুয়াকাটা। অন্যদিকে পাহাড় যাদের কাছে টানে, তারা যেতে পারেন রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি। পাহাড়, অরণ্য আর আদিবাসীদের বর্ণিল সাজে সজ্জিত এ জনপদ।

এ ছাড়া হরিণের রাজ্য দেখতে হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ, পাখির রাজ্য দেখতে সিলেটের হাওর ও ভোলা-নোয়াখালীর উপকূলের বিভিন্ন কাদাচর যেতে পারেন। আর চাইলে আপনি আপনার জেলাটাই ঘুরে দেখতে পারেন শীতের এ মৌসুমে। কারণ আমাদের প্রতিটি জেলারই রয়েছে নানারকম ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের চারপাশে যেদিকেই চোখ বুলাবেন সেদিকেই দেখা মিলবে রূপসী বাংলার মায়াবী রূপ।

ঢাকার প্রথম মসজিদ

দূর আজানের মধুর ধ্বনি বাজে বাজে মসজিদেরই মিনারে/এ কী খুশির অধীর তরঙ্গ উঠলো জেগে প্রাণের কিনারে।

দূর আজানের মধুর ধ্বনি বাজে বাজে মসজিদেরই মিনারে/এ কী খুশির অধীর তরঙ্গ উঠলো জেগে প্রাণের কিনারে।

মসজিদের নগরী ঢাকা। মুসল্লিদের শহর এটি। এখানে আল্লাহু আকবারের মধুর ধ্বনি জাগরণের ঢেউ তোলে অযুত-কোটি প্রাণে। কবে, কোন জনমে, কোন সে মহাপুরুষ- যিনি এ শহরকে সর্বপ্রথম আজানের সুরে জাগিয়েছিলেন?

ইতিহাস এর সঠিক জবাব দিতে না পারলেও যে মসজিদের আজান ধ্বনি সর্বপ্রথম এ শহরের প্রাণ জুড়িয়ে ছিল অর্থাৎ ঢাকার প্রথম মসজিদের বর্ণনা ইতিহাসে পাওয়া যায় এভাবে- পুরান ঢাকার ৬ নম্বর নারিন্দা রোডের হায়াৎ বেপারির পুলের উত্তর দিকে অবস্থিত ‘বিনত বিবির মসজিদ’ ঢাকার প্রাচীন মসজিদ (মুনতাসীর মামুন রচিত ‘ঢাকা : স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’)।

মসজিদটির গায়ে উৎকীর্ণ শিলালিপি অনুসারে বলা যায়, ১৪৫৭ খ্রিস্টাব্দে সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের শাসনামলে তার কন্যা মুসম্মত বখত বিনত বিবি এটি নির্মাণ করেন।

বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, বিনত বিবির মসজিদই ঢাকার সবচেয়ে পুরনো মুসলিম স্থাপত্য নিদর্শন ও শহরের প্রথম মসজিদ। সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা হলেও তিনি বা তার কন্যা এটি নির্মাণ করেননি।

বরং ওই সময় আরকান আলী নামক এক পারস্য সওদাগর ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঢাকার নারিন্দায় বসবাস শুরু করেন এবং তিনিই বিনত বিবির মসজিদটি নির্মাণ করেন।

ছয়-সাত কাঠা জায়গার ওপর গড়ে ওঠা চার কোণবিশিষ্ট মসজিদটির আদি গঠনশৈলীতে একটি কেন্দ্রীয় গম্বুজ থাকলেও ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয়বার সংস্কারকালে আরও একটি গম্বুজ যুক্ত করা হয়।

কালের আবর্তে মসজিদটি তার অসাধারণ রূপলাবণ্য হারালেও ঢাকার প্রথম মসজিদ হিসেবে বিনত বিবির মসজিদের আবেদন মোটেও কমেনি। তাই এখনও ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছাড়াও দেশ-বিদেশের সব রকমের পর্যটকরা একনজর মসজিদটি দেখতে ছুটে আসেন এখানে।

তবে সম্প্রতি হিজরি প্রথম শতাব্দীতে বাংলাদেশে মসজিদ নির্মাণ হয়েছে বলে যে গবেষণা-তথ্য প্রকাশ হয়েছে, তার আলোকে চিন্তা করলে এ কথা দৃঢ়ভাবে বলা খুব কঠিন যে- এ মসজিদ নির্মাণের আগে ঢাকায় কোনো মসজিদ নির্মাণ হয়নি।

নানান সংকটে জর্জরিত সেন্টমার্টিন দ্বীপবাসী

দেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত প্রবাল দ্বীপটি ‘নারকেল জিঞ্জিরা’ নামে খ্যাত কক্সবাজার টেকনাফের সেন্টমার্টিন। প্রতিবছর এই দ্বীপে দেশ-বিদেশে থেকে হাজার হাজার পর্যটক আসেন। পর্যটন মৌসুমে প্রায় প্রতিনিদিই শত শত মানুষ যায় এ দ্বীপে। পর্যটনের জন্য অপার সম্ভাবনার এ দ্বীপে পর্যটকদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা থাকলেও এখানকার স্থানীয় জনসাধারণ নানান সংকটে জর্জরিত।
অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় ‘পেটোয়া’ শ্রেণির লোকজনের দৌরাত্ম্য ও দ্বীপবাসীর জীবনকে বিষিয়ে তুলছে। দিনে দিনে এর চিত্র আরও ভয়াবহ হচ্ছে। মানবসৃষ্ট সমস্যা ছাড়াও রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
জানা গেছে, সেন্টমার্টিনবাসী অন্যতম প্রধান সমস্যা যোগাযোগ। টেকনাফের মূল ভূখণ্ড থেকে জাহাজে চড়ে দ্বীপে যেতে সময় লাগে তিন ঘণ্টা। আর কাঠের নৌকা হলে সেই সময় চার ঘণ্টা পেরিয়ে যায়। ফলে যে কোনও জরুরি কাজে টেকনাফ ও জেলা সদর কক্সবাজার আসা অনেক সময়ই সম্ভব হয় না।
স্পিড বোট থাকলেও শুষ্ক মৌসুম ছাড়া তা চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও একটি বড় সমস্যা হলো মোটা অংকের জাহাজ ভাড়া। তার সঙ্গে রয়েছে ঘাটে ব্যাপক হারের চাঁদাবাজি।
দ্বীপে একটি মাত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। তাতে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সেখানে পা পড়েনি কোনও চিকিৎসকের। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ‘ছাগলের খোয়াড়’ বলেন দ্বীপবাসীরা।
সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হলেও এখনও পর্যন্ত দ্বীপে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়নি। জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও তা শুধুই পর্যটকদের জন্য। সৌর বিদ্যুতের দেখা মিললেও দরিদ্রতার কারণে অধিকাংশ মানুষ এর বাইরে। দ্বীপে এক সময় সরকারি উদ্যোগে একটি অস্থায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থাকলেও ১৮ বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে।
৯ হাজার মানুষের এই দ্বীপে রয়েছে একটি মাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তাতেও রয়েছে শিক্ষক সংকট। এই বিদ্যালয়ে ৫০২ শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন মাত্র দু’জন শিক্ষক।
সেন্টমার্টিনে রড, সিমেন্টসহ আধুনিক নির্মাণ সামগ্রী নেওয়ার অনুমতি নেই। এতে করে অনেকে স্থাপনা নির্মাণ করা যাচ্ছে না। তবে প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে এ নিয়মের বাধা নেই। সাধারণ লোকজন না পারলেও প্রভাবশালীরা ঠিকই রড-সিমেন্টের বাড়ি করছেন। একইভাবে বহুতল ভবনের নির্মাণের নিয়ম না থাকলেও প্রভাবশালীরা বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। স্থানীয়দের বাধা দিলেও প্রভাবশালীদের বাধা দেয় না পরিবেশ অধিদফতর-এমন অভিযোগ করেছেন দ্বীপবাসী।
ব্যাংকিং সুবিধার হয়তো দ্বীপের অনেকের কাছে অজানা। সেন্টমার্টিনে কোনও ব্যাংকের শাখা নেই। এ কারণে অনেকে চাইলেও ব্যবসা করতে পারছেন না।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নিরাপত্তা নিয়ে সদা সংকিত দ্বীপবাসী। সাগরে পানি বাড়লেই তা ধেয়ে আসে লোকালয়ে। শুষ্ক মৌসুম ছাড়া বছরের পুরো সময় ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের আতঙ্কে থাকে দ্বীপের লোকজন। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে দ্বীপটি ক্রমান্বয়ে ভেঙে যাচ্ছে। তা রোধে এখন পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা হয়নি।
দ্বীপবাসীর সমস্যার আরেক নাম তাদের সেবায় নিয়োজিত কোস্টগার্ডও। কোস্টগার্ড তল্লাশির নামে করে হয়রানি। সেই সঙ্গে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। একইভাবে জেলেদেরকেও হয়রানি করছে তারা।
সেন্টমার্টিন আদর্শ সংসদের সভাপতি হেলাল উদ্দীন সাগর বলেন, সেন্টমার্টিন আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন স্পট। কিন্তু সেন্টমার্টিন নিয়ে সরকারের সে রকম কোনও পরিকল্পনা নেই। অথচ অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।’
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, আমি সরকার দলীয় হলেও স্বীকার করতেই হচ্ছে দ্বীপবাসীর জীবনমান উন্নয়নের তেমন কিছু করা হয়নি।’
এ ব্যাপার টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপের অনেক সমস্যা আছে। ঘাটে হয়রানি, নৌযান সমস্যা, দ্বীপের নিরাপত্তা। কিন্তু পরিবেশ সংকটাপন্ন হবে বিধায় অনেক কিছু করার থাকলেও করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন মহলকে জানাবো।’
টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, ‘সেন্টমার্টিনে অনেক সমস্যা রয়েছে তা জানি। চেষ্টা করছি সেসব সমস্যাগুলো নিরসন করতে। পর্যায়ক্রমে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’

বিমানবন্দরে বসছে অত্যাধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা

 

 

ঘন কুয়াশা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বিমান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে হযরত শাহজালালসহ তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।
একই সঙ্গে দেশের সব বিমানবন্দরের রানওয়ের লাইটিং ব্যবস্থাও উন্নয়ন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাৎক্ষণিকভাবে রানওয়ের সব তথ্য জানার পাশাপাশি যন্ত্রের সাহায্যে অবতরণ পদ্ধতি উন্নত হলেই কেবল বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ নিরাপদ হবে।
এতে কমবে যাত্রীদের দুভোর্গ ও এয়ারলাইন্সগুলোর আর্থিক ক্ষতি।

শীত এলেই এয়ারলাইন্সগুলোর উদ্বেগ বাড়ে।
ঘন কুয়াশায় বা ভারী বৃষ্টিতে রানওয়ে দেখা না যাওয়ায় অনেক সময় বন্ধ হয়ে যায় বিমান চলাচল। এতে শিডিউল বিপর্যয়ই শুধু নয়, যাত্রী দুর্ভোগের পাশাপাশি অন্য দেশে উড়োজাহাজ অবতরণের কারণে ব্যয় বাড়ছে এয়ারলাইন্সগুলোর।

কুয়াকাটা সৈকত এখন যেমন

এককালে এখানে লেবুবাগান ছিল, এখন ভিন্ন গাছের কয়েকটি সারি আছে। তবু নাম রয়ে গেছে ‘লেবুবাগান’
এককালে এখানে লেবুবাগান ছিল, এখন ভিন্ন গাছের কয়েকটি সারি আছে। তবু নাম রয়ে গেছে ‘লেবুবাগান’

‘সাগরকন্যা’ কুয়াকাটা বাংলাদেশের একমাত্র সমুদ্রসৈকত, যেখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দেখা মেলে। পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। তারপরও ভ্রমণপিয়াসীরা ভিড় করেন এই সৈকতে।

শুঁটকিপল্লিতে বাঁশে সারি বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে লইট্টা, টুনা, কোরালসহ বিভিন্ন মাছ
শুঁটকিপল্লিতে বাঁশে সারি বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে লইট্টা, টুনা, কোরালসহ বিভিন্ন মাছ

শুঁটকিপল্লি, লাল কাঁকড়া, লেবুবাগান, ফাতরার বন, বৌদ্ধবিহার, রাখাইন বাজার এ এলাকার দর্শনীয় স্থান। স্থানগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে সৌন্দর্য। সৈকতে পর্যটকবাহী গাড়ি চলাচল, হকারের বিশৃঙ্খলা, মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য, যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা যার অন্যতম কারণ। তবু প্রকৃতি অকৃপণ হাতে যেন বিলিয়ে দিয়েছে কুয়াকাটাকে।

সিডরের সময় সৈকতের এই গাছগুলো উপড়ে গিয়েছিল। এখন তা সাক্ষী হয়ে রয়ে গেছে
সিডরের সময় সৈকতের এই গাছগুলো উপড়ে গিয়েছিল। এখন তা সাক্ষী হয়ে রয়ে গেছে

ঘুমালেই দুঃস্বপ্ন? জেনে নিন মুক্তির উপায়

ঘুমালেই দুঃস্বপ্ন? জেনে নিন মুক্তির উপায়

গভীর ঘুম থেকে হঠাৎই জেগে উঠলেন। অন্ধকারে হাতড়ে ঘড়ি দেখলেন। মধ্যরাত। মন ভীষণ বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে। বুঝতে পারলেন, আপনি স্বপ্ন দেখছিলেন। ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন! গলা শুকিয়ে কাঠ।

আপনি একগ্লাস পানি আনার জন্য খাবার ঘরে যেতে চাচ্ছেন, কিন্তু স্বপ্নের ভয়ঙ্কর দৃশ্যগুলো এখনও পর্যন্ত মাথায় গেঁথে আছে। স্বপ্ন আর বাস্তবতাকে আপনি গুলিয়ে ফেলেছেন। আপনার ভয় ভয় লাগছে। বুঝতে পারছেন, বাকি রাত নির্ঘুম কাটাতে হবে।

ঘুমের ভেতর ভয়ঙ্কর কোনো স্বপ্ন দেখে জেগে ওঠার এই সমস্যা অনেকেরই। এটা তো শুধু স্বপ্নই- এমন ভাব নিয়ে অনেকে উড়িয়ে দেন বিষয়টি। কিন্তু দিনের পর দিন এভাবে অর্ধেক ঘুমিয়ে অর্ধেক জেগে কাটালে তার প্রভাব শরীরে পড়বেই। ফলে আপনি হয়ে উঠবেন বদমেজাজি, সারাক্ষণ সবকিছু তিক্ত মনে হতে শুরু করবে। শরীরে চেনা অচেনা নানা রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করবে। দুঃস্বপ্ন থেকে বাঁচার কয়েকটি উপায় বাতলে দিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

কীভাবে খারাপ স্বপ্ন এড়াতে পারবেন? দুঃস্বপ্নগুলো কেবল আমাদের ঘুমের চক্রকেই বিরক্ত করে না, ঘুম থেকে পাওয়া শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তিও নষ্ট করে দেয়।খারাপ স্বপ্নগুলো রাতে ঘন ঘন ঘুম ভাঙিয়ে দেয়, ঘুমের চক্রে গন্ডগোল করে এবং দিনের বেলায়ও অস্বস্তিতে রাখে। এর ফলে আরও খারাপ কোনো প্রভাব পড়তে পারে শরীরে। দুঃস্বপ্ন আসলে ‘বন্ধ’ করার কোনো উপায় আছে কি? চলুন জেনে নেয়া যাক-

দুঃস্বপ্ন এবং ঘুম লক্ষ করে দেখবেন যে, দুঃস্বপ্নগুলো মানুষের আমাদের অভিজ্ঞতারই অংশ। আপনি যদি উদ্দীপনাজনিত দুঃস্বপ্নের কারণে ভীতু হয়ে পড়েন এবং এর ফলে প্রায় প্রতিটি দিন উদ্বিগ্ন এবং ক্লান্তবোধ করতে থাকেন তবে আপনার ঘুমের অভ্যাসের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

দুঃস্বপ্ন প্রতিরোধ করতে কেন ভালো ঘুম দরকার বিশেষজ্ঞের মতে, খারাপ স্বপ্নের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং এগুলো দূরে রাখার জন্য আমাদের ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক- এমন কাজ করা উচিত। নিদ্রাহীনতা এবং ঘুমের সময়সূচির পরিবর্তন বিরক্তিকর দুঃস্বপ্নের কারণ হতে পারে। রাতে যদি ভালো ঘুম না হয়, তবে এটি একটি দুষ্টু বৃত্তে পরিণত হয়। কারণ দুঃস্বপ্নগুলো আপনার একটি ভালো ঘুমের ক্ষেত্রেও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। জেনে নিন এমন পাঁচ অভ্যাসের কথা, যার মাধ্যমে দুঃসপ্ন থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্মার্টফোন বাদ আমরা সবাই ক্ষতিকর নীল আলো সম্পর্কে জানি। এটি আমাদের ঘুমের চক্রকে ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু আমাদের মধ্যে কতজন আসলে এই নিয়ম মেনে চলে? এরপর দুঃসপ্ন দেখে জেগে উঠলে খেয়াল করুন, ঘুমাতে যাওয়ার কতক্ষণ আগে স্মার্ট ফোনটি দূরে রেখেছিলেন? ডিজিটাল ডিভাইস থেকে নির্গত নীল আলো আসলে মেলাটোনিনের উৎপাদনের সাথে মিশে যায়। মেলাটোনিন হলো এমন একটি হরমোন যা আপনার ঘুমকে নিয়ন্ত্রণ করে।

শোবার আগে হালকা গরম পানিতে গোসল ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ঘণ্টা দেড়েক আগে হালকা গরম পানিতে গোসল করে নিন। ফলে আপনার শরীরের তাপমাত্রা কমে যাবে এবং আপনার শরীরকে ইঙ্গিত দেবে যে, বিছানায় যাবার সময় হয়েছে। এটি শরীরের থার্মোরোগুলেশন সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে এবং মূল তাপমাত্রা হ্রাস পায়। ফলে মেলাটোনিনের উৎপাদন বাড়ে যা আপনাকে ভালো ঘুমাতে সহায়তা করে।

সন্ধ্যার পর কফি বা চা নয় দুঃস্বপ্ন থেকে দূরে থাকতে চাইলে দুপুর দুইটার পর থেকে চা কিংবা কফির কাপ এড়িয়ে চলুন। মনে রাখবেন, ক্যাফেইন একটি উত্তেজক এবং এটি অ্যাড্রেনালিন উৎপাদন বৃদ্ধি করে ঘুমের ঝামেলা সৃষ্টি করতে পারে।

বিছানায় যাওয়ার আগে আপনার মনকে শান্ত করুন প্রতিদিন আমরা বিভিন্ন আবেগের মধ্য দিয়ে যাই, যার সবগুলো ইতিবাচক নয়। সেইসব চিন্তা নিয়ে যদি আপনি ঘুমাতে যান, তবে ঘুমের ভেতরেও তার প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। তখন স্বপ্নেও আপনি সেসব সম্পর্কে দেখতে পান। সুতরাং, আপনার মন এবং দেহকে শান্ত হতে এমন কাজ করে নিজেকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করুন। আপনি শান্ত সংগীত শুনতে পারেন, বাতিগুলো বন্ধ করে দিতে পারেন, ধ্যান বা প্রার্থনা করতে পারেন, হালকা সুগন্ধযুক্ত মোমবাতি জ্বালাতে করতে পারেন বা বই পড়তে পারেন। মূল কথা হলো, আপনার মনকে প্রশান্ত করে, এমন কাজই করুন।

ঘুমানোর সময়সূচী মেনে চলুন এটি পুরোনো পরামর্শ, তবে কম কার্যকর নয়। আপনার রুটিন অনুযায়ী একটি ঘুমাতে যাওয়ার এবং জেগে ওঠার সময় নির্দিষ্ট করুন। ছুটির দিনটিতেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম করবেন না। নিয়মমাফিক চললে আপনার শরীর ধীরে ধীরে একটি স্বাস্থ্যকর ঘুমের রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

কিশোরগঞ্জের হাওর এখন দেশের অন্যতম বড় পর্যটন কেন্দ্র

করোনাকালেও দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বৃহত্তর হাওরাঞ্চলের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের হাওর পর্যটন এলাকা ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে।

আর এ কারণে এখানকার নিকলী বেড়িবাঁধ হাওর পর্যটন এবং ইটনা  মিঠামইন অষ্টগ্রাম উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত পানির বুক চিড়ে বয়ে চলা  অলওয়েদার সড়কপথ পর্যটন এলাকায় প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের ঢল নামছে। আসছেন অনেক বিদেশি পর্যটকও।

কিন্তু উপরন্তু গাড়ি পার্কিং, মোটেল এবং প্রয়োজনীয় শৌচাগার না থাকায় পরিবার নিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে পর্যটকদের।

জল ও সড়কযানের এমন পকেটকাটা ভাড়া এবং খাদ্যসামগ্রীর মূল্য আদায় এই সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

এ হাওর পর্যটনে নিয়মিত আসা ভুক্তভোগী দ্য ব্যাকপ্যাকার্স নামে একটি ভ্রমণপিপাসু গ্রুপের হোস্ট ফয়সাল আহমেদ এর সঙ্গে কথা হলে তিনি অভিযোগ করেন, হাওরের জিনিসপত্রের এমন দাম সারা দেশের অন্য অঞ্চলকে ছাড়িয়ে গেছে। আর ওখানকার মানুষজনেরা তো পর্যটকদের এক একজনকে টাকার মেশিন মনে করছেন।

নিকলী থেকে মিঠামইন নৌকা ভাড়া প্রকার ভেদে ৭ হাজার থেকে ১৮ হাজার পর্যন্ত। তাও আবার সন্ধ্যার আগে ফিরে আসতে হবে। সন্ধ্যার পরে ফিরলে আলাদা একস্ট্রা টাকা! একদিনের জন্য এতো বেশি বোট ভাড়া দেশের আর কোথাও আছে কিনা আমার জানা নেই। আমার তো মনে হচ্ছে, আমাদের দেশের পর্যটন শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী।

অপরদিকে, ঢাকা থেকে ২৫ জনের গ্রুপ নিয়ে এ হাওর পর্যটন এলাকায় ঘুরতে আসা গণমাধ্যম কর্মী দলের ভ্রমণপিপাসু পর্যটক সাঈদ আল হাসান শিমুলও ক্ষোভ ঝাড়লেন মাত্রাতিরিক্ত নৌকা ভাড়া আদায় নিয়ে।

এ ভুক্তভোগী জানালেন, তারা ২৫ জন নিকলী বেড়িবাঁধ পর্যটন এলাকা ঘুরে এখান থেকে দুপুর দেড়টার দিকে একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে মিটামইনের দৃষ্টিনন্দন অলওয়েদার সড়কপথে যান।

সেখানে সেই সড়কপথ পর্যটনেও অটোরিকশা অতিরিক্ত ভাড়া নেয় এবং সেখান থেকে একই ট্রলারে রাত ৯ টার দিকে নিকলী ফিরে আসার পর ৬ হাজার টাকা ভাড়া গুণতে হয়।

এ ভাড়া বড়জোর সাড় তিন হাজার টাকা হতে পারত। এছাড়াও তার অভিযোগ এমন সম্ভবনাময় পর্যটন এলাকায় বসবাসযোগ্য আবাসিক হোটেল নেই, নেই পর্যটন এলাকায় উপযুক্ত শৌচাগারের ব্যবস্থা।

এসবই কারণ এই পর্যটন এলাকায় আসতে পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করার জন্য যথেষ্ট মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলী উপজেলা সদরকে রক্ষায় ২০০০ সালে সরকার পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং পার্শ্ববর্তী ছাতির চর গ্রাম ভাঙনের কবল থেকে রক্ষায় অসংখ্য পানি সহিষ্ণু করচ গাছ বন তৈরি করে।

বর্ষায় এই এলাকা কানায় কানায় ডুবে গিয়ে সাগরের ন্যায় দিগন্ত বিস্তৃত এক ভিন্ন রকম নৈসর্গিক সৌন্দর্যে রূপ নেয়।বেড়িবাঁধে আছড়ে পড়া উত্তাল ঢেউয়ের দৃশ্য, নৌকা ও স্পীড বোটে ঘুরে বেড়ানো, আর করচবনের শীতল ছায়ায় জলকেলি পর্যটকদের হৃদয় মন আন্দোলিত করে।

একই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম পর্যন্ত হাওরের বুক চিড়ে বিস্তৃত ২৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য দৃষ্টি নন্দন অলওয়েদার সড়কপথ বর্ষায় পর্যটকদের কাছে ভিন্ন রূপে ধরা দেয়। চারদিকে সাগরের ন্যায় থৈথৈ পানি আর মাঝপথে সরীসৃপের ন্যায় এঁকেবেকে চলা এ সড়কপথ পর্যটনও মুখরিত হয়ে ওঠে পর্যটকদের কোলাহলে।

এ ব্যাপারে কথা হলে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুদ্দিন মুন্না  ট্রলার, নৌকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ হোটেলে খাদ্য মূল্য অধিক রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তিনি জানান, তিনি ইতিপূর্বে উপজেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির মাধ্যমে নৌযানগুলোর ভাড়া এবং খাদ্য সামগ্রী মূল্য নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের ডেকেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি ওই কমিটির মাধ্যমে উপযুক্ত নৌযান ভাড়া ও খাদ্য সামগ্রীর মূল্য নির্ধারণ করে চার্ট টাঙিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন।

একই সময় তিনি নিকলী পর্যটন এলাকায় আরও কয়েকটি শৌচাগার নির্মাণ এবং গাড়ি পার্কিংয়ের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের পদক্ষেপের কথা জানালেন।

উড়োজাহাজ এখন রেস্তোরাঁ

নোভেল করোনা ভাইরাসের ক্ষতি থেকে বেরিয়ে আসতে নিত্যনতুন উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নিচ্ছে বিশ্বের উড়োজাহাজ কোম্পানিগুলো। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস তাদের একটি উড়োজাহাজকে অস্থায়ী রেস্তোরাঁয় পরিণত করেছে। খবর বিবিসি।

সংস্থাটি আশা করছে, এর মধ্য দিয়ে কিছুটা হলেও তারা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে। মূলত চলমান মহামারির কারণে বিশ্বের অন্য সব বিমান পরিবহন সংস্থার মতোই মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস। জুন পর্যন্ত প্রান্তিকে সংস্থাটির ক্ষতি হয়েছে রেকর্ড ৮১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে ২০ শতাংশ কর্মীও ছাঁটাই করছে এয়ারলাইনসটি।

সোনার চরের অদেখা সৌন্দর্য

সাগরে যখন জোয়ারের পানি উথলে ওঠে তখন অনন্য এক সৌন্দর্য বিকশিত হয় সোনারচরে। তবে এই অপার্থিব জায়গাটা এখনও প্রায় বিচ্ছিন্নই।
বন বিভাগের আওতাধীন সোনার চর হচ্ছে বন্য-প্রাণীর অভয়ারণ্য। সুন্দরবনের পর চর কুকরিমুকরি ও সোনার চরকেই ধরা হয় দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। এখানে সৈকতের বালি খুব স্বচ্ছ। রোদের আলোয় তা চিকচিক করে বলেই এর নামকরণ হয়েছে সোনার চর। এখানে একি সাথে মিলবে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট এবং সমুদ্র সৈকত। রয়েল বেঙ্গল টাইগার বিহীন এই সোনার চরের ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট এতটাই সুন্দর যে ভার্জিন ফরেস্ট না বলে উপায় নাই। বিশ হাজার হেক্টর সবুজে ঘেরা এই সংরক্ষিত বনে আছে বুনো মহিষ, হরিণ, শুকর , বানর, পাখিসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রানী।

সোনারচরে সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী সোনারচর। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার দক্ষিণ সীমানায় বঙ্গোপসাগরের একেবারে কোল ঘেঁষে এর অবস্থান। এখানে রয়েছে বিস্তৃত বনভূমির পাশাপশি সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, আছে লাল কাকরা। নগরের কর্মচাঞ্চল্য থেকে বহুদূরে এই সৈকতের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য এখনো অনেকের কাছে অজানা।

এখানকার বিশাল বনভূমির মধ্যে ছড়িয়ে আছে দেড় শতাধিক ছোট-বড় খাল। ছোট নৌকা বা ইঞ্জিন চালিত ট্রলার নিয়ে এসব খালে ভেসে ভেসে উপভোগ করতে পারবেন বিচিত্র সব পশু-পাখির বিচরণ। ভয় নেই এখানে মেছো বাঘ আর শিয়াল ছাড়া হিংস্র কোনো প্রাণী নেই। সুন্দরবনের মতই বহু হরিণ আর বানর রয়েছে এখানে। বনাঞ্চলের কাছাকাছি গেলে হয়তো সহজেই চোখে পড়বে বুনো মহিষ। ভাগ্য ভালো থাকলে হয়তো দেখা হয়ে যেতে পারে হরিণের পালের সাথে। সোনার চরের মূল সৌন্দর্য এখানকার ঝাউ বন। এছাড়া এই বনে রয়েছে কেওড়া, ছৈলা, করমচা, নলখাগড়া, জাম, সুন্দরী, গড়ান, হেঁতাল ও গোলপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। পটুয়াখালির রাঙ্গাবালী উপজেলার চর মন্তাজ ইউনিয়নে দক্ষিণ সীমানায় বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে এর অবস্থান। এখানে বিস্তৃত বনভূমির পাশাপাশি আছে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। বিশাল সৈকত জুড়ে আছে কোটি কোটি লাল কাঁকড়ার বিচরণ। দেখে মনে হবে পুরো সৈকতটা বিছিয়ে আছে লাল কাঁকড়ার গালিচায়। সমুদ্র সৈকতের যেকোন জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে পারবেন। শীতে যদি সোনার চরে বেড়াতে যান তবে হাজারো পাখির বিচরণ ও কলরবে মুগ্ধ হবেনই।

নির্জন শেষ বিকেলে সূর্যের ম্লান আলো যখন লালচে হয়ে সৈকতের বুকে ঢলে পড়ে তখন অবিশ্বাস্য এক মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে। সৈকতের বুকে আছড়ে পড়া আলোয় সাগরের পানির রং যেন সোনালী বর্ণের হয়ে যায়। আর বিকেলে সৈকতের চকচকে বালু কণা যেন লালচে হয়ে সোনার থালায় রূপ নেয়। দূর থেকে মনে হয় সাগরের বুকে একটি সোনার টুকরা এ যেন উপভোগ করার মতো দৃশ্য। এই বেলাভূমিতে গোধূলির রূপ আপনাকে আবদ্ধ করবে অপার মুগ্ধতায়।
ইচ্ছে করলে এখানে ক্যাম্পিং করা যায় তবে বন বিভাগের অনুমতি নিতে হবে। সোনার চর ভ্রমণ সেইন্ট মার্টিনের মতোই অ্যাডভেঞ্চারাস এবং আনন্দময়। গোলাচিপা থেকে লঞ্চে করে চর কাজল, রাঙ্গাবালী এবং চর মন্তাজ হয়ে সোনার চর যাবার পুরোটা পথই অপরূপ সুন্দর।

পরামর্শ ও সতর্কতা
যেহেতু চর এলাকা তাই গাড়ির কোন ব্যবস্থা নাই, যাদের হাঁটার অভ্যাস নাই বা অনিহা তারা না যাওয়াই ভালো।
বনের ভিতরে ক্যাম্প করা থেকে বিরত থাকুন।
বনের বেশি গহীনে যাবেন না, আর গেলেও অন্তত দু জন নিয়ে যাবেন যেন পথ হারিয়ে না ফেলেন।
যেহেতু বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য, তাই তাদের চলার পথে বাধার সৃষ্টি করবেন না বা প্রাণীকে ভয় দেখাবেন না।
শিয়ালের উৎপাত বেশ ভালোই এই চরে তাই রাতে তাবু থেকে নিরাপদ দূরত্বে ক্যাম্প ফায়ার করবেন অবশ্যই।
হরিণ শিকার থেকে বিরত থাকবেন, এটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
সরীসৃপ প্রাণীর আক্রমণ থেকে বাঁচতে অতিরিক্ত সতর্কতা স্বরূপ ক্যাম্প গ্রাউন্ডের চারপাশে কার্বলিক এসিড ছিটিয়ে দিন।
এই অঞ্চলে বিদ্যুতের কোন ব্যবস্থা নেই, তাই অবশ্যই পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখুন। আর বাজারে সোলার পাবেন সেখানেও মোবাইল চার্জ করতে পারেন যা অনেক সময়সাপেক্ষ।
স্থানীয়দের সাথে ভালো ব্যবহার করুন, তাদের অমায়িক ব্যবহারে আপনি নিজেও মুগ্ধ হবেন।

এক নজরে সোনার চর

সোনারচরের বয়স খুব বেশি নয়। ২০০৪ সালে প্রথম নজরে আসে সোনারচর। ধীরে ধীরে মানচিত্রে পাকা হয় এর স্থান। সোনার চরে রয়েছে ২০ হাজার ২৬ হেক্টর বিস্তির্ণ বনভূমি। এলজিইডি দপ্তরের তত্ত্বাবধানে উন্নয়ন করা হচ্ছে ৫শ’ ৫০ মিটার সি.সি রাস্তা, পাবলিগ টয়লেট। পটুয়াখালী উপক‚লীয় বন বিভাগ বনায়নের দায়িত্ব নেয় এখানে। একসময় গড়ে ওঠে বিশাল বনভূমি যার আয়তন ২ হাজার ০২৬ হেক্টর। সংরক্ষিত বনভূমি হিসেবে ঘোষিত হয় এই অঞ্চল। বনে ছাড়া হয় ৩০০ হরিণসহ, বানর, শুকর এবং আরও নানান প্রজাতির প্রাণী। পরে যুক্ত হয় বাঘ আর কুমির। ২০১১ সালের ২৪ ডিসেম্বর সোনারচরকে পশুপাখির অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। বনের মধ্যে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত চলে গেছে পাকা রাস্তা। মূলত পর্যটকদের ভ্রমণের সুবিধার্থেই এটি করা হয়েছে। বন বিভাগের উদ্যোগে বাঘ আর হরিণের অভয়াশ্রম করা হয়েছে সোনারচরে। এছাড়া একটি কুমির প্রজনন কেন্দ্র গড়ে উঠছে।

কিভাবে যাবেন

সদরঘাট থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী লঞ্চে উঠে চরকাজল এ নামার পর ছোট লঞ্চে চর মন্তাজ যেতে হবে। এরপর ট্রলার ঠিক করে সোনার চর যাবেন।
এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি গলাচিপার লঞ্চে উঠে গলাচিপা চলে যান। গলাচিপা লঞ্চঘাট থেকে স্পিড বোটে সোনার চড়ে যেতে সময় লাগে মাত্র দেড় ঘণ্টা। গলাচিপা থেকে সোনার চর রিজার্ভ ট্রলারে একদিনের যাওয়া আসার খরচ ২ হাজার ৫০০-৩ হাজার টাকা পড়বে। আবার গলাচিপা থেকে চর মন্তাজ পর্যন্ত প্রতিদিন লঞ্চ যাতায়াত করে। সকাল ১০ টা এবং দুপুর ২ টায় ছেড়ে যায়। আবার কুয়াকাটা থেকেও সোনার চরে যাওয়া যেতে পারে। যেতে হবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে। ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে সময় লাগে তিন ঘণ্টা।

কোথায় থাকবেন

সোনার চরে থাকার মত আরামদায়ক কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে চর মনতাজে রয়েছে বন বিভাগ, স্যাপ বাংলাদেশ ও মহিলা উন্নয়ন সমিতির ব্যবস্থাপনায় মোটামুটি সুবিধা সম্পন্ন বাংলো। আরো রয়েছে কিছু হোটেল। এগুলোর মধ্যে সাথী বোডিং মোটামুটি ভালো তবে আগে থেকেই বুক করে যেতে হবে। এছাড়া রয়েছে বনবিভাগের ক্যাম্প। আর আপনি যদি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা পেতে চান তবে চরেই তাঁবু খাটিয়ে ক্যাম্পিং করে থাকতে পারেন।
এছাড়া থাকতে পারেন পটুয়াখালী শহরে কিংবা গলাচিপায়। সেখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি হোটেল।