ভ্রমন করুন ফয়জুন্নেচ্ছা জমিদার বাড়ি থেকে

May be an image of outdoors and monument

ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী উপমহাদেশের একমাত্র নারী নওয়াব। কুমিল্লার লাকসাম থেকে আধা কিলোমিটার দূরে পশ্চিমগাঁওয়ের ডাকাতিয়া নদীতীর ঘেঁষে তার ঐতিহাসিক নবাববাড়ির অবস্থান। ১৮৮৩ সালে বাবার মৃত্যুর পর তিনি পশ্চিমগাঁওয়ের জমিদারি লাভ করেন। কিন্তু ঐতিহ্যমণ্ডিত এই বাড়িটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় তা এখন বিলীনের পথে। এ ছাড়া তার সম্পত্তির বড় অংশ কৌশলে দখল করে নিয়েছে একটি মহল। অবশেষে সংস্কৃৃতি মন্ত্রণালয় ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণীর মালিকানাধীন সর্বমোট ৪ একর ৫৩ শতক সম্পত্তি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে সংরক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছে সম্প্রতি। তার স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়িতে নির্মাণ করা হবে উন্মুক্ত জাদুঘর ও পর্যটন কেন্দ্র।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কুমিল্লা কার্যালয়ের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী বাংলাদেশের নারী সমাজের বিস্ময়। তিনি একজন সমাজহিতৈষী ও সাহিত্যিক ছিলেন। তার স্মৃতি রক্ষায় লাকসাম নওয়াববাড়ির দায়িত্ব প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে দেওয়া হয়েছে। বাড়িটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করে উন্মুক্ত জাদুঘর করা হবে। এ জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। অনুমতি পেলেই কাজ শুরু হবে।

May be an image of 1 person and outdoors

নওয়াব ফয়জুন্নেসা ছিলেন একাধারে জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি। কুমিল্লার লাকসামের পশ্চিমগাঁও গ্রামে ১৮৩৪ সালে জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আহমদ আলী চৌধুরী ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁওয়ের জমিদার। তৎকালীন রক্ষণশীল পরিবেশে থেকেও গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই আরবি, ফারসি, উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃৃতে দক্ষতা অর্জন করেন তিনি।

উপমহাদেশের নারী জাগরণের আরেক অগ্রপথিক বেগম রোকেয়ার জন্মের সাত বছর আগে ১৮৭৩ সালে কুমিল্লা শহরে তিনি একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে ফয়জুন্নেসা কলেজ নামে পরিচিত। ১৯০১ সালে লাকসামে ফয়জুন্নেছা ডিগ্রি কলেজ ও বিএন হাই স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

নারীদের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে ১৮৯৩ সালে নওয়াব ফয়জুন্নেছা মহিলা ওয়ার্ড প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া ১৮৯৯ সালে দেশের ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের নির্মাণ কাজে তৎকালে ১০ হাজার টাকা অনুদান দেন। তিনি যুক্ত ছিলেন বিভিন্ন জনহিতকর কাজেও।

May be an image of sky and tree

নওয়াব ফয়জুন্নেছা রচিত ‘রূপজালাল’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৮৭৬ সালে। ‘সঙ্গীতসার’ ও ‘সঙ্গীত লহরী’ নামে আরও দুটি কবিতার বই লিখেছেন তিনি। রানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে ফয়জুন্নেছাকে ‘নওয়াব’ উপাধি দিয়েছিলেন। তিনি ১৯০৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন। নওয়াব ফয়জুন্নেসাকে ২০০৪ সালে একুশে পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত করা হয়।

‘নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী’ বইয়ের লেখক ও গবেষক গোলাম ফারুক বলেন, ‘ফয়জুন্নেছার স্মৃতি রক্ষায় দীর্ঘদিনের দাবির কারণে বাড়িটি এখন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীন। এতে আমরা আনন্দিত। আশা করি, এটি ভবিষ্যতে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।’

কিভাবে যাবেন :

ঢাকা থেকে ট্রেনে করে যাবেন লাকসাম স্টেশনে । সেখান থেকে খানিকটা দূরে দেখতে পাবেন ফয়জুন্নেচ্ছা জমিদার বাড়ি। লাকসাম স্টেশন থেকে ফয়জুন্নেচ্ছা জমিদার বাড়িতে ভাড়া পড়বে অটো রিকসা থেকে ৩০ টাকা।
এছাড়া আপনি বাসে করে যেতে পারবেন ফয়জুন্নেচ্ছা জমিদার বাড়িতে। বাসে আপনার ভাড়া পড়বে ২৫০-৩০০ টাকা।
এছাড়া আপনি ঢাকা থেকে লন্ঞে করে যেতে হবে চাঁদপুরে। চাদঁপুর থেকে লাকসামগামী ট্রেনে করে যেতে পারবেন ফয়জুন্নেচ্ছা জমিদার বাড়িতে।

 

ভ্রমন করুন বজরা মসজিদ থেকে

May be an image of 4 people, outdoors, monument and castle

নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলাধীন বজরা ইউনিয়নের অন্তর্গত দিল্লির শাহী মসজিদের অনুকরণে নির্মিত বজরা শাহী মসজিদ(Bajra Shahi Masjid) মোগল সাম্রাজ্যের স্মৃতি বহন করছে। মসজিদের কেন্দ্রীয় পথের উপর ফার্সি ভাষায় উৎকীর্ণ লেখা অনুযায়ী মোগল সম্রাট মুহাম্মদ শাহের আমলে জমিদার আমানউল্যাহ কর্তৃক ১১৫৩ হিজরী সাল মোতাবেক ১১৩৯ বাংলা এবং ১৭৩২ সালে নির্মিত মসজিদটি আমানউল্যাহ এর বংশধর বলে কথিত আলী আহাং এবং সুজির উদ্দিন নামক দুই ব্যক্তি চীনা কাঠ, গ্লাস দ্বারা মসজিদের শোভাবর্ধন করেন। মসজিদ তৈরির ১৭৭ বছর পর ১৯০৯ সালে একবার মেরামত করা হয়।

মোগল সম্রাট মোহাম্মদ শাহের বিশেষ অনুরোধে পবিত্র মক্কা শরীফের বাসিন্দা তৎকালীন অন্যতম বুজুর্গ আলেম হযরত মাওলানা শাহ আবু সিদ্দীক এ ঐতিহাসিক মসজিদের প্রথম ইমাম হিসেবে নিয়োজিত হন। তাঁর বংশধরগণ যোগ্যতা অনুসারে আজো এ মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে প্রথম ইমাম সাহেবের সপ্তম পুরুষ ইমাম হাসান সিদ্দীকি উক্ত মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

May be an image of outdoors and monument

জনশ্রুতি রয়েছে যে, এ মসজিদে কিছু মানত করলে তাতে শুভ ফল পাওয়া যায়। তাই দেখা যায় যে, দুরারোগ্য ব্যাধি হতে মুক্তি পাওয়ার আশায় অগণিত মহিলা ও পুরুষ প্রতিদিন এ মসজিদে টাকা পয়সা সিন্নি দান করেন। এছাড়া বহু দূর- দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এ মসজিদে নামাজ আদায় করেন। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভা এ ঐতিহাসিক মসজিদখানার ঐতিহ্য রক্ষার্থে এবং দুর্লভ নিদর্শনের জন্য কাজ করছে।

May be an image of outdoors and monument

এই বিখ্যাত মসজিদের নামের সাথে জড়িয়ে আছে মুঘল সম্রাট মুহাম্মদ শাহের শাসনামলের কথা। ভারতবর্ষে মুঘলদের শাসনামলে পুরো ভারতবর্ষ এবং তৎকালীন বাংলা অঞ্চলসহ সর্বত্র স্থাপিত হয়েছিলো দারুণ কিছু স্থাপত্যশৈলী  যেগুলো আজও ইতিহাস হয়ে মুঘল শাসনমলের স্মৃতি বহন করে যাচ্ছে যুগ যুগ ধরে।

নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত বজরা শাহী মসজিদ নির্মিত হয়েছিলো ১৭৪১-৪২ খ্রিস্টাব্দে শাসক মুহাম্মদ শাহের সময়কালে। তবে এই মসজিদটি মুহাম্মদ শাহের সময়ে তৈরী হলেও এই স্থাপনা তিনি নিজে নির্মাণ করেননি

এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন তৎকালীন জমিদার আমান উল্ল্যাহ। ১৭৪১-৪২ খ্রিস্টাব্দে প্রায় ৩০ একর জায়গা নিয়ে সেসময়ে বজরা শাহী মসজিদ নির্মাণ করা হয় এবং সাথে খনন করা হয় একটি সুবিশাল দিঘী।
পরবর্তীতে ১৯১১ থেকে ১৯২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে বজরার জমিদার খান বাহাদুর আলী আহমেদ এবং খান বাহাদুর মুজির আহমেদ এই মসজিদের ব্যাপক সংস্কার করেন।

May be an image of 1 person and outdoors

বজরা শাহী মসজিদের স্থাপত্যকলার বিবরণ:

আয়তাকার বজরা মসজিদে প্রধান গম্বুজ রয়েছে তিনটি। এছাড়া এর চারপাশে রয়েছে চারটি ছোট মিনার। মসজিদে মোট দরজা রয়েছে পাঁচটি এবং মসজিদের সম্মুখে পূর্বদিকে রয়েছে একটি সুদর্শন মিনারবেষ্টিত বিরাট তোরণ।

মসজিদের সম্মুখভাগ এবং তোরণের সৌন্দর্য বর্ধনে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের উপাদান যা এই ঐতিহাসিক মসজিদের সৌন্দর্য কে বহুলাংশে বৃদ্ধি করে একে একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত করেছে।

No photo description available.

বজরা শাহী মসজিদ কোথায় অবস্থিত :

এই ঐতিহাসিক মসজিদের অবস্থান চট্টগ্রামের বিভাগের নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার বজরা ইউনিয়নে। এটি নোয়াখালী-ঢাকা মহাসড়কের নোয়াখালী সোনাইমুড়ি উপজেলার বজরা বাজার অংশের পাশ্ববর্তী এলাকাতেই অবস্থিত।অর্থাৎ এই মসজিদটি ভ্রমণে আপনাকে দেশের যেকোনো স্থান হতে নোয়াখালীর বজরা বাজার আসতে হবে।

May be an image of sky, twilight and tree

কিভাবে যাবেন বজরা শাহী মসজিদ :

এই ব্লগে ঢাকা , চট্টগ্রাম,নোয়াখালী সদর এবং দেশের বিভিন্ন জেলা হতে নোয়াখালীর বজরা শাহী মসজিদ ভ্রমণের উপায় বর্ণনা করবো যা দেশের সকল অঞ্চলের মানুষের জন্যেই সুবিধাজনক হবে।

রাজধানী ঢাকা হতে বাস বা ট্রেনে আপনারা সহজেই নোয়াখালী আসতে পারবেন।

ঢাকার সায়েদাবাদ বা যাত্রাবাড়ী হতে চব্বিশ ঘণ্টাই নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে লাল-সবুজ, একুশে পরিবহন, ঢাকা এক্সপ্রেস ও হিমাচল বাস ছেড়ে আসে। এসব বাসে আপনি ৩৫০-৪০০ টাকা ভাড়ায় নোয়াখালী আসতে পারবেন।

May be an image of outdoors and monument

এছাড়া ঢাকার মিরপুর, উত্তরা, শ্যামলী, ঝিগাতলা এলাকা প্রতিদিন রাত এগারোটার পর এবং ভোরে ৬-৭ টার ভেতর এই পরিবহনগুলোর একটি করে বাস ছেড়ে আসে।

ঢাকার কমলাপুর হতে দুপুর ৩:২০ মিনিটে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে উপকূল এক্সপ্রেস ছেড়ে আসে। ট্রেনে ভাড়া লাগবে শ্রেণীভেদে ২৭০-৫০০ টাকা।

বাসে এসে আপনারা সরাসরি বজরা শাহী মসজিদ যেতে চাইলে বাস আপনাদের বজরা বাজার নামিয়ে দিবে। বজরা বাজার হতে ২০০ গজ পশ্চিমেই বজরা শাহী মসজিদের অবস্থান।

এছাড়া ট্রেনেও আপনি বজরা রেলস্টেশন নেমে সেখান থেকে ২০ টাকা রিকশা ভাড়ায় বজরা বাজার এসে হেঁটে যেতে পারবেন বজরা শাহী মসজিদ।

বাংলাদেশে শ্রম অভিবাসনের জন্য প্রয়োজন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন

বাংলাদেশে শ্রম অভিবাসনের জন্য প্রয়োজন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন

বাংলাদেশ থেকে চার লাখেরও বেশি মানুষ শ্রম অভিবাসনের জন্য বা বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশে দেশ ছেড়ে যান। এ তথ্য আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওর। কাজেই তাঁদের সমস্যাগুলোর ওপর নজর দেওয়া জরুরি।

জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশগুলো ১৮ ডিসেম্বর ‘আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস’ হিসেবে পালন করেছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৯০–এর এদিনে সব অভিবাসীশ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক কনভেনশনের ওপর এ প্রস্তাবটি পাস করে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০০০ সালের ৪ ডিসেম্বর দিনটিকে (১৮ ডিসেম্বর) বিশ্বব্যাপী পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ব্যাপক হারে অভিবাসন ও বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি ঘিরে এ দিবসের উৎপত্তি।

বিশ্বব্যাপী মানব অভিবাসন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভৌগোলিক অঞ্চলভেদে স্থায়ীভাবে বা অস্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের অভিপ্রায়ে মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল করে। বাংলাদেশি অভিবাসীশ্রমিকেরা দেশ থেকে শুরু করে নানান পর্যায়ে, নানান ধরনের শোষণ, বঞ্চনা, প্রতারণা, লাঞ্ছনা ও হয়রানির শিকার হন। মূলত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়া বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অনেককেই জীবন বা সম্পদ বাজি রেখে বিদেশে পাড়ি জমাতে হয়। অভিবাসন, অভিবাসী ও তাঁদের পরিবার–পরিজনকে নিয়ে হৃদয়ছোঁয়া অনেক প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়। অভিবাসন ও অভিবাসীদের সেবার ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করার কোনো দৃশ্যমান প্রবণতা নেই। নেই সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর একসঙ্গে কাজ করার কোনো টেকসই উদ্যোগ। বাংলাদেশে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনে সরকারের নানাবিদ প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করা উচিত।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো অভিবাসীদের নিয়ে তথ্যনির্ভর কোনো সিদ্ধান্ত নিতে প্রায়ই সহায়ক হয়ে থাকে। তা সত্ত্বেও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা রকম চটকদার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে অনেক সময় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রতারণা করারও খবর পাওয়া যায়। নিয়মতান্ত্রিক, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের জন্য বাংলাদেশে একটি যুগোপযোগী আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বৈশ্বিক শ্রমবাজারে কোভিড-১৯–এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় অনেক অভিবাসী ইতিমধ্যে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন এবং অনিশ্চিত জীবন যাপন করেছেন। তাঁদের চাহিদা নিরূপণ করে পুনর্বাসনের জন্য জরুরি কিছু কার্যক্রম নেওয়া দরকার। দেশে এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ প্রবাসী কর্মীকে বিশেষ ব্যবস্থায় ‘সুরক্ষা’ অ্যাপসের আওতায় এনে টিকা সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বল্প সুদ ও সহজ শর্তে কিছু ঋণ সুবিধা প্রদান ও পুনর্বাসন কার্যক্রমও নিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঘটনা, যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা নাগরিক ঝামেলার বিষয় হতে পারে। যার কারণে নিজ বাড়ি থেকে সরে যাওয়া ব্যক্তি বা বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি হিসেবে তাঁদের বর্ণনা করা যেতে পারে বা নিজ দেশে অভ্যন্তরীণভাবে ও বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি হতে পারে কেউ কেউ। যে ব্যক্তি অন্য দেশে আশ্রয় চান, সে যদি স্বদেশ ত্যাগের কারণ হিসেবে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা অন্য কোনো ধরনের নিপীড়নের শিকার হন, তাহলে সে দেশে আশ্রয় চাওয়ার একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে পারে, যাকে সাধারণত আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বর্ণনা করা হয়। যদি এ ধরনের আবেদনটি সফল হয়, তবে ওই ব্যক্তির আইনগত মর্যাদা হয় শরণার্থীর মতো। সাধারণত এ চলাচল প্রায়ই দীর্ঘ দূরত্বে এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে ঘটে থাকে। তবে অভ্যন্তরীণ অভিবাসনও সম্ভব; প্রকৃতপক্ষে, এটি বিশ্বব্যাপী মানব অভিবাসনের প্রভাবশালী একটি রূপ।

বৈশ্বিক প্রায় ৫০০টি দেশের আইওএম-এর অফিস এবং সাব-অফিস রয়েছে। সরকারি, আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় নাগরিক সমাজের অংশীদারদের দ্বারা মাইগ্রেশন–সংক্রান্ত ইভেন্টগুলো সংগঠিত হয়। তাঁদের সমর্থিত বৈশ্বিক ইভেন্টটি মাইগ্রেশন থিম, সামাজিক সংহতি, মর্যাদা, শোষণ ও অভিবাসনের জন্য নির্দেশিত সংহতির বিস্তৃত পরিসরে পরীক্ষা করে। এই নীতির দ্বারা যে মানবিক এবং সুশৃঙ্খল অভিবাসন, যা সমাজকে নানাভাবে উপকার করে।

বিশ্বখ্যাত পর্যটক মার্কো পোলো

মার্কো পোলোর নাম শুনেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন হবে। তবে তার গল্প বলতে গেলে শুধু মার্কো পোলোর কথা বললে হবে না, তাঁর গৌরবময় ভ্রমণ কাহিনীর সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে আরও দুটি নাম।মার্কো পোলোর পর্যটক হবার বিষয়টি অনেকটাই কিন্তু বংশগত। তাঁর বাবা নিক্কলো পোলো এবং চাচা মাত্তেও পোলো ছিলেন বিখ্যাত পর্যটক এবং ব্যবসায়ী। মার্কো পোলোর শিশুকালেই তারা দুইজন এশিয়া ভ্রমণ করেন এবং বিখ্যাত মঙ্গলিয়ান সম্রাট কুবলাই খান এর সাথে দেখাও করেন। সেই হিসেবে মার্কো পোলো প্রথম ইউরোপিয় নন যিনি সুদূর এশিয়া ভ্রমণ করেন। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে যে মার্কো পোলোর এত খ্যাতির রহস্য কি? এর উত্তর পেতে হলে তাঁর ভ্রমণ সম্পর্কে জানতে হবে। মার্কও পোলোর সাথে আমাদেরও হয়ে উঠতে হবে ত্রয়োদশ শতাব্দীর অদম্য পর্যটক, যারা অজানাকে জানার জন্যও যেকোনো ঝুকি নিতেও প্রস্তুত ছিলেন মার্কো পোলোর ছেলে বেলা সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়। তাঁর বাবা যখন ভ্রমণে ছিলেন, তখন তাঁর জন্ম হয়। জন্মের কিছুকাল পরেই তাঁর মা মারা যায় এবং চাচা চাচির কাছে তিনি মানুষ হন। তাঁরা তাঁকে ব্যবসায়ী এবং পর্যটক হবার জন্যও প্রয়োজনীয় সব শিক্ষায় শিক্ষিত করেন। ফলে অতি অল্পসময়ের মধ্যেইমার্কোবৈদেশিক বাণিজ্য, বৈদেশিক মুদ্রা, ভূগোল এবং জাহাজ চালনার মত বিষয় গুলোতে দক্ষতা অর্জন করেন।

জীবনের প্রথমার্ধ

১২৬৯ সালে মার্কো পোলোর বাবা এবং চাচা ভেনিস প্রত্যাবর্তন করেন। ১৫ বছর বয়সী মার্কোর সেটাই ছিল বাবার সাথে প্রথম সাক্ষাৎ। এর দুই বছর পর ১২৭১ সালে বাবা এবং চাচার সাথে ১৭ বছর বয়সী মার্কো বেরিয়ে পড়েন এক দুঃসাহসী অভিযানে। এই অভিযানের বর্ণনা পরবর্তীতে মার্কোর লেখায় চমৎকার ভাবে ফুটে ওঠে। নিক্কলো পোলো এবং চাচা মাত্তেও পোলো এই অভিযানটি শুরু করেন মূলত কুবলাই খানের একটি অনুরোধ রাখতে গিয়ে। মঙ্গোলীয় সম্রাট কুবলাই খান এর আগে নিক্কলো এবং মাত্তেও কে অনূর্ধ্ব করেন একটি দুষ্প্রাপ্য বস্তু তাঁকে এনে দেয়ার জন্য। সেটি হল ‘ক্রিজম’ বা জেরুজালেমের পবিত্র তেল। খ্রিস্টান ধর্মে এই তেল কে অনেক পবিত্র, দুষ্প্রাপ্য এবং মর্যাদা সম্পন্ন হিসেবে দেখা হত। এই তেল সংগ্রহ পোলোদের অভিযানের মুল উদ্দেশ্য হলেও একমাত্র নয়। ভ্রমণ এবং অভিযান প্রিয় পোলোদের উদ্দেশ্য ছিল যতটা সম্ভব এশিয়া এবং আসে পাশের এলাকা গুলো ঘুরে দেখা এবং সেই সাথে কিছু বাণিজ্যও করা। চীন ভ্রমণের উদ্দেশ্যে প্রথমে পোলোরা নৌপথে অ্যাক্রি এ যান। এরপর উটের পিঠে করে হরমুজ প্রণালি পর্যন্ত পৌছায়। পোলোদের ইচ্ছা ছিল সরাসরি চীন যাবার। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে তাঁরা যে জাহাজগুলো পায় সেগুলা সমুদ্র যাত্রার উপযোগী ছিল না। তাই তাঁরা বাধ্য হয়ে সড়ক পথই বেছে নেয়। তাঁরা বিখ্যাত সড়ক সিল্ক রোড ধরে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ কষ্টকর পথ অতিক্রম করে অবশেষে তাঁরা সাংডুতে পৌঁছান। এখানেই ছিল কুবলাই খানের গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ। এখানে পৌছাতে পোলোদের বিস্তর ঝামেলা পোহাতে হয়। যেমন একবার পোলোরা এক দল ব্যবসায়ীদের সাথে যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে একদল ডাকাত তাদের আক্রমণ করে বসে। ডাকাতরা অদ্ভুত এক উপায়ে ধূলিঝড়কে আড়াল হিসেবে ব্যাবহার করে আক্রমণ করে। তারা অনেক ব্যবসায়ীকে মেরে ফেলে এবং অনেককে বন্দী করে। পোলোরা সেযাত্রা কোনোমতে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে বাচে।

মার্কো পোলো নিজে চারটি ভাষায় কথা বলতে পারতেন। দীর্ঘদিনের ভ্রমণের ফলে বিস্তর অভিজ্ঞতাও অর্জন করায় তাঁরা চীনা রাজদরবারে যথেষ্ট সম্মানিত এবং সমাদৃত হয়েছিলেন।

অবশেষে ভেনিস থেকে রওনা হবার সাড়ে তিন বছর পর পোলোরা কুবলাই খানের প্রাসাদ। তাদের পৌঁছানোর সঠিক সময় নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। ঐতিহাসিকদের মতে ১২৭১ থেকে ১২৭৫ এর মধ্যে যেকোনো সময় পোলোরা ইউওান রাজদরবারে পৌঁছান এবং পবিত্র ক্রিজম তেল এবং পোপদের চিঠিগুলো রাজদরবারে হস্তান্তর করেন। এরপর তারা বেশ লম্বা সময় চীনে অবস্থান করেন।মার্কোপোলো নিজে চারটি ভাষায় কথা বলতে পারতেন।মার্কোএবং তাঁর সফর সঙ্গীরা দীর্ঘদিনের ভ্রমণের ফলে বিস্তর অভিজ্ঞতাও অর্জন করে ফেলেছিলেন। তাই তাঁরা চীনা রাজদরবারে যথেষ্ট সম্মানিত এবং সমাদৃত ছিল। কেউ কেউ মনে করেনমার্কোপোলোকে উচ্চ পদেও বহাল করা হয়েছিল। যাইহোক, তাঁরা চীনের বেশিরভাগ অংশই ঘুরে দেখেন। বিশেষ করে দক্ষিণ এবং পূর্ব চীন ও বার্মার অনেক বর্ণনা পাওয়া যায় তাঁর লেখায়। চতুর সম্রাট কুবলাই খান ভাবলেন যে পোলোদের এই অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগানো যেতে পারে। তাই তিনি পোলোদের চীন ত্যাগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করলেন। কুবলাই খানের বয়স হয়ে গিয়েছিল। পোলোরা ভাবলেন যে যদি কুবলাই খান মারা যান, তাহলে তাঁর বিপক্ষের লোকজন পোলোদের জন্যও সমস্যা হয়েও দাড়াতে পারে। পোলোদের রাজদরবারের জনপ্রিয়তা স্বাভাবিকভাবেই অনেকের ঈর্ষার কারণ হতেই পারে। এতে তাঁরা বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। অবশেষে ভাগ্যদেবী সুপ্রসন্ন হয় ১২৯২ সালে। সে বছর কুবলাই খানের জ্ঞাতি ভাই, পারস্যের অধিপতি বিবাহের পাত্রী খোজার জন্যও একদল সভাসদ প্রেরণ করেন চীনে। তারা পোলোদের অনূর্ধ্ব করেন যেন তারা ফিরতি পথে সভাসদদের দলটি কে সঙ্গ দেয়। অবশেষে পোলোরা চীন ত্যাগ করার একটা চমৎকার সুযোগ পেয়ে যায় এবং পারস্য যাবার জন্যে এক বাক্যে রাজী হয়ে যায়। সেই বছরেই দক্ষিণ চীনের জাইতুন নামক নগর থেকে জাহাজযোগে পোলোদের পারস্য অভিমুখে যাত্রা শুরু হয়।

পারস্য পথের দুই বছরের সুদীর্ঘ যাত্রায় প্রতিকুল পরিবেশ আর অসুস্থতার কারণে ছয়শত যাত্রীর পাঁচশত বিরাশি জনই মৃত্যুবরণ করেন।

যাত্রার জন্যও ব্যবহার করা হয় চীনের ঐতিহ্যবাহী জলযান যার নাম জাঙ্ক। প্রথমে কনভয়টি জাইতুন থেকে সিঙ্গাপুর পৌছায়। এর পর তাঁরা উত্তর দিকে যাত্রা শুরু করেন এবং সুমাত্রা (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া) পৌঁছান। এরপর তাঁরা পশ্চিমে যাত্রা করেন এবং জাফনার বিখ্যাত পয়েন্ট পেদ্র তে পৌঁছান। সেখান থেকে তামিলাক্কামের পান্দায়ান বন্দর। এভাবে বিভিন্ন দেশ ঘুরে ঘুরে অবশেষে আরব সাগর পার হয়ে হরমুজ প্রণালীতে পৌঁছান। দুই বছরের সুদীর্ঘ যাত্রাটি মোটেও সুখকর কিছু ছিল না। প্রতিকুল পরিবেশ আর অসুস্থতার কারণে ছয়শত যাত্রীর পাঁচশত বিরাশি জনই মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘ ভ্রমণ আর অভিজ্ঞতার কারণে পোলোরা শারীরিক ও মানসিক ভাবে অন্যদের চাইতে বেশ শক্ত সামর্থ্য ছিলেন। তাই এযাত্রাও তাঁরা প্রাণে বেঁচে যান। হরমুজ প্রণালীতে অবতরণের পর পোলোরা বরযাত্রীদের কাছ থেকে বিদায় নেন এবং স্থলপথে ভ্রমণ করে কৃষ্ণ সাগরের নিকটবর্তী ত্রেবিজন্দ বন্দরে পৌঁছান। অবশেষে ১২৭১ সালে ভেনিস ত্যাগ করার চব্বিশ বছর পর পোলোরা স্বভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন ১২৯৫ সালে। ততদিনে তাদের ২৪,০০০ কিলোমিটারেরও বেশী ভ্রমণ করা হয়ে গেছে। দেশে ফিরে তাঁরা অবাক হয়ে দেখেন যে ভেনিসের সাথে জেনোয়ার তুমুল যুদ্ধ চলছে। কিছু বুঝে উঠার আগেই তাঁরা বন্দী হন জেনোয়ার সৈনিকদের হাতে। এরপর তাদের কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। সম্ভবতমার্কোপোলোর বাবা এবং চাচার বন্দীদশাতেই মৃত্যু হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায়মার্কোরসাথে দেখা হয় পিসার বিখ্যাত লেখক রুস্তিচেলোর সাথে। তাঁকে তিনি তাঁর ভ্রমণ কাহিনী বর্ণনা করেন। রুস্তিচেলো সাথে সাথে সেগুলো লিপিবদ্ধ করতে থাকেন।মার্কোপোলো চীনে থাকার অভিজ্ঞতা অনেক বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করেন। কুবলাই খান ও তাঁর প্রাসাদের বর্ণনা ছাড়াওমার্কোতাঁর লেখায় এমন সব জিনিস পত্রের বর্ণনা দেন যা ছিল তখনকার ইউরোপীয়দের কাছে একদমই অজানা। যেমন কাগজের টাকা, কয়লা, ডাক ব্যবস্থা এবং চশমার মত বিষয়গুলোর সাথে ইউরোপের কেউই পরিচিত ছিলেন না। এভাবে সৃষ্টি হয়মার্কোপোলোর বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনীর পাণ্ডুলিপি।

শেষ যাত্রা

১২৯৯ সালে ভেনিস ও জেনোয়ার মধ্যে শান্তি চুক্তি হয় এবংমার্কোপোলো কে মুক্তি দেয়া হয়। ভ্রমণ বাণিজ্যও থেকে সংগৃহীত অর্থ ও অন্যান্য মূল্যবান দ্রব্যাদি বিক্রয় করে তিনি বেশ ধনী হয়ে যান। এরপর আর তিনি কখনই ভেনিস ছেড়ে কোথাও যাননি। ১৩০০ সালে ডোনাটা ব্যাডর কে বিয়ে করে সংসারী হন মার্কও। তাঁর তিনজন সন্তান জন্মগ্রহণ করে। ১৩২৪ সালে ৭০ বছর বয়সেমার্কোপোলো মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে ভেনিসের স্যান লরেনজো গির্জার নিকট সমাহিত করা হয়।মার্কোপোলো অনেক বিখ্যাত একজন পর্যটক। তাঁর পূর্বে এবং পরেও অনেক পর্যটক তাঁর মত কিংবা তাঁর চাইতেও বেশী ভ্রমণ করেছেন। কিন্তু কিছ ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অন্যদের চাইতে অনেক বেশী।


ইবনে বতুতা – ইতিহাস ও বিশ্বভ্রমণ

ইবনে বতুতা ছিলেন প্রধানত একজন মরক্কান পর্যটক। অত্যন্ত মেধাবী এই আরব পাশাপাশি ছিলেন একজন ইসলামী চিন্তাবিদ, বিচারক এবং ভূতত্ত্ববিদ। তিনি তাঞ্জিয়ের এর এক বিখ্যাত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর শৈশবকালের সব ঘটনা তার ভ্রমণ পঞ্জিতে লিপিবদ্ধ করে যান। এখান থেকেই আমরা পরবর্তীতে তাঁর শৈশব সম্পর্কে জানতে পারি। তিনি সুন্নি মালিকি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৩২৪ সালে তিনি হজের উদ্দেশে মক্কা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। মূলত এখান থেকেই তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণ শুরু হয়। তিনি উত্তর আফ্রিকার উপকূল ধরে তাঁর যাত্রা শুরু করেন এবং পথিমধ্যে অনেক জায়গায় বিরতি নেন। তিনি আবদ-আল-ওয়াদিদ এবং হাফসিদ নামক রাজ্য গুলো ভ্রমণ করেন। এরপর তলেমসেন, বেজাইজা এবং তিউনিসিয়া ভ্রমণ করেন। মক্কা পৌছাতে তাঁর ১৬ মাস সময় লেগে যায়।যদিও তিনি একাকী ভ্রমণে বের হয়েছিলেন, তারপরও তিনি সব সময় কোন না কোন কাফেলার সাথে চলাফেরা করতেন। একাকী চলাফেরা করলে দস্যুদের কবলে পরার সম্ভাবনা ছিল। ১৩২৬ সালের বসন্তকালে ইবনে বতুতা মিসরের বিখ্যাত শহর আলেক্সান্দ্রিয়া তে পৌঁছান। তখন বাহ্রি মামলুক শাসনামল চলমান ছিল। এখানে পৌছাতে তাকে ২০০০ মাইল পথ অতিক্রম করতে হয়। এখানে তিনি কয়েক সপ্তাহ অবস্থান করেন। সেহান থেকে তিনি কায়রো গমন করেন। সেখানে একমাস থাকেন।

ইবনে বতুতা: 

এর পর কায়রো থেকে হেব্রন, জেরুজালেম এবং বেথেলহেম হয়ে দামেস্ক ভ্রমণ করেন। দামেস্কে তিনি পুরো রমজান মাস অতিবাহিত করেন। এর পর তিনি একটি কাফেলায় যুক্ত হন এবং ৮০০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে মদিনায় গিয়ে মহানবী (সা:) এর রউজা মুবারক দেখতে যান। মক্কা থেকে তিনি ইরাকগামী একটি কাফেলার সাথে যুক্ত হন এবং যাত্রা শুরু করেন। এরপর বাগদাদ অভিমুখে না গিয়ে পারস্যের দিকে যাত্রা করেন। তিনি ওয়াসিত নগর ভ্রমণ করেন। এরপর টাইগ্রিস নদীর পার ধরে প্রসিদ্ধ বসরায় পৌঁছান।১৩৩১ সালেরর দিকে ইবনে বতুতা সোমালিয়ার বিখ্যাত শহর মাগাদিসু তে অবস্থান করছিলেন। এরপর তিনি এশিয়া অভিমুখে যাত্রার পরিকল্পনা করেন। ১৩৩২ সালে তিনি কনস্তানটিনোপল পৌঁছান। তুরস্কের বেশ কিছু এলাকা ভ্রমণের পর আফগানিস্তান হয়ে ১৩৩৩ সালে তিনি দিল্লি পৌঁছান সেখানে সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের সাথে দেখা করেন। সুলতান তাঁকে কাজী পদে নিযুক্ত করেন। তিনি প্রায় ছয় বছর সেখানে কাজ করেন।এরপর তিনি মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ করেন। ১৩৪৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছান। হজরত শাহ জালালে (রহঃ) সাহেবের সাথে দেখা করার ইচ্ছায় এর পর তিনি সিলেট যাত্রা করেন। ১ মাস পর তিনি সিলেট পৌঁছান এবং হজরত শাহ জালাল (রহঃ) এর সাথে দেখা করেন। এর পর তিনি জাহাজ যোগে সোয়াহিলি উপকূল এবং মম্বাসা দ্বিপ ভ্রমণ করেন। ১৩৪৫ শেষের এর দিকে তিনি চিনের কুওানঝু প্রদেশে পৌঁছান। সেখানে স্থানীয় মুসলমানরা তাকে সাদর সম্ভাষণ জানান। ১৩৪৬ সালে তিনি পুনরায় মক্কার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। অবশেষে ১৩৫৪ সালে জন্মভূমি মরক্কোতে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর তিনি তাঁর ভ্রমণ কাহিনী লেখা শুরু করেন।


চট্টগ্রাম-বরিশাল রুট ৯ বছর পর যাত্রী পরিবহন শুরু

নবনির্মিত এমভি তাজউদ্দিন জাহাজে করে পরীক্ষামূলক চালু হচ্ছে চট্টগ্রাম থেকে বরিশাল রুটে নৌ-চলাচল। গতকাল কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট এলাকা থেকে তোলা।

দীর্ঘ ৯ বছর পর চট্টগ্রাম-বরিশাল রুটে আবারও চালু হচ্ছে নৌ চলাচল। আজ বৃহস্পতিবার ট্রায়াল রানে (পরীক্ষামূলক) বরিশাল যাচ্ছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডাব্লিউটিসি) নবনির্মিত জাহাজ এমভি তাজউদ্দিন। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ৯ ডিসেম্বর থেকে নিয়মিত শুরু হবে এই রুটে যাত্রী পরিবহন।

বিআইডাব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, এ পথে চলাচলের জন্য এরই মধ্যে দুটি জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম-হাতিয়া রুটে চলাচলকারী এমভি তাজউদ্দিন এবং সদ্য সংস্কার শেষে ডকইয়ার্ড থেকে আসা এমভি বারো আউলিয়া এ পথে নিয়মিত চলাচল করবে। এর আগে ২০১২ সালে এ পথে চলাচলকারী জাহাজগুলো জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নৌ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। আবারও এ রুট চালু হলে চট্টগ্রামে বসবাসকারী ভোলা ও বরিশালের যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটা কমবে।

ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেল ঢাকার দেড় শ বছরের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ

ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেল ঢাকার দেড় শ বছরের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ

জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা বা ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে প্রাচীন এ মসজিদ অবস্থিত।

গত বুধবার (১ ডিসেম্বর) ইউনেস্কোর এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অফিস থেকে অনলাইনে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ফিজি থেকে শুরু করে কাজাখাস্তান পর্যন্ত এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের শ্রেষ্ঠ কাজগুলোকে প্রতিবছর স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। এ পুরস্কারের নাম দেয় হয়েছে ‘এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাওয়ার্ডস ফর কালচারাল হেরিটেজ কনসারভেশন’।

২০২১ সালে ছয়টি দেশের নয়টি স্থাপনাকে এ স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি পেয়েছে কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থাপনা এ বছর ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে।

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর ইউনিয়নে এই মসজিদ অবস্থিত। ১৮৬৮ সালে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। তখনকার জনসংখ্যার বিবেচনায় এটি ছোট আকারে নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর মসজিদটি একাধিকবার সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। কালের পরিক্রমায় মসজিদের অবকাঠামো ক্ষয়িষ্ণু হয়ে যাচ্ছিল। কয়েক বছর আগে মসজিদটিকে সংস্কার করে পুরনো রূপ দেয়ার উদ্যোগ নেন সেখানকার সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ এ সংস্কার কাজের নেতৃত্ব দেন। ২০১৮ সালে এর সংস্কার কাজ শেষ হয়। পুরনো মসজিদের পাশেই নির্মাণ করা হয় নতুন আরেকটি মসজিদ। পুরনো মসজিদটি এখন লাইব্রেরি এবং মক্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাবার জন্য তিনি আবেদন করেন।

ইউনেস্কো এক বিবৃতিতে জানায়, এসব স্থাপনার মাধ্যমে ঐতিহ্যের যে বৈচিত্র্য ধরে রাখা হয়েছে সেটি সত্যিই প্রশংসার বিষয়। যেসব স্থাপনা পুরস্কার পেয়েছে সেগুলোতে টেকসই উন্নয়নের নানা দিক রয়েছে। পুরনো স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ ঠিকমতো হয়েছে কি না সেটি বিশ্লেষণ করে দেখে ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞ কমিটি। সংস্কারের মাধ্যমে পুরনো রূপ দেয়া হয়েছে দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদকে।

মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোক্তা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, দেড়শ বছর আগে এই মসজিদটি নির্মাণের সঙ্গে আমার পূর্বপুরুষদের ভূমিকা ছিল। ১৮৬৮-তে এর গোড়াপত্তন। ১৯৬৮-তে আমার আব্বা (প্রয়াত অধ্যাপক  হামিদুর রহমান) তৈরি করেন মসজিদের মিনার। বংশ পরম্পরায় আমি এর দায়িত্ব নিই। স্থানীয় জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মসজিদ সংস্কারের প্রয়োজন পড়ে। আমাদের লক্ষ্য ছিল, পুরনোকে সাথে নিয়ে নতুনের কথা বলা। এরপর আমাদের পথ চলায় যুক্ত হলেন স্থপতি আবু সাঈদ।

স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ জানান, পুরনো স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি এবং বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগকে উৎসাহ দেয় ইউনেস্কো। সেজন্য ২০০০ সাল থেকে এ পুরষ্কার চালু করেছে ইউনেস্কো। দোলেশ্বর হানাফিয়া মসজিদ ইউনেস্কোর মানদণ্ড পূরণ করতে পেরেছে। সাধারণত বাংলাদেশে পুরনো মসজিদ ভেঙ্গে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এক্ষেত্রে পুরনোটা রেখে নতুনটা তৈরি করা হয়েছে। এবং পুরনোটাকে একেবারে আদি অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালে বিশ্ব পর্যটনের রাজধানী সমরকন্দ শহর

২০২৩ সালে বিশ্ব পর্যটনের রাজধানী সমরকন্দ শহর
২০২৩ সালে বিশ্ব পর্যটনের রাজধানী সমরকন্দ শহর

২০২৩ সালের বিশ্ব পর্যটন রাজধানী হবে উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক সমরকন্দ শহর। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা (ইউএনডাব্লিওটিও)-এর ২৪তম সাধারণ অধিবেশনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার (৪ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে উজবেকিস্তানের পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে জানা যায়, জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা (ইউএনডাব্লিওটিও)-এর ২৫তম সাধারণ অধিবেশন আয়োজন করবে সমরকন্দ। উজবেকিস্তানে প্রথম বারের মতো এ ধরনের আয়োজন হতে যাওয়ায় দেশটির জন্য তা একটি ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’।

মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে উজবেকিস্তানের পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী আজিজ আবদুখাকিমভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, উজবেক সরকারের নীতি এবং দেশে পর্যটন বিকাশের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সংস্থার বৈঠক আয়োজনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

১০০ বছর বাঁচতে যে চারটি খাবার খেতে হবে

চারটি খাবার নিয়ম করে খেলে ১০০ পর্যন্ত সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব

দীর্ঘায়ু পাওয়ার ইচ্ছা বেশির ভাগ মানুষেরই থাকে। কিন্তু শুধু দীর্ঘায়ু পেলেই হল না, তার সঙ্গে চাই সুস্থ ভাবে বাঁচাও। সুস্থ ভাবে বাঁচার জন্য কী করবেন? প্রথমেই বাদ দিতে হবে ধূমপানের অভ্যাস। কমাতে হবে মদ্যপান। আর ভাল রাখতে হবে মন। মানসিক চাপও কমিয়ে দেয় আয়ু। মোটামুটি এই কয়টি বিষয় তো সকলের জানা। দীর্ঘায়ু পেতে এগুলোর সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসেও আনতে হবে বদল। অতিরিক্ত ভাজাভুজি, মিষ্টি এবং নোনতা খাবারও বাদ দিতে হবে। আর নিয়ম করে খেতে হবে কয়েকটি খাবার। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

কোন কোন খাবার বাড়িয়ে দিতে পারে আয়ু। এমন চারটি খাবার নিয়ম করে খেলে ১০০ পর্যন্ত সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব।

মধু: হৃদরোগ এবং ক্যানসারের আশঙ্কা অনেক খানি কমিয়ে দিতে পারে মধু। রোজ নিয়ম করে এক চামচ খাঁটি মধু খেলে এই অসুখগুলোর আশঙ্কা অনেক কমে যায়। স্তন, যকৃত এবং অন্ত্রের ক্যানসারের আশঙ্কা অনেক কমে মধু খেলে। দীর্ঘ দিন সুস্থ ভাবে বাঁচা সম্ভব এর প্রভাবে।

ছাগলের দুধ: ছাগলের দুধেও এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যেগুলো ক্যানসার প্রতিহত করতে সাহায্য করে। যে মহিলারা নিয়মিত ছাগলের দুধ খান, তাদের স্তনের ক্যানসারের আশঙ্কা অনেক কমে যায়। তবে কতটা পরিমাণে এই দুধ খাবেন, তা চিকিৎসকের থেকে জেনে নেওয়া উচিত।

বেদানা: দীর্ঘায়ু পাওয়ার বিষয়ে অনেক সাহায্য করতে পারে এই ফল। এর নানা ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু তার পাশাপাশি রয়েছে আরও অনেক গুণ। বেদানা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়। বেদানার কয়েকটি উপাদান পেশির ক্ষয়ের পরিমাণ অনেক কমিয়ে দিতে পারে। এ ছাড়াও বার্ধক্যজনিত নানা অসুখ, স্নায়ুর নানা সমস্যাও কমিয়ে দিতে পারে বেদানার বেশ কয়েকটি উপাদান। ফলে নিয়মিত একটি করে বেদানা খেলে বার্ধক্যের ছাপ কম পড়ে শরীরে।

কাঁচকলা: দীর্ঘায়ু পেতে নিয়মিত কাঁচকলা খান। এটিও দারুণ কাজের। রক্তচাপের কারণে অনেকেই হৃদরোগের মতো সমস্যায় আক্রান্ত হন। কাঁচকলা নিয়মিত খেলে এই সমস্যা কমে। কারণ এটির নানা উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এ ছাড়াও কিডনির ক্যানসার প্রতিহত করতে পারে কাঁচকলার কয়েকটি উপাদান।

শীতে ঠাণ্ডা পোশাক ব্যবহারে এই বিষয়গুলো মেনে চলুন

বাড়ছে শীত, উত্তুরে হাওয়া বইছে। আবার শীতের পোশাক বের করতে হবে। আলমারি কিংবা ড্রয়ারে বন্দী থাকা পোশাক নিয়ে অনেকেরই ব্যস্ত সময় কাটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ দিন বদ্ধ থাকার পর হুট করে শীতের পোশাক পরা উচিত নয়। কেননা তাতে অদৃশ্য জীবাণু ও ময়লা থাকতে পারে। তাই ভালোভাবে পরিষ্কার না করে সেগুলো পরা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। খবর সংবাদ প্রতিদিনের।

শীতের কাপড় কীভাবে পরিষ্কার রাখা যায়, সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা ‍কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। পরামর্শগুলো হলো-

১) উলের তৈরি পোশাক সোয়েটার বা মাফলার বাসায় ধোয়াই ভাল। এর জন্য টাকা খরচ করে লন্ড্রিতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাসায় এ কাপড়গুলো ধোয়ার সময় বিশেষ লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে উলের পোশাক ভালো থাকে। তবে ধোয়ার পর এমন জিনিস কড়া রোদে শুকাতে দেবেন না। তাতে রং নষ্ট হয়ে যায়।

২) অনেকেই লেদারের জ্যাকেট পরতে ভালবাসেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এর বাড়তি যত্ন নেয়া জরুরি। বছরের সবসময়ই এর খেয়াল রাখতে হয়। এমনিতে ঠান্ডা জায়গায় রাখবেন। মাঝে মধ্যে হালকা রোদে দিয়ে ব্রাশ করে নিতে পারেন।

৩) লেদারের বা অন্য জ্যাকেটের আরেকটি সমস্যা থাকে। জিপের সমস্যা। অনেকদিন আলমারি বা দেরাজে থাকার ফলে জিপের চেন জ্যাম হয়ে যায়। মোম বা তেল দিয়ে একটু ঘষে নিলে ঠিক হয়ে যায়।

৪) শীতের এই সময় লেপ, কম্বল ও কাঁথার কদর বেশি। এগুলোর বিশেষ খেয়াল রাখতে হয়। মোটা কম্বল, লেপ রোদে সপ্তাহে একবার রোদে দিয়ে নেবেন। চাইলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নিতে পারেন। কাঁথার ক্ষেত্রেও তা করবেন। লেপ, কম্বল ও কাঁথার কাভারগুলো সার্ফের পানিতে ধুয়ে নিবেন। তা কিছুক্ষণ রেখে দেবেন। তারপর কেঁচে নেবেন। এতে ময়লা তাড়াতাড়ি পরিষ্কার হয়। তবে হ্যাঁ, শীতের পোশাক ঘন ঘন ধোবেন না। এতে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।